আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় ব্যাট দিয়ে বল দু’বার আঘাত করা (হিট দি বল টোয়াইজ )।
ব্যাট দিয়ে বল দুবার আঘাত করা (হিট দি বল টোয়াইজ )
৩৭ নং নিয়ম
ব্যাটসম্যান বলে দু’বার আঘাত করার জন্যে আউট হবে—যদি বলটি থেমে যাবার পর ( যে কোন ভাবেই হোক ব্যাটে লেগে কিংবা ব্যাটসম্যানের শরীরে লেগে) ব্যাটসম্যান পুনরায় ইচ্ছে করে বলটি মারেন। কিন্তু উইকেট বাঁচানর জন্যে ব্যাটসম্যান ব্যাট দিয়ে কিংবা দেহের যে কোন অংশ, শুধু হাত বাদ দিয়ে, বলটি মারতে বা থামাতে পারেন। এই রকম অবস্থায় অর্থাৎ ব্যাট দিয়ে বলটি ছ’বার মারলে একমাত্র ‘ওভার থে1’ ছাড়া আর কোন রান হবে না ।
দ্রষ্টব্য
(১) দ্বিতীয়বার মারা হয়েছে ইচ্ছে করে কিংবা উইকেট বাঁচাবার জন্যে, তার বিচার একমাত্র আম্পায়ারই করবেন ।
(২) খেগার পর, অপর পক্ষের অনুরোধ ব্যতিরেকে যদি ব্যাট দিয়ে বল মেরে ফেরত দেন, তাহলেও এই নিয়ম কার্যকরী হবে।
(৩) এই ভাবে আউট হলে, ব্যাটসন্যানের পাশে স্কোর বোর্ডে “হিট দি বল টোয়াইঙ্গ’ লেখা হবে এবং এই আউট বোলারের কোন কৃতিত্ব নেই ।
(৪) ব্যাটসম্যান কোন ক্রমেই দ্বিতীয়বার বল মারতে সচেষ্ট হতেই পারবে না যার ফলে উইকেট রক্ষক বা ফিল্ডম্যানের ক্যাচ লোফার অসুবিধা বা বাধা হতে পারে ।
অতিরিক্ত মতামত
ব্যাটসম্যান কোন মতে কোন সময়ই ব্যাট দিয়ে মেরে বলটি বোলারের কাছে, উইকেট-কাঁপার কিংবা অপর কোন ফিল্ডসম্যানের কাছে ফেরত পাঠাবে না । তবে অপর পক্ষের অনুরোধে ব্যাটসম্যান বলটিকে ব্যাট দিয়ে আঘাত করে ফেরত পাঠাতে পারে ।
আউট হয়ে গেলেই ব্যাটসম্যানের কষ্ট হয়। কিন্তু হিট উইকেট বা প্লে-ড অন হয়ে আউট হলে জ্বালাটা আর একটু বাড়ে। কারণ দু’টি ক্ষেত্রেই ব্যাটসম্যান আর সামান্ত একটু সাবধান হলে হয়তো আউট হবার হাত থেকে বেঁচে যেতে পারতো । খেলতে গিয়ে উইকেট ভেঙ্গে ফেললেই ‘হিট উইকেট’ আউট। উইকেট যে কোন ভাবেই ভালুক না কেন ব্যাটসম্যান হিট উইকেট হবে, তা সে ব্যাট লেগে, ব্যাটসম্যানের দেহে লেগে কিংবা হাতের গ্লাভস বা রুমাল পড়েই হোক।

১৯৪৯ সালে নটিংহামশায়ার-এর সঙ্গে খেলা হচ্ছিল উরচেষ্টার দলের। উরচেষ্টার দলের ডন কেনিয়ন একটি বল পেয়ে কষে হুক করলেন। কিন্তু বল মারার সঙ্গে সঙ্গেই কেনিয়নের মাথা থেকে টুপি হঠাৎ খুলে গিয়ে পড়ল একেবারে উইকেটের উপর। উইকেটের মাথা থেকে বেল গেলো পড়ে। হিট উইকেট আউট হয়ে গেলেন উরচেষ্টার দলের খেলোয়াড় ডন কেনিয়ন । ‘হিট উইকেট’ সম্বন্ধে কিছু জানতে হলে কিংবা ধারণা পরিষ্কার করে নিতে হলে নীচে আলোচিত নিয়মটি ভালো করে পড়া দরকার।
