দীর্ঘ সময় পর শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বা ওয়ানডে ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম খেলায় টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই ওপেনার সাইফ হাসানের উইকেট হারালেও বাংলাদেশ একটি দুর্দান্ত ও আক্রমণাত্মক সূচনা করেছে। ইনিংসের শুরুর দিকে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দ্রুত বিদায় নিতে পারতেন, তবে ফিল্ডারের ব্যর্থতায় তিনি নতুন জীবন পান। প্রাথমিক সেই ধাক্কা সামলে তামিম ইকবাল ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে ভর করে বাংলাদেশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে। প্রথম পাওয়ার প্লে তথা শুরুর ১০ ওভার শেষে ১ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৬২ রান।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ও একাদশ বিন্যাস
২০১১ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া কোনো দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে একে অপরের মুখোমুখি হলো। ক্রিকেট ইতিহাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই ম্যাচের আগে দুই দল ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বমোট ২২ বার পরস্পরের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। এই ২২টি ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ দল মাত্র একটি ম্যাচে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দলের জন্য এই সিরিজটি অত্যন্ত প্রতীক্ষিত এবং মর্যাদাপূর্ণ। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশ দল তাদের একাদশ সাজিয়েছে ভারসাম্যপূর্ণভাবে, যেখানে তিনজন পেসার, তিনজন স্পিনার, পাঁচজন নিয়মিত ব্যাটার এবং দুইজন অলরাউন্ডারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ম্যাচের শুরু ও সাইফের দ্রুত বিদায়
আজ মঙ্গলবার সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে টস জিতে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন এবং বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান। বাংলাদেশের পক্ষে ইনিংসের সূচনা করতে নামেন তামিম ইকবাল ও সাইফ হাসান। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই বাংলাদেশ প্রথম উইকেটের পতন দেখে। অস্ট্রেলীয় বোলার নাথান এলিসের করা ওভারের প্রথম বলটি অফ স্টাম্পের বেশ বাইরে ছিল, যা থেকে চমৎকার একটি চার মেরে সাইফ হাসান নিজের ও দলের খাতা খোলেন। তবে পরের বলটি কিছুটা ভেতরের দিকে চলে আসে এবং সাইফ সেটি রক্ষণাত্মকভাবে খেলার চেষ্টা করলেও টাইমিং ঠিকঠাক করতে পারেননি। বলটি ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডার মার্নাস লাবুশেনের হাতে জমা হয়। আউট হওয়ার আগে সাইফ হাসান ৫টি বল খেলে ১টি চারের সাহায্যে ৫ রান সংগ্রহ করেন।
নিচে ছকের মাধ্যমে প্রথম ১০ ওভার বা পাওয়ার প্লে শেষে বাংলাদেশের ব্যাটিং পারফরম্যান্সের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| ব্যাটারের নাম | বর্তমান অবস্থা | বলের সংখ্যা | চারের সংখ্যা | সংগৃহীত রান |
| সাইফ হাসান | আউট (ক্যাচ: মার্নাস লাবুশেন, বোলার: নাথান এলিস) | ৫ | ১ | ৫ |
| তামিম ইকবাল | অপরাজিত | ২৫ | তথ্য নেই | ৩১ |
| নাজমুল হোসেন শান্ত | অপরাজিত | ৩০ | তথ্য নেই | ২৫ |
| সর্বমোট দলীয় সংগ্রহ | ১ উইকেটে (১০ ওভার শেষে) | ৬০ | তথ্য নেই | ৬২ |
শান্তর জীবন লাভ ও তামিমের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং
সাইফ হাসানের বিদায়ের পর তিন নম্বর অবস্থানে ক্রিজে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনিও বোলার নাথান এলিসের মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই চার মেরে নিজের ইনিংসের সূচনা করেন। তবে ঠিক তার পরের বলেই শান্ত রক্ষণাত্মক খেলতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন। সেখানে প্রথম উইকেটের ক্যাচ নেওয়া মার্নাস লাবুশেন এবার বলটি তালুবন্দী করতে ব্যর্থ হন এবং বল হাত থেকে ফসকে যায়। এই জীবন পাওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শান্ত ও তামিম ইকবাল পিচে থিতু হয়ে বসেন এবং অস্ট্রেলীয় বোলারদের ওপর চড়াও হন।
বিশেষ করে অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম ইকবাল অত্যন্ত দ্রুতগতিতে রান তুলতে শুরু করেন। প্রথম ১০ ওভারের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত তামিম ২৫টি বল খেলে ৩১ রান করে অপরাজিত রয়েছেন। অন্যদিকে তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে দেখেশুনে খেলতে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত ৩০টি বল মোকাবেলা করে ২৫ রানে অপরাজিত আছেন। এই দুই ব্যাটারের অবিচ্ছিন্ন জুটির কল্যাণে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
