ক্রিকেট সিরিজের প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে পাঁচ উইকেটে পরাজিত করেছে পাকিস্তান। এই দুর্দান্ত জয়ের মাধ্যমে স্বাগতিক পাকিস্তান দল সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল। বোলার আরাফাত মিনহাসের অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্য এবং পরবর্তীতে ব্যাটার বাবর আজম ও গাজি ঘোরির দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে পাকিস্তান দল এই অনায়াস জয় তুলে নিতে সক্ষম হয়।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং বিপর্যয় ও আরাফাতের বোলিং বিক্রম
ম্যাচের শুরুতে টসে জয়লাভ করে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে অস্ট্রেলিয়া। শুরুতে তাদের সূচনা বেশ ইতিবাচক ছিল। প্রথম পাওয়ারপ্লে তথা প্রাথমিক বাধ্যতামূলক ওভারের মধ্যে ১ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ৫১ রান সংগ্রহ করে তারা। তবে এই ভালো শুরুর পর পাকিস্তান দলের বোলাররা দ্রুত খেলায় ফিরে আসে এবং অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনে ধস নামায়। ম্যাচের ১৬ ওভারের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া আরও ৩টি উইকেট হারিয়ে মারাত্মক বিপর্যয়ে পড়ে, তখন তাদের দলীয় রান ছিল ৪ উইকেটে মাত্র ৬৮।
এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন ব্যাটার ম্যাথিউ শর্ট। তিনি ৬৬টি বল মোকাবেলা করে ৫০ রানের একটি অত্যন্ত ধৈর্যশীল ইনিংস খেলেন। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন ম্যাট রেনশ, যিনি ৫২টি বল খেলে ৫২ রান সংগ্রহ করে ইনিংসের মাঝের ওভারগুলোতে রানের গতি সচল রাখেন। এই দুই ব্যাটারের সময়োপযোগী জুটির ওপর ভর করে ৩৩তম ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দলীয় সংগ্রহ ১৫০ রান পার হয়। তবে ইনিংসের শেষ দিকে পাকিস্তানের বোলার আরাফাত মিনহাস অস্ট্রেলিয়ার মধ্যম ও নিম্ন সারির ব্যাটিং লিয়নকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেন। তিনি তাঁর নির্ধারিত ১০ ওভার বোলিং করে মাত্র ৩২ রান ব্যয়ে মূল্যবান ৫টি উইকেট লুফে নেন। তাঁর এই বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে পড়ে ৪৪.১ ওভারে মাত্র ২০০ রানে অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।
প্রথম ইনিংসের সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও খেলোয়াড়দের অবদান নিচে একটি সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| প্রথম ইনিংসের বিবরণ (অস্ট্রেলিয়া) | অর্জিত রান/ওভার | প্রধান অবদানকারী খেলোয়াড় | ব্যক্তিগত অবদান |
| পাওয়ারপ্লের সংগ্রহ | ১ উইকেটে ৫১ রান | ম্যাথিউ শর্ট (ব্যাটার) | ৫০ রান (৬৬ বল) |
| ১৬ ওভারের সংগ্রহ | ৪ উইকেটে ৬৮ রান | ম্যাট রেনশ (ব্যাটার) | ৫২ রান (৫২ বল) |
| মোট দলীয় সংগ্রহ | ৪৪.১ ওভারে ২০০ রান | আরাফাত মিনহাস (বোলার) | ৫ উইকেট (৩২ রান, ১০ ওভার) |
পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং ও লক্ষ্য অর্জন
২০১ রানের জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান দল তাদের প্রথম পাওয়ারপ্লেতে ১ উইকেট হারিয়ে ৪১ রান সংগ্রহ করে। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ওঠার পর অভিজ্ঞ ব্যাটার বাবর আজম এবং গাজি ঘোরির মধ্যকার ১০০ রানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত পার্টনারশিপ বা জুটি পাকিস্তানকে ম্যাচের চালকের আসনে বসিয়ে দেয়। দলের জয়ে অবদান রাখার পথে বাবর আজম ৯৪টি বল খেলে ৬৯ রানের একটি চমৎকার ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে অপর ব্যাটার গাজি ঘোরি ৯২টি বলের মুখোমুখি হয়ে ৬৫ রান সংগ্রহ করেন।
অস্ট্রেলিয়ার বোলার নাথান এলিস নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে মাঝের ওভারে পাকিস্তানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিলেও তা স্বাগতিকদের ওপর কোনো প্রকার চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। পাকিস্তানের ব্যাটাররা অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় লক্ষ্য বিন্দুর দিকে এগিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ৪২.৩ ওভার ব্যাটিং করে ৫ উইকেট হারিয়ে ২০২ রান তুলে নিজেদের জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান। এই জয়ের ফলে সিরিজে শুভ সূচনা করল স্বাগতিক দেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসের সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও খেলোয়াড়দের অবদান নিচে একটি সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| দ্বিতীয় ইনিংসের বিবরণ (پاکستان) | অর্জিত রান/ওভার | প্রধান অবদানকারী খেলোয়াড় | ব্যক্তিগত অবদান |
| পাওয়ারপ্লের সংগ্রহ | ১ উইকেটে ৪১ রান | বাবর আজম (ব্যাটার) | ৬৯ রান (৯৪ বল) |
| দ্বিতীয় উইকেটের জুটি | ১০০ রান | গাজি ঘোরি (ব্যাটার) | ৬৫运行 (৯২ বল) |
| মোট দলীয় সংগ্রহ | ৪২.৩ ওভারে ২০২ রান | নাথান এলিস (বোলার) | গুরুত্বপূর্ণ উইকেট লাভ |
