মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানকে পরাজিত করে ইতিহাস গড়ার পর এবার সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে সিলেটে নামছে বাংলাদেশ দল। ঢাকা টেস্টের সেই ঘাসযুক্ত পিচ এবং পেসারদের দাপুটে পারফরম্যান্স থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামকেও সবুজ গালিচায় সাজানো হয়েছে। ১৬ মে ২০২৬ থেকে শুরু হতে যাওয়া এই সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে পেসারদের গতি এবং বাউন্সকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছে স্বাগতিক দলের নির্বাচক মন্ডলী।
কিউরেটরের প্রস্তুতি ও পিচ পর্যবেক্ষণ
সিলেটের বাইশ গজে ঘাসের উপস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত স্পষ্ট। বিসিবির টার্ফ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান এবং অভিজ্ঞ অস্ট্রেলীয় কিউরেটর টমি হ্যামিং বর্তমানে সিলেটে অবস্থান করছেন। মিরপুর টেস্টের সফলতার পর তিনি সিলেটের পিচকেও গতি ও সুইং সহায়ক করে তুলতে কাজ করছেন। বৃহস্পতিবার পিচ পর্যবেক্ষণের সময় পাকিস্তান দলের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদকে কিউরেটরের সাথে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করতে দেখা গেছে। সফরকারী দলও ইতিমধ্যে আঁচ করতে পেরেছে যে, সিলেটের ঘাসযুক্ত পিচে তাদের কঠিন গতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের টেস্ট পরিসংখ্যান
সিলেটের এই মাঠে বাংলাদেশ দলের অতীত পরিসংখ্যান এবং বোলারদের সাফল্য নিচে সারণিবদ্ধ করা হলো:
| নির্দিষ্ট বিষয় | বিস্তারিত তথ্য ও পরিসংখ্যান |
| মোট অনুষ্ঠিত টেস্ট | ৫টি (বিগত সাত বছরে) |
| বাংলাদেশের জয় | ২টিতে (জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে) |
| সবচেয়ে সফল বোলার (স্পিন) | তাইজুল ইসলাম (৩১টি উইকেট) |
| দ্বিতীয় সফল বোলার (স্পিন) | মেহেদী হাসান মিরাজ (২২টি উইকেট) |
| পেসারদের মধ্যে সফল | নাহিদ রানা (৩ ম্যাচে ১১টি উইকেট) |
| সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ | ৫৮৭ রান (আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে, বাংলাদেশ) |
বোলারদের আত্মবিশ্বাস ও পিচের আচরণ
সিলেটের পিচ ঐতিহাসিকভাবে স্পোর্টিং উইকেটের বৈশিষ্ট্য বহন করে। যদিও বর্তমানে ঘাস রাখার কারণে পেসাররা বাড়তি সুবিধা পাবেন, তবে এই মাঠের রেকর্ড বলছে স্পিনাররাই এখানে বেশি সফল। তাইজুল ইসলাম এবং মেহেদী হাসান মিরাজ এই মাঠে যথাক্রমে ৩১ ও ২২টি উইকেট শিকার করেছেন। অন্যদিকে, বর্তমান দলের সবচেয়ে দ্রুতগতির বোলার নাহিদ রানা এখানে তিনটি টেস্ট খেলে ১১টি উইকেট নিয়ে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। তাসকিন আহমেদ এবং নাহিদ রানার গতি এবং বাউন্স পাকিস্তানের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
সফরকারী পাকিস্তান দলের প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য পরিবর্তন
সিরিজের প্রথম ম্যাচে পরাজিত হওয়ার পর পাকিস্তান দল সিলেটে জয় পেতে মরিয়া হয়ে আছে। দলের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান বাবর আজমকে নেটে দীর্ঘক্ষণ অনুশীলন করতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সৌদ শাকিলের পরিবর্তে তিনি এই ম্যাচে একাদশে ফিরবেন। এছাড়া পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের সমালোচনার মুখে অভিজ্ঞ স্পিনার সাজিদ খানকে এই ম্যাচে খেলানোর প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পিচে অতিরিক্ত ঘাস থাকলে পাকিস্তান দলকে তাদের বোলিং আক্রমণ সাজাতে হিমশিম খেতে হতে পারে, কারণ অতিরিক্ত স্পিনার খেলাতে গেলে একজন অলরাউন্ডারকে বাদ দিতে হবে।
বাংলাদেশ দলের কৌশল ও উদ্বোধনী জুটি
বাংলাদেশ দলের মধ্যক্রম এবং বোলিং বিভাগ বর্তমানে যথেষ্ট স্থিতিশীল থাকলেও উদ্বোধনী জুটি নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না। মিরপুর টেস্টের দুই ইনিংস মিলিয়ে সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয় মাত্র ৩৬ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। চোটের কারণে সাদমান ইসলাম এই ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ায় স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন জাকির হাসান। এখন দেখার বিষয় হলো, জাকির হাসানকে সরাসরি একাদশে ফিরিয়ে আনা হয় নাকি তরুণ তানজিদ হাসান তামিমের টেস্ট অভিষেক ঘটে। ঘরের মাঠে সিরিজ জয়ের এই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশ দল তাদের বোলিং শক্তির ওপরই বেশি আস্থা রাখছে।
সিলেটের মনোরম পরিবেশে সবুজের ছোঁয়া থাকা এই পিচে দুই দলের লড়াই শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে যায়, তা নির্ভর করবে টস এবং প্রথম দিনের আর্দ্রতা ব্যবহারের ওপর। বাংলাদেশ দল তাদের বোলিং ভারসাম্য বজায় রেখে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে।
