ফিন অ্যালেন তান্ডবে প্রোটিয়াদের গুঁড়িয়ে ফাইনালে নিউজিল্যান্ড

ক্রিকেট বিশ্বের দুই চিরন্তন ‘অভাগা’ দল নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার সেমিফাইনাল ঘিরে উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে। কিন্তু কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেনে যা ঘটল, তাকে আক্ষরিক অর্থেই কিউই ওপেনার ফিন অ্যালেনের একচ্ছত্র তান্ডব বলা চলে। দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া মাঝারি লক্ষ্যমাত্রাকে রীতিমতো ছেলেখেলায় পরিণত করে ১২.৫ ওভারেই ৯ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে ব্ল্যাক ক্যাপসরা। এই বিধ্বংসী জয়ের ফলে ২০২১ সালের পর আবারও টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার গৌরব অর্জন করল নিউজিল্যান্ড।

ম্যাচের গতিপ্রকৃতি ও অ্যালেন ম্যাজিক

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণ আফ্রিকা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৭০ রান সংগ্রহ করে। ইডেনের উইকেটে এই রান লড়াই করার মতো মনে হলেও ফিন অ্যালেন সব সমীকরণ ওলটপালট করে দেন। ইনিংসের শুরু থেকেই তিনি ছিলেন মারমুখী। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারেই নিউজিল্যান্ড স্কোরবোর্ডে জমা করে ৮৪ রান, যা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একটি নতুন রেকর্ড।

ম্যাচের শেষ দিকে এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ তৈরি হয়েছিল। দলের জয়ের জন্য যখন মাত্র ১ রান প্রয়োজন, ফিন অ্যালেনের সেঞ্চুরির জন্য তখন দরকার ছিল ৪ রান। অদম্য অ্যালেন বাউন্ডারি মেরেই নিজের ব্যক্তিগত তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন। মাত্র ২৯ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে তিনি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম শতকের নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েন।


সেমিফাইনালের সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড ও পরিসংখ্যান

বিভাগদক্ষিণ আফ্রিকানিউজিল্যান্ড
মোট রান১৭০/৯ (২০ ওভার)১৭১/১ (১২.৫ ওভার)
সেরা ব্যাটারমার্কো ইয়ানসেন (৫৫*)ফিন অ্যালেন (১০৩*)
সেরা বোলারকাগিসো রাবাদা (১/২৮)ট্রেন্ট বোল্ট (৩/২৫)
পাওয়ারপ্লে রান৪২/২ (৬ ওভার)৮৪/০ (৬ ওভার)
ফলাফলনিউজিল্যান্ড ৯ উইকেটে জয়ী

দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াই ও ইয়ানসেনের কীর্তি

ম্যাচের প্রথমার্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়লে ত্রাতা হয়ে আসেন মার্কো ইয়ানসেন। পাওয়ারপ্লেতে ২ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৪২ রান করা প্রোটিয়ারা একপর্যায়ে ৭৭ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল। সেখান থেকে ক্রিস্টিয়ান স্টাবস (২৯) এবং ইয়ানসেন ষষ্ঠ উইকেটে ৪৭ বলে ৭৩ রানের রেকর্ড জুটি গড়েন। ইয়ানসেন মাত্র ৩০ বলে ৫৫ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেলেন, যা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ৭ বা তার নিচে ব্যাটিং করতে নেমে ফিফটি করার ইতিহাসের দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে ২০১০ সালে মাইক হাসি পাকিস্তানের বিপক্ষে এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন।

কিউইদের আগ্রাসন ও চূড়ান্ত লক্ষ্য

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে টিম সাইফার্ট (৩৩ বলে ৫৮) এবং ফিন অ্যালেনের উদ্বোধনী জুটিই প্রোটিয়াদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। সাইফার্ট আউট হওয়ার পর রাচিন রবীন্দ্রকে (১৩*) সাথে নিয়ে বাকি কাজটুকু অনায়াসেই শেষ করেন অ্যালেন। তার ইনিংসে ছিল চারের চেয়ে ছক্কার আধিক্য, যা ইডেনের গ্যালারিকে উৎসবে ভাসিয়ে দেয়। দক্ষিণ আফ্রিকার মতো টুর্নামেন্টের একমাত্র অপরাজিত দলকে এভাবে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়া নিউজিল্যান্ডের আত্মবিশ্বাসকে ফাইনালের আগে আকাশচুম্বী করে তুলল।

দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এটি আরও একটি হৃদয়বিদারক সেমিফাইনাল প্রস্থান হিসেবে ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে। অন্যদিকে, ফিন অ্যালেনের এই মহাকাব্যিক ইনিংস ক্রিকেট বিশ্বে দীর্ঘকাল আলোচিত হবে।

Leave a Comment