প্রথম দশে নাহিদের উজ্জ্বল সূচনা

১১ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল—মাত্র ৪০ দিনের ব্যবধানে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আবারও একদিনের আন্তর্জাতিক (ওয়ানডে) ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিলেন নাহিদ রানা। বাংলাদেশের এই ডানহাতি ফাস্ট বোলার তাঁর সংক্ষিপ্ত ওয়ানডে ক্যারিয়ারেই দ্রুত প্রভাব বিস্তার করেছেন। মাত্র ১০টি ম্যাচ খেলেই তিনি দুটি পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, যা নতুন কোনো বোলারের জন্য উল্লেখযোগ্য সূচনা।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ শেষে নাহিদ রানার মোট উইকেট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ১০ ম্যাচে তাঁর চেয়ে বেশি উইকেট সংগ্রহ করতে পেরেছেন মাত্র দুজন—মোস্তাফিজুর রহমান ও ইবাদত হোসেন। এই দুইজনই পেস বোলার, যা ইঙ্গিত দেয় যে নতুন বলে আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পেসারদের প্রভাব বাড়ছে।

নিচের টেবিলে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ১০ ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়া বোলারদের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো—

উইকেটবোলারগড়৪ উইকেট৫ উইকেট
২৮মোস্তাফিজুর রহমান১৩.৬৮
২০ইবাদত হোসেন১৯.৫০
১৯আরাফাত সানি১৯.৬৮
১৯তাসকিন আহমেদ২৪.০০
১৯নাহিদ রানা২৪.৫৭

এই তালিকায় দেখা যায়, ১৯ উইকেট নিয়ে নাহিদ রানা আরাফাত সানি ও তাসকিন আহমেদের সমপর্যায়ে অবস্থান করছেন। তবে পাঁচ উইকেট নেওয়ার দিক থেকে তিনি ইতোমধ্যেই দুবার এই কৃতিত্ব অর্জন করে আলাদা গুরুত্ব পেয়েছেন।

মোস্তাফিজুর রহমানের শুরুটা ছিল ব্যতিক্রমী। ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে মিরপুরে অভিষেক ম্যাচেই তিনি পাঁচ উইকেট নেন এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ছয় উইকেট শিকার করেন। অর্থাৎ প্রথম দুই ম্যাচেই তাঁর ঝুলিতে জমা হয় ১১ উইকেট। সেই সিরিজে তিন ম্যাচে মোট ১৩ উইকেট নিয়ে তিনি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথম ১০ ম্যাচে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডটি রয়েছে নিউজিল্যান্ডের মিচেল ম্যাকলেনাহানের দখলে। ২০১৩ সালে ক্যারিয়ারের প্রথম ১০ ম্যাচে তিনি নিয়েছিলেন ২৯ উইকেট। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক পেসার ওটিস গিবসনের, যিনি প্রথম ১০ ম্যাচে ২৮ উইকেট পেয়েছিলেন।

এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে, নাহিদ রানার সূচনা বাংলাদেশের পেস বোলিং ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য একটি অবস্থান তৈরি করেছে। তাঁর বর্তমান পারফরম্যান্স দেশের পেস আক্রমণের ধারাবাহিকতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

Leave a Comment