আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় বদলি খেলোয়াড় বা সাবস্টিটিউটস ।
বদলি খেলোয়াড় বা সাবস্টিটিউটস

২ নং নিয়ম
যদি কোন খেলোয়াড়, ব্যাটসম্যান অথবা ফিডার, খেলার সময় অসুস্থ ব৷ আহত হয় তাহলে বদলি একজন খেলোয়াড় তার ‘রানার’ হতে পারে ব্যাটিং করার সময় অথবা তার হয়ে ফিডিং করতে পারে। কিন্তু অন্য কোন কারণে যদি একজন বদলি-খেলোয়াড়ের প্রয়োজন হয়, তাহলে তা প্রতিপক্ষ দলের অধিনায়কের মতামত সাপেক্ষ ৷ কোন বদলি-খেলোয়াড়কে ব্যাট বা বল করতে দেওয়া হবে না। বদলি খেলোয়াড় গ্রহণের ব্যক্তিবিশেষ সম্পর্কে প্রতিপক্ষ দলের অধিনায়কের সম্মতির প্রয়োজন এবং প্রয়োজন বোধ করলে সেই অধিনায়ক বদলি-খেলোয়াড়ের কোন কোন স্থানে ফিডিং নিষেধ তা নির্দেশ করতে পারে ।
দ্রষ্টব্য
(ক) কোন খেলোয়াড়ের জন্যে আগে বদলি-খেলোয়াড় নেওয়া হয়ে থাকলেও খেলোয়াড়টি পরে ব্যাট এবং বল করতে পারবে ।
(খ) বদলি খেলোয়াড় চাওয়ার অধিকার তখনই থাকবে, যখন খেলার সময় কোন খেলোয়াড় খেলার পক্ষে অনুপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়। ইনিংস-এর সমস্ত সময়ের জন্যেও যদি কোন খেলোয়াড়ের জন্যে বদলি খেলোয়াড় ফিডিং করে থাকে, তাহ’লেও সেই খেলোয়াড় ব্যাট করতে পারবে।
(গ) আহত ব্যাটসম্যান আউট হবে, যদি তার রানার ৩৬, ৪০ ও ৪১ নং নিয়ম ভঙ্গ করে থাকে। স্ট্রাইকার হিসেবে তাকে সব আইনের বাধ্য হতে হবে ; সে পপিং ক্রিজের বাইরে এসে ‘আউট অফ হিজ গ্রাউণ্ড’ হলে ৪১ ও ৪২ নম্বর নিয়ম অনুযায়ী উইকেট-কিপারের দিকে আউট হতে পারে, অপর ব্যাটম্যান বা বদলি খেলোয়াড়ের উইকেট ভঙ্গ হওয়ার সময়ের অবস্থা ব্যতিরেকেই ; যখন স্ট্রাইকার নন তখন আহত ব্যাটম্যানকে খেলার বাইরে বলে ধরা হবে এবং তখন তাকে এমন স্থানে দাড়াতে হবে যাতে সে খেলার কার্যক্রমে বাধার সৃষ্টি করতে না পারে ।
সাধারণতঃ রানার মাঠে থাকলে আহত ব্যাটসম্যান স্কোয়ার-লেগ আম্পায়ারের পাশে দাড়িয়ে থাকে। খেলার মাঠে জয় পরাজয় যেমন স্বাভাবিক, তেমনি আউট হওয়া, না হওয়া নিয়ে দু’পক্ষের মতের মিল না হওয়াও স্বাভাবিক। আর মতের মিল না হলেই ৰাধে গণ্ডগোল। আসে বিশৃঙ্খলা। খেলার মাঠের চেহারা যায় পালটিয়ে ।

এই বিশৃঙ্খলাময় তিক্ত আবহাওয়ার হাত থেকে খেলাকে রক্ষা করার জন্যে প্রয়োজন হয় একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তির, যিনি ক্রিকেট খেলা সম্বন্ধে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল। ক্রিকেট খেলার সব কিছুই জানতে হয় তাকে। এই বিজ্ঞ নিরপেক্ষ ব্যক্তি আম্পায়ার নামে ক্রিকেট জগতে পরিচিত। খেলা পরিচালনার সমস্ত দায়িত্ব থাকে আম্পায়ারের উপর। তাই দু’দলকেই আম্পায়ারের কথা শুনতে হয়, মেনে চলতে হয় তাঁর প্রতিটি নির্দেশ। খেলার সমস্ত দায়িত্ব মাথায় নিয়ে আম্পায়াররা খেলা পরিচালনা করেন। আম্পায়ারদের কাজ যেমন দায়িত্বপূর্ণ তেমনি গুরুত্বপূর্ণও বটে। তাই আম্পায়ার ছাড়া ক্রিকেট খেলা অসম্ভব।
