বাংলাদেশ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে কূটনৈতিক সমন্বয় বৃদ্ধি

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রশাসন ও নীতিগত ইস্যুতে পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধির আলোচনা হয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালে দুই বোর্ডের মধ্যে গড়ে ওঠা ইতিবাচক যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় এবার এশিয়ান ও বৈশ্বিক ক্রিকেট কাঠামোর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যৌথ অবস্থান গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে পিসিবির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে বলা হয়, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি সম্প্রতি দুই দিনের জন্য ঢাকা সফর করেন। সফর শেষে তিনি ইতিবাচক বার্তা নিয়ে দেশে ফিরে যান। এই সফরকালে তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ক্রিকেট প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন ক্রিকেট প্রশাসনিক পর্যায়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বও ছিলেন বলে সূত্র দাবি করেছে।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ভবিষ্যৎ কাঠামো বিশেষ গুরুত্ব পায়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) কাঠামোতে সম্ভাব্য দুই-স্তরের ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব প্রতিহত করার বিষয়। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতে, এমন কাঠামো চালু হলে তুলনামূলকভাবে কম শক্তিশালী ও আর্থিকভাবে সীমিত সক্ষমতার ক্রিকেট বোর্ডগুলোর অংশগ্রহণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ আরও সংকুচিত হয়ে যেতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একমত হয়েছে যে, আইসিসির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নিজেদের অবস্থান যৌথভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের পর শুরু হতে যাওয়া নতুন আর্থিক চক্রে আইসিসির আয় বণ্টন কাঠামো আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে আরও আলোচনায় আসে ২০২৮–৩১ চক্রের ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম (এফটিপি) পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি। দুই বোর্ড মনে করছে, বর্তমান কাঠামোয় শীর্ষ কয়েকটি ক্রিকেট দেশ তুলনামূলকভাবে বেশি ম্যাচ ও সুযোগ পাচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলগুলো কম সুযোগ পাচ্ছে। এই ব্যবধান কমিয়ে একটি সমতা ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সূচি তৈরির বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে।

নিচে আলোচনার প্রধান বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়আলোচ্য অবস্থান
ডব্লিউটিসিতে কাঠামোগত পরিবর্তনদুই-স্তরের ব্যবস্থা প্রতিহত করার পক্ষে
আইসিসির নতুন আর্থিক চক্রআয় বণ্টনে ভারসাম্যের দাবি
২০২৮–৩১ এফটিপিসমতা ভিত্তিক সূচি পুনর্বিন্যাস
এসিসি ও আইসিসি ইস্যুপারস্পরিক সমর্থনের নীতি
অন্যান্য বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগসম্ভাব্য জোট সম্প্রসারণ

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের ভেতরে একটি সমন্বিত অবস্থান গড়ে তোলার লক্ষ্যে অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে সেই সব বোর্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে, যারা বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোয় নিজেদের স্বার্থ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না বলে মনে করে।

এছাড়া এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) এবং আইসিসির বিভিন্ন প্রশাসনিক ও নীতিগত বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, মহসিন নাকভি ও সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি ক্রিকেট প্রশাসনিক প্রতিনিধিরা ভবিষ্যতে অন্যান্য বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করে আইসিসি পর্যায়ে সমর্থন আদায়ের বিষয়ে কাজ করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসিসি ও আইসিসির যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান পরস্পরকে সমর্থন দেবে—এমন একটি নীতিগত সমঝোতাও হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি, ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এটিকে দুই বোর্ডের সম্পর্কের একটি নতুন প্রশাসনিক সমন্বয়ের ধাপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্রিকেট প্রশাসনের আন্তর্জাতিক কাঠামোর মধ্যে এই ধরনের সমন্বয় ভবিষ্যতে আইসিসির নীতি নির্ধারণ, টুর্নামেন্ট কাঠামো এবং রাজস্ব বণ্টন ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment