মোস্তাফিজের ফাইফারে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে। সিরিজের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য অনুকূল ছিল না। প্রথম ওয়ানডেতে ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ দল ২২১ রানে অলআউট হয়ে ২৬ রানে পরাজিত হয়। ওই ম্যাচের ঠিক আগে ইনজুরির কারণে দলের গুরুত্বপূর্ণ পেসার মোস্তাফিজুর রহমান মাঠের বাইরে চলে যান, যা বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে বড় প্রভাব ফেলে।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মোস্তাফিজুর রহমানকে ছাড়াই দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে মাত্র ১৯৯ রানে অলআউট করে ৬ উইকেটের জয়ে সিরিজে ১-১ সমতা আনে স্বাগতিকরা। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই দলগত পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ ম্যাচটি নিয়ন্ত্রণে রাখে।

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রামে, যাকে কার্যত ‘অঘোষিত ফাইনাল’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। এই ম্যাচে দলে ফিরে আসেন মোস্তাফিজুর রহমান। তার প্রত্যাবর্তনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সফরকারী দল ৪৪.৫ ওভারে ২১০ রানে অলআউট হয়। ফলে ৫৫ রানের জয় পেয়ে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।

ম্যাচে মোস্তাফিজুর রহমান বল হাতে অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেন। তিনি ৯ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেন। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি ওয়ানডে ক্রিকেটে ষষ্ঠবারের মতো পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন। তার এই স্পেলই মূলত নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপকে বড় সংগ্রহ গড়তে বাধা দেয় এবং দ্রুত গুটিয়ে যেতে বাধ্য করে।

সিরিজের সারসংক্ষেপ

ম্যাচফলাফলগুরুত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স
১ম ওয়ানডেবাংলাদেশ ২৬ রানে পরাজিতবাংলাদেশ ২২১/১০ (২৪৮ রানের লক্ষ্য)
২য় ওয়ানডেবাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ীনিউজিল্যান্ড ১৯৯/১০
৩য় ওয়ানডেবাংলাদেশ ৫৫ রানে জয়ীমোস্তাফিজুর রহমান ৫ উইকেট (৯ ওভারে ৪৩ রান)

সিরিজজুড়ে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেলেও শেষ ম্যাচে বোলিং ইউনিটের নিয়ন্ত্রিত প্রদর্শনী দলকে জয় এনে দেয়। বিশেষ করে মোস্তাফিজুর রহমানের প্রত্যাবর্তন ও তার কার্যকর বোলিং স্পেল সিরিজ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Leave a Comment