বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অন্যতম অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। ৩৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর ফলে মুশফিক এখন শুধুমাত্র টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। এর আগে, ২০২২ সালে তিনি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন।
মুশফিকের আবেগঘন বার্তা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বার্তায় মুশফিক লিখেছেন,
“আমি আজ ওয়ানডে ফরম্যাট থেকে অবসর নিচ্ছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমার কাছে এটি অনেক সম্মানের। হয়তো বৈশ্বিক মঞ্চে আমাদের সাফল্য সীমিত ছিল, তবে আমি নিশ্চিত যে, যখনই দেশের জন্য মাঠে নেমেছি, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে ১০০ ভাগের বেশি উজাড় করে দিয়েছি।”
সম্প্রতি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশের ব্যর্থতার পর মুশফিক তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছিলেন। তিনি লিখেছেন,
“গত কয়েক সপ্তাহ আমার জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমি বুঝতে পেরেছি, এটাই আমার নিয়তি।”
অবসরের ঘোষণায় মুশফিক পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতও উদ্ধৃত করেছেন –
“ওয়া তুইজ্জু মান তাশা’ ওয়া তুযিল্লু মান তাশা’ – এবং তিনি যাকে ইচ্ছা সম্মান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা অপমানিত করেন।”
দীর্ঘ ১৯ বছরের গৌরবময় ক্যারিয়ার
২০০৬ সালে ওয়ানডে অভিষেকের পর ১৯ বছরের ক্যারিয়ারে মুশফিক খেলেছেন ২৭৪টি ওয়ানডে ম্যাচ। তার সংগ্রহ
- ৭৭৯৫ রান (বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তামিম ইকবালের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ),
- ৯টি সেঞ্চুরি ও ৪৯টি ফিফটি,
- ব্যাটিং গড় ৩৬.৪২।
তিনি ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক ছিলেন।
সম্প্রতি ফর্মহীনতা ও অবসর ভাবনা
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে ভালো সময় কাটছিল না মুশফিকের। গত বছরের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অপরাজিত ৭৩ রান করার পর টানা ৬ ইনিংসে ফিফটি করতে পারেননি। সর্বশেষ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তার পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক, যেখানে দুই ইনিংসে ০ ও ২ রানে আউট হন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর কাছ থেকে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হবে। এর মাঝেই আজ ওয়ানডে থেকে বিদায় নিলেন মুশফিকুর রহিম।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে মুশফিকের অবদান
মুশফিকুর রহিম শুধু একজন ব্যাটসম্যান বা উইকেটকিপারই নন, তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটের একটি অধ্যায়। তার সাহসী ব্যাটিং, দৃঢ় মানসিকতা এবং দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে অসামান্য ভূমিকা রেখেছে। টেস্ট ক্রিকেটে তিনি এখনও দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে থাকছেন।
বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা তাকে সর্বদা একজন সত্যিকারের লড়াকু ক্রিকেটার হিসেবে মনে রাখবে।
