ভারতের নারী ক্রিকেট দলের তারকা ব্যাটার স্মৃতি মান্ধানার আয়ের বড় অংশই আসে ক্রিকেট, বিজ্ঞাপন, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি ও ব্যক্তিগত ব্যবসা থেকে। বর্তমানে সক্রিয় নারী ক্রিকেটারদের মধ্যে তিনিই ভারতের সবচেয়ে ধনী খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত।
দীর্ঘ সময় ধরে তিনি মেয়েদের আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ তিন ব্যাটারের একজন। মাঠের পারফরম্যান্সে যেমন আলো ছড়িয়েছেন, তেমনি হয়ে উঠেছেন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের মুখপাত্র। তবে এক সময় তাঁর এক বড় আক্ষেপ ছিল—আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক যুগ পার করেও বিশ্বকাপের স্বাদ না পাওয়া।
সেই আক্ষেপ অবশেষে ঘুচেছে ২০২৫ সালে। মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। এর মধ্য দিয়ে মান্ধানার ক্যারিয়ার যেন পূর্ণতা পায়। বর্তমানে ২৯ বছর বয়সী এই তারকা ব্যাটার শিগগিরই বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছেন বলিউড নির্মাতা ও সংগীত পরিচালক পলাশ মুচ্ছলের সঙ্গে।
মান্ধানার সম্পদের পরিমাণ
ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি, ইকোনমিক টাইমস, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস এবং জি নিউজ-এর তথ্য অনুযায়ী, স্মৃতি মান্ধানার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩৪ কোটি রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৪৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
| বিষয় | বিবরণ / পরিমাণ |
|---|---|
| মোট সম্পদ | ৩৪ কোটি রুপি (বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক ৪৬.৭৩ কোটি) |
| বার্ষিক আয় (বিসিসিআই চুক্তি অনুযায়ী) | ৫০ লাখ রুপি |
| টেস্ট ম্যাচ ফি | ১৫ লাখ রুপি |
| ওয়ানডে ম্যাচ ফি | ৬ লাখ রুপি |
| টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ফি | ৩ লাখ রুপি |
| ডব্লুপিএল বেতন (আরসিবি) | ৩ কোটি ৪০ লাখ রুপি |
| ব্র্যান্ড চুক্তি মূল্য | প্রতি ব্র্যান্ডে ৭৫ লাখ–১.৫ কোটি রুপি |
| উল্লেখযোগ্য ব্র্যান্ড | হুন্দাই, হিরো মোটোকর্প, রেড বুল, নাইকি, মাস্টারকার্ড, বাটা, গার্নিয়ার ইত্যাদি |
| সম্পত্তি | সাংলি, মুম্বাই ও দিল্লিতে বাড়ি |
| ব্যক্তিগত গাড়ি | রেঞ্জ রোভার ইভোক (মূল্য ৭৩ লাখ রুপি) |
| ব্যক্তিগত ব্যবসা | এসএম ১৮ স্পোর্টস ক্যাফে |
বিলাসিতা ও ব্যক্তিগত জীবন
মান্ধানা ভারতের মহারাষ্ট্রের সাংলিতে নিজের বাড়িতে বসবাস করেন। তাঁর বাড়িতে ব্যক্তিগত জিম, হোম থিয়েটার, পাঠাগার ও সুন্দর বাগান রয়েছে। এছাড়া এসএম ১৮ স্পোর্টস ক্যাফে নামে একটি রেস্তোরাঁর মালিক তিনি।
যদিও বিলাসবহুল গাড়ির প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ নেই, তবুও তিনি পরিবারের সদস্যদের জন্য গাড়ি কিনেছেন—বাবার জন্য মারুতি সুজুকি সুইফট, ভাইয়ের জন্য হুন্দাই ক্রেটা। নিজে চালান রেঞ্জ রোভার ইভোক।
তাছাড়া ইউনিসেফ ইন্ডিয়ার শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। মাঠে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যবসা ও সামাজিক কাজেও সফল মান্ধানা এখন ভারতীয় নারী ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হয়ে উঠেছেন।
