চট্টগ্রামে নিজ বাসভবনে ফেরার পথে ডিবি তথা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিচয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র নিন্দা ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বা কোয়াব। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ ও পারভেজ হোসেন ইমনসহ অন্যান্য সতীর্থরা এই ঘটনার কঠোর সমালোচনা করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ ও কোয়াবের বিবৃতি
গত বারো জুন রাতে সাভারে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ শেষে চট্টগ্রামের বাড়িতে ফেরার পথে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার হন নাঈম হাসান। চট্টগ্রামের লালখান বাজারের নিকটবর্তী স্থানে পৌঁছালে পুলিশ সদস্যরা তাঁর পথরোধ করে। এই বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বা কোয়াব একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে যে, শুরু থেকেই কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা নাঈমের সঙ্গে অত্যন্ত বৈরী ও আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। ক্রিকেটার নাঈম হাসান নিজের পরিচয় দিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরা তাঁর গলা চেপে ধরেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত বহু সাধারণ দর্শক পুলিশকে বারবার জানান যে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান। তবে সেই পরিচয়ের তোয়াক্কা না করে পুলিশ সদস্যরা পাইপ দিয়ে তাঁকে অনবরত পেটাতে থাকেন। এরপর তাঁকে জোরপূর্বক খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেও তাঁর সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করা হয়। পরবর্তীতে নাঈম হাসান নিজের পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে সাহায্যের জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ শুরু করলেই কেবল পুলিশ সদস্যরা তাঁর কাছ থেকে সরে যান। কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন ইতিমধ্যে ভুক্তভোগী ক্রিকেটার নাঈম হাসানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন এবং দেশের সকল ক্রিকেটার তাঁর পাশে আছেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। কোয়াব চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে এই শারীরিক নির্যাতনে জড়িত প্রত্যেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর অনুরোধ জানিয়েছে।
জাতীয় দলের সতীর্থদের ক্ষোভ ও বিচার দাবি
স্পিনার নাঈম হাসানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই নিষ্ঠুর আচরণের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন জাতীয় দলের অন্যান্য ক্রিকেটাররা। ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাতায় লিখেছেন যে, জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড় দেশের গৌরব ও সম্পদ। তাঁর সঙ্গে ডিবি পরিচয়ে এমন আচরণ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
জাতীয় দলের অন্যতম ব্যাটার লিটন দাস সতীর্থের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে লিখেছেন যে, নাঈম একজন অসাধারণ মানুষ এবং তাঁর সঙ্গে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। দেশের কোনো নাগরিকই এমন আচরণ প্রাপ্য নয়, বিশেষ করে একজন জাতীয় দলের ক্রিকেটার যিনি গর্বের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার আশা করেন।
অন্যতম অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনা পুরো দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অবমাননাকর। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি।
ঘটনার মূল বিবরণী ও সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র
ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রতিক্রিয়া নিচে টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| ঘটনার প্রধান বিবরণ | সুনির্দিষ্ট তথ্য ও ফ্যাক্ট |
| ভুক্তভোগী ক্রিকেটার | নাঈম হাসান (জাতীয় দলের অফ-স্পিনার) |
| ঘটনার স্থান ও সময় | লালখান বাজার, চট্টগ্রাম; ১২ জুন রাতে |
| অভিযুক্ত পক্ষ | ডিবি বা গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য |
| পরবর্তী থানা হেফাজত | খুলশী থানা, চট্টগ্রাম |
| বিবৃতি প্রদানকারী সংগঠন | বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) |
| কোয়াব সভাপতির নাম | মোহাম্মদ মিঠুন |
| প্রতিবাদকারী সতীর্থ ক্রিকেটার | লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ ও পারভেজ হোসেন ইমন |
| ঘটনার পূর্বে নাঈমের ম্যাচ | ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ (সাভার) |
| মূল দাবিসমূহ | ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিতকরণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি |
