রান আউট । ক্রিকেট খেলার আইন কানুন

ক্রিকেট খেলার উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো রান আউট। এটি সেই পরিস্থিতি, যখন ব্যাটসম্যানরা ক্রিজে থেকে দৌড়াচ্ছেন, আর ফিল্ডাররা বলের সঙ্গে প্রতিসাম্য বজায় রেখে উইকেট ভাঙার চেষ্টা করছেন। রান আউট শুধুমাত্র ব্যাটসম্যানের ত্রুটি নয়, এটি উইকেট-রক্ষক ও ফিল্ডারের কৌশল, চটপট প্রতিক্রিয়া এবং দলের সমন্বয়ের ফলাফলও বটে।

রান আউটের নিয়ম এবং প্রক্রিয়া বোঝা প্রতিটি ক্রিকেটপ্রেমী এবং খেলোয়াড়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সঠিক সময়ে উইকেট ভাঙা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সময় ম্যাচের গতিপথই বদলে দিতে পারে। এই আলোচনায় আমরা ব্যাখ্যা করব ৪১ নং নিয়ম অনুযায়ী রান আউটের শর্তাবলী, এর প্রয়োগ, উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ও ইতিহাস, যা নতুন ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের জন্য সমানভাবে শিক্ষণীয়।

রান আউট

 

রান আউট

 

৪১ নং নিয়ম

দু’জন ব্যাটসম্যানের যে কেউই রান আউট হবে, যদি খেলা চলার সময়, অর্থাৎ বলটি ডেড হবার আগে দৌড়াতে গিয়ে, কিংবা অন্য কোন কারণে নিজের ক্রীজের, অর্থাৎ পপিং ক্রীজের বাইরে থাকে; এবং অপর পক্ষ সেই সময়ই উইকেট ভেঙ্গে দেয়ে।

ব্যাটস- ম্যানদ্বয় যদি রান নেবার জন্যে নিজেদের ক্রস (অতিক্রম) করে থাকে তাহলে ভাঙ্গা উইকেটের দিকে আগত ব্যাটসম্যান আউট হবে ; আর ক্রস করে না থাকলে, যে ব্যাটসম্যান উইকেট ছেড়ে চলে এসেছে, অর্থাৎ যার দিককার উইকেট ভাঙ্গা হয়েছে, সেই আউট হবে। কিন্তু রান নেবার চেষ্টা না করলে ব্যাটসম্যান ৪২নং নিয়মাবলীর ঘটনায় কোন মতেই রান-আউট হবে না। নো-বলের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কার্যকরী।

 

রান আউট

 

দ্রষ্টব্য

বলটি যদি মারার পর অপর প্রান্তের উইকেটে আঘাত করে এবং কোন ফিল্ডসম্যান বলটি উইকেটে লাগার আগে না ছুঁয়ে থাকে, তাহলে দু’জন ব্যাটসম্যানের কেউই আউট হবে না।

অতিরিক্ত মতামত

নো-বলের বেলায় স্টাম্পড আউট করা যাবে না। উইকেট-রক্ষক অন্য কোন ফিল্ডসম্যানের ছোঁয়া ব্যতিরেকে, রান-আউটের জন্যে উইকেট ভেঙ্গে দিতে পারবে না ; যদি না ব্যাটসম্যান রান নেবার জন্যে ছুটতে আরম্ভ করে। যদি ব্যাটসম্যান নিজের ক্রীজে থাকে, কিন্তু অপর প্রান্তের ব্যাটসম্যান এই দিককার ব্যাটসম্যানের কাছে চলে আসে এবং তার অর্থাৎ অপর প্রান্তের উইকেট ভেঙ্গে ফেলা হয়, তাহলে ক্রীজ ছেড়ে আসা ব্যাটসম্যান রান-আউট হবে ।

রান-আউট হবার আবেদন জানাতে হলে, ব্যাটসম্যান যদি ৪১নং নিয়ম ভঙ্গ করে, তাহলেই একমাত্র রান-আউটের আবেদন জানানো যাবে । মাত্র কিছুদিন আগের একটা ঘটনা। ভারতের অন্ততম উইকেট-রক্ষক কুন্দরন উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়ে ব্যাটসম্যানকে আউট করার সুযোগ খুঁজছিলেন। বম্বের মাঠে ভারত বনাম ইংলও টেস্ট খেলা হচ্ছিলো। পুলার তখন ইংলণ্ডের একজন পরম নির্ভরযোগ্য ওপনিং ব্যাটসম্যান। সুন্দর ব্যাটিং করছিলেন তিনি। ধীরে ধীরে শত রানের দিকে এগিয়ে চলেছেন পুলার ৷ একটু আগে ৮০ রান লেখা হলো পুলারের নামের পাশে ।

পুলারের তখন ৮৩ রান হয়েছে। ভারতের অঞ্চতম শ্রেষ্ঠ অলরাউণ্ডার বোরদে বল করছেন। ফ্লাইটেড লেগ ব্রেক, আর গুগলি বলগুলো পুলারকে বড় বিভ্রান্ত করছে। ঠিক স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে তিনি খেলতে পারছেন না। হঠাৎ বোরদের একটা ফ্লাইটেড বলে পুলার খেলতে গেলেন এগিয়ে। কিন্তু বলটাকে আটকাতে পারলেন না। ঘুরপাক খেয়ে বলটা চলে গেলো কুন্দরনের হাতে। মুহূর্তের মধ্যে স্টাম্প ভেঙ্গে দিয়ে কুন্দরনের সঙ্গে ভারতীয় খেলোয়াড়রা চিৎকার করে উঠলো ‘হাউজ দ্যাট’। লেগ আম্পায়ারের আঙ্গুল মাথার উপর উঠলো ।

পুলারের সেঞ্চুরী করা আর হলো না। স্টাম্পড আউট হয়ে গিয়ে মাথা নীচু করে তিনি ফিরে এলেন প্যাভেলিয়নে। পৃথিবীতে সব থেকে দুঃখজনক স্টাম্পড আউট হয়েছেন সাসেক্স দলের পার্কস । ১৯৩৪ সালের কথা। সাসেক্স-এর সঙ্গে ল্যাঙ্কাশায়ারের খেলা হচ্ছে । জর্জ ডাকওয়ার্থ ছিলেন ল্যাঙ্কাশায়ার দলের উইকেট-রক্ষক।

 

উইকেট- রক্ষকের হাতে কটআউট হয়েছেন ভেবে পার্কস ক্রীজ ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন। আম্পায়ার তাকে আউট দেন নি। কিন্তু তখন দেরি হয়ে গেছে, আর পার্কসও উইকেট ছেড়ে অনেকখানি চলে এসেছেন। আম্পায়ার কট-আউট দিলেন না দেখে পার্কস উইকেটে ফিরতে চেষ্টা করলেন। কিন্তু বড় দেরি হয়ে গেছে তখন। ইতিমধ্যে ডাকওয়ার্থ পার্কসকে স্টাম্পড করে দিয়েছিল, আর- আম্পায়ারও আউট দিতে দ্বিধা করলেন না। স্টাম্পড-আউটের ইতিহাসে এই আউটটাই সব থেকে করুণ ।

Leave a Comment