নূরুলের ব্যাটিং তাণ্ডবে ধূমকেতুকে হারিয়ে ফাইনালে দুর্বার

মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ এক অবিশ্বাস্য ক্রিকেটীয় রোমাঞ্চের সাক্ষী থাকল দর্শকরা। হারের খাদের কিনার থেকে দলকে টেনে তুলে প্রায় অসম্ভব এক জয় ছিনিয়ে নিলেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার নূরুল হাসান সোহান। জাতীয় দলের তারকা সমৃদ্ধ ‘ধূমকেতু একাদশ’কে ২ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালের পথে এক পা বাড়িয়ে রাখল ‘দুর্বার’। মূলত নূরুলের বিধ্বংসী ইনিংসের সামনে ম্লান হয়ে গেছে লিটন দাসের লড়াই এবং মেহেদী হাসানের দুর্দান্ত বোলিং স্পেল।

নূরুলের বীরত্বগাথা ও ম্যাচের মোড়বদল

১৫৬ রানের মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এক পর্যায়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল দুর্বার। মাত্র ৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে যখন তাদের পরাজয় সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই ক্রিজে রুখে দাঁড়ান নূরুল হাসান। সাইফউদ্দিনের সাথে ৪১ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিলেও ১৮তম ওভারে সাইফউদ্দিন বিদায় নিলে ম্যাচ আবার ধূমকেতুর দিকে ঝুঁকে পড়ে। শেষ ২ ওভারে জয়ের জন্য সমীকরণ দাঁড়ায় ৩৬ রান। ১৯তম ওভারে জাতীয় দলের পেসার শরীফুল ইসলামকে লক্ষ্য করে তাণ্ডব চালান নূরুল। সেই ওভারে ৪টি বিশাল ছক্কাসহ তিনি একাই তোলেন ২৬ রান, যা ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। ৪৪ বলে ৭৬ রানের অপরাজিত ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ৬টি নান্দনিক ছক্কার মার।

ধূমকেতুর ইনিংস ও লিটনের লড়াই

এর আগে টসে জিতে ব্যাটিং করতে নেমে ধূমকেতু একাদশের ব্যাটাররা মিরপুরের মন্থর উইকেটে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন ওপেনার লিটন দাস, যা ৫টি চারের সাহায্যে ৩৭ বলে সাজানো ছিল। মিডল অর্ডারে মেহেদী হাসানের অপরাজিত ৩১ এবং সাইফ হাসানের ২৮ রানের ছোট ছোট অবদানে দল কোনোমতে দেড়শ পার করে ১৫৫ রানে পৌঁছায়। দুর্বারের বোলারদের মধ্যে হাসান মাহমুদ ও তানভীর ইসলাম নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

ম্যাচের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান ও গুরুত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স:

বিভাগখেলোয়াড় (দল)পরিসংখ্যান
সর্বোচ্চ রান (বিজয়ী দল)নূরুল হাসান (দুর্বার)৭৬* (৪৪ বল, ৬ ছক্কা)
সর্বোচ্চ রান (বিজিত দল)লিটন দাস (ধূমকেতু)৪৩ (৩৭ বল, ৫ চার)
সেরা বোলিং স্পেলমেহেদী হাসান (ধূমকেতু)৪/১১ (৪ ওভার)
টার্নিং পয়েন্ট১৯তম ওভারনূরুল হাসান কর্তৃক ২৬ রান গ্রহণ
ম্যাচের ফলাফলদুর্বার জয়ী২ উইকেটে জয়ী

মেহেদীর বিষাক্ত স্পেল বনাম নূরুলের অবিচলতা

ম্যাচটিতে ধূমকেতুর জয়ের নায়ক হতে পারতেন স্পিনার মেহেদী হাসান। ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে মাত্র ১১ রান খরচায় ৪টি উইকেট তুলে নিয়ে তিনি দুর্বারের টপ অর্ডারকে তছনছ করে দিয়েছিলেন। শুরুতে নাসুম আহমেদ ও মেহেদীর স্পিন ঘূর্ণিতে দুর্বার রীতিমতো ধুঁকছিল। তবে নূরুল হাসান সোহান একদিকে খুঁটি গেড়ে বসে অন্য প্রান্ত আগলে রাখেন। চাপের মুখে সাইফউদ্দিনের উইকেট হারানোর পর নূরুল একাই রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন, যার ফলে মেহেদীর সেই দুর্দান্ত বোলিং রেকর্ড শেষ পর্যন্ত ম্লান হয়ে যায়।

ফাইনালের সমীকরণ ও পরবর্তী গন্তব্য

এই জয়ের ফলে টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার দৌড়ে অনেকখানি এগিয়ে গেল দুর্বার। পরবর্তী ম্যাচে যদি আকবর আলীর নেতৃত্বাধীন ‘দুরন্ত’ বড় ব্যবধানে জয় না পায়, তবে ফাইনালে পুনরায় এই দুই দলের (দুর্বার ও ধূমকেতু) লড়াই দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। নূরুল হাসানের এই ইনিংসটি কেবল জয়ের জন্যই নয়, বরং চাপের মুখে কীভাবে স্নায়ু ধরে রেখে ম্যাচ শেষ করতে হয়, তার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে ঘরোয়া ক্রিকেটের আঙিনায়।

Leave a Comment