আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় খেলা, মাঠ ও সরঞ্জাম ।
খেলা, মাঠ ও সরঞ্জাম

ক্রিকেটে অংশগ্রহণকারী দু’টি দলের একটি ব্যাটিং ও অপরটি ফিল্ডিং করে থাকে। প্রথমে কোন দল ব্যাট করবে বা কোন দল ফিল্ডিং করবে তা নির্ধারন হবে কয়েন টচের মাধ্যমে। কয়েন টচে যে দল জিতবে সে দলের ক্যাপ্টেনই প্রথম সিদ্ধান্ত নেবে তাঁরা ব্যাট করবে নাকি ফিল্ডিং করবে। ব্যাটিং দলের পক্ষ থেকে মাঠে থাকে দুইজন ব্যাটসম্যান, বাকীরা মাঠের বাইরে অপেক্ষা করে। পরে পালাক্রমে তাঁরাও এসে ব্যাটিং করে। ফিল্ডিং দলের এগারজন খেলোয়াড়ই মাঠে উপস্থিত থাকে যার মধ্যে এক জন উইকেটকিপার যিনি দস্তানা বা গ্লাভস হাতে স্ট্রাইকার ব্যাটসম্যানের উইকেটের পিছনে অবস্থান করে।
৯ জন (ফিল্ডার) মাঠের বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়ায় এবং বাকী একজন খেলোয়াড় (বোলার) স্ট্রাইকার ব্যাটসম্যানের উদ্দেশ্যে বল নিক্ষেপ করে। সাধারণত নিক্ষেপকৃত বল মাটিতে একবার পড়ে লাফিয়ে সুইং করে বা সোজাভাবে ব্যাটসম্যানের কাছে যায়। ব্যাটসম্যান ব্যাট দিয়ে কৌশলে বলটিকে শট করে দূরে পাঠাবার চেষ্টা করে।
মাঠের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেওয়া ফিল্ডাররা চেষ্টা করে বলটিকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উইকেটে ফেরত পাঠাতে। আর ব্যাটসম্যান দু’জন বলটি ফেরত আসার আগে পরষ্পর স্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করে। একবার স্থান পরিবর্তন করতে পারলে তাদের দলের পক্ষে এক রান যোগ হবে। ব্যাটিং দলের উদ্দেশ্য হচ্ছে আউট না হয়ে যত বেশী ও যত দ্রুত সম্ভব রান করা। বোলিং দলের উদ্দেশ্য হচ্ছে ব্যাটিং দলের সব ব্যাটসম্যানদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আউট করে দেয়া এবং ব্যাটসম্যানরা যাতে সহজে রান তুলতে সেজন্য চেষ্টা করা। ব্যাটসম্যান বিভিন্নভাবে আউট হতে পারে।
১০ জন ব্যাটসম্যান আউট হয়ে গেলে বা সর্বোচ্চ ওভার পর্যন্ত খেলা হয়ে গেলে ব্যটিং দল ফিল্ডিং- এ যাবে এবং ফিল্ডিং দল ব্যাটিং-এ যাবে। অর্থাৎ পালাবদল হয়ে আবার খেলা হবে। তারপরে রানের তফাৎ বা উইকেট হিসাব করে জয়- পরাজয় নির্ধারিত হয়। উল্লেখ্য, ১০ জন ব্যাটসম্যান আউট হলেই অল আউট বলা হয়, কারণ অবশিষ্ট একজন ব্যাটসম্যান দিয়ে খেলা সম্ভব হয় না। ব্যাটিং করতে কমপক্ষে দুইজন ব্যাটসম্যান লাগে।
ক্রিকেট ঘাসযুক্ত মাঠে খেলা হয়। ক্রিকেট মাঠ একটি বিশাল বৃত্তাকার অথবা ডিম্বাকার ঘাসবহুল সমতল জমিনের উপর নির্মিত হয়। যদিও মাঠের আকারের বেলায় সুনির্দিষ্ট কোন নিয়ম নেই তবে এটির ব্যাস সাধারণত ৪৫০ ফুট (১৩৭ মি) থেকে ৫০০ ফুট (১৫০ মি) – এর মধ্যে হয়ে থাকে। অধিকাংশ মাঠেই মোটা দড়ি দিয়ে মাঠের পরিসীমা ঘেরা দেয়া থাকে যা সীমানা নামে পরিচিত। মাঠের ঠিক মাঝে ২২ গজের (১০ × ৬৬ ফুট বা ৩.০৫ × ২০.১২ মি) ঘাসবিহীন অংশ থাকে যাকে পিচ বলে। এটি বিশেষভাবে মাটিকে শক্ত করে নির্মাণ করা হয় যাতে বলের আঘাতে সহজে ক্ষয়প্রাপ্ত না হয়।
পিচের দুই প্রান্তে কাঠের তিনটি করে লম্বা লাঠি বা স্ট্যাম্প থাকে। তিনটি স্ট্যাম্পের উপর দুটি বেল স্ট্যাম্পগুলোকে সংযুক্ত করে। ক্রিকেটে স্ট্যাম্পে লেগে আউট হওয়ার ক্ষেত্রে যে কোনো একটি বেল ফেলা বাধ্যতামূলক। স্ট্যাম্প ও বেল সহযোগে এই কাঠের কাঠামোকে উইকেট বলে। ক্রিকেটর মূল খেলা ঘাসবিহীন চতুর্ভুজাকৃতির এই পিসেই হয়ে থাকে।
এই পিসকে মাঝখানে রেখে মাঠের কেন্দ্রীয় এলাকাকে ডিম্বাকার একটি বৃত্তে চিহ্নিত করা হয়। এটির ব্যাস প্রায় ৩০ গজ। পিচের যে প্রান্তে স্ট্রাইকার ব্যাটসম্যান দাঁড়ায় তাকে বলে ব্যাটিং প্রান্ত এবং অপর প্রান্তের নাম বোলিং প্রান্ত – যেখান থেকে বোলার দৌড়ে এসে বল করে।
দুটি উইকেটের সংযোগকারী দীর্ঘ কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে মাঠটি দুটি অংশে বিভক্ত হয়; তার মধ্যে যেদিকে ব্যাটসম্যান ব্যাট ধরেন সেদিকটিকে অফ সাইড এবং যে দিকে ব্যাটসম্যানের পা থাকে সেদিকটিকে বলে অন সাইড। অন্য ভাবে বলা যায় ডান-হাতি ব্যাটসম্যানের ডান দিক এবং বাম- হাতি ব্যাটসম্যানের বাম দিক হচ্ছে অফ সাইড এবং অন্যটি অন সাইড বা লেগ সাইড। পিচে যে রেখা আঁকা থাকে তাকে বলে ক্রিজ। ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন কিনা এবং বোলার বৈধ বল করেছেন কিনা যাচাইয়ের জন্য ক্রিজ ব্যবহৃত হয়। ফিল্ডিং- এর সুবিধার্থে মাঠের বিভিন্ন অংশেকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়।

ক্রিকেট খেলার আরো দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বস্তু হচ্ছে বিশেষভাবে কাঠ, প্লাষ্টিক, কাপড় ও চামড়া দিয়ে তৈরি একটি বল এবং কাঠের তৈরি ব্যাট। বল দুই রংয়ের হতে পারে: সাদা ও লাল। একদিনের খেলায় বিশেষ করে দিবা-রাত্রির খেলায় সাধারণত সাদা বল ব্যবহৃত হয়। ক্রিকেট বলের ওজন ১৫৫.৯ থেকে ১৬৩.০ গ্রাম এবং পরিধি ২১০ থেকে ২২৫ মি.মি.। বলের আকার নষ্ট হয়ে সাইজ পরিবর্তন হয়ে গেলে বল পরিবর্তন করা হয়। ব্যাটের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ৩৮ ইঞ্চি (৯৬৫ মি.মি.) এবং সর্বোচ্চ ওজন ১.৪ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।
