সম্প্রতি ব্যাট হাতে ফর্মে অনিয়ম এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স না থাকায় মাহমুদুল হাসান জয়কে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা আছে। এই খবর ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ ও কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
Table of Contents
Toggleবিসিবির চুক্তি থেকে বাদ পড়তে পারেন জয়
চুক্তি হ্রাসের পরিকল্পনা
২০২৩ সালের কেন্দ্রীয় চুক্তি মিনিমাম ওজনের পুনর্বিন্যাস হতে পারে। বর্তমান ২১ জনের চুক্তি থেকে খেলোয়াড় সংখ্যা ১৮ জনে কমানো হচ্ছে।
বিসিবি ইতিমধ্যেই ২০২২ সালের আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করেছে এবং সেরাদের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে। জাতীয় দল নির্বাচকরা প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেছেন এবং এর ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জয়ের ফর্ম ও জাতীয় দলের অবস্থা
২০২২ সালে জয় নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কিছু বড় ইনিংস খেললেও পরে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেননি। ভারতের বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াডেও তার জায়গা হয়নি।
নির্বাচক ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসান চান, জয় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ও বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সিরিজ খেলে আরও পরিণত হয়ে জাতীয় দলে ফেরাকালে সক্ষম হোক।
সুতরাং ফর্ম ও অভিজ্ঞতার অভাব জয়কে চুক্তি হারানোর ঝুঁকিতে ফেলেছে। এছাড়া শেখ মেহেদীও একই ঝুঁকিতে রয়েছেন।
অন্য সম্ভাব্য খেলোয়াড়দের অবস্থা
মোহাম্মদ নাঈম: তার চুক্তি ছিল টি২০ ক্যাটাগরিতে। গত বছর জাতীয় দলে নিয়মিত ছিলেন না, ফলে চুক্তি হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
সাদমান ইসলাম অনিক: টেস্টে অনিয়মিত পারফরম্যান্সের কারণে সাদমানের ফিরে আসার পথ সীমিত।
জাকির হাসান: টেস্ট ওপেনার হিসেবে অভিষেকের সময় রান করার ফলে, সাদমানের সুযোগ আরও কমে গেছে।
বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এবং ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস নির্বাচকদের সঙ্গে বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
কেন্দ্রীয় চুক্তির নীতিমালা ও সুযোগ
কেন্দ্রীয় চুক্তির খেলোয়াড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হচ্ছে:
বর্তমান পারফরম্যান্স
চলতি বছরে জাতীয় দলে খেলার সম্ভাবনা
ফর্মে থাকা বা ধারাবাহিকতা
যারা চুক্তি হারাবেন, তাদেরও জাতীয় চুক্তিতে সুযোগ থাকবে। এছাড়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্স প্রদর্শন করলে তারা বেতনভুক্ত হবার যোগ্য হবেন।
মাহমুদুল হাসান জয়সহ কয়েকজন ক্রিকেটারের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জিং সময়। ফর্ম ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার মাধ্যমে জাতীয় চুক্তি পুনরায় ফিরে পাওয়ার সুযোগ থাকলেও, পারফরম্যান্সে অনিয়ম থাকলে চুক্তি হারানো নিশ্চিত।
এবারের কেন্দ্রীয় চুক্তি পুনর্বিন্যাস বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন গঠন ও প্রতিযোগিতার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেওয়া হচ্ছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন অপেক্ষা করছেন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিন এবং দেখতে চাইছেন, ফর্মে অনিয়ম থাকা খেলোয়াড়রা নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে পারবেন কি না।