ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট অঙ্গনে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ সকাল নয়টায় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের মোট ছয়টি ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন ভেন্যুতে পাঁচটি ম্যাচ যথাসময়ে শুরু হলেও বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে ব্রাদার্স ইউনিয়ন এবং অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের মধ্যকার ম্যাচটি মাঠে গড়ায়নি। মাঠে উপস্থিত হয়েও নির্ধারিত সময়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানান ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেটাররা। ক্লাবের পক্ষ থেকে চুক্তিবদ্ধ পারিশ্রমিক পরিশোধ না করার প্রতিবাদে খেলোয়াড়রা এই ম্যাচ বর্জনের কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
দলটির একাধিক ক্রিকেটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ক্লাবের সাথে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তাঁদের মোট পারিশ্রমিকের মাত্র ২০ শতাংশ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী বকেয়া অর্থ পরিশোধের জন্য ক্লাবের কর্মকর্তাদের বারবার তাগাদা ও অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। ক্রিকেটাররা আরও জানান যে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের পূর্বেই তাঁদের মোট পারিশ্রমিকের অন্তত ৫০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ক্লাব কর্তৃপক্ষ সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে গতকাল রাতেও ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে বকেয়া টাকার বিষয়টি ক্লাবকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ ম্যাচের দিন সকাল পর্যন্ত পারিশ্রমিকের বকেয়া টাকা না পাওয়ায় খেলোয়াড়রা ম্যাচ বর্জনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেটাররা মাঠে গিয়েও খেলতে অস্বীকৃতি জানালে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিপক্ষ অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে জয়ী ঘোষণা করে পূর্ণ পয়েন্ট বা ‘ওয়াকওভার’ দেওয়া হয়।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ বর্জন ও সামগ্রিক পরিস্থিতির বিবরণী
আজকের ম্যাচ বর্জন এবং ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের বর্তমান অবস্থান ও ম্যাচের সামগ্রিক পরিসংখ্যান নিচে ছকের মাধ্যমে বিস্তারিত উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় বা ক্ষেত্র | সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিবরণ ও তথ্য | ম্যাচের সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি ও ক্লাবের অবস্থান |
| ম্যাচের ভেন্যু ও সময় | বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সকাল ৯:০০ টা | পাঁচটি ম্যাচ যথাসময়ে শুরু হলেও ব্রাদার্স ইউনিয়নের আপত্তির কারণে এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়নি। |
| খেলোয়াড়দের দাবি | বকেয়া পারিশ্রমিক পরিশোধের বিষয় | চুক্তির মাত্র ২০ শতাংশ টাকা দেওয়া হয়েছে, ঈদের আগে ৫০ শতাংশ দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। |
| ম্যাচ রেফারির সিদ্ধান্ত | এনায়েত হোসেন চৌধুরী তামিম | ব্রাদার্স ইউনিয়ন দলগত তালিকা জমা দেয়নি এবং টসে আসেনি। আধঘণ্টা ও অতিরিক্ত সময় অপেক্ষার পর অগ্রণী ব্যাংককে জয়ী ঘোষণা করা হয়। |
| সিসিডিএম-এর অবস্থান | ক্রিকেট কমিটির প্রাতিষ্ঠানিক বক্তব্য | ক্লাব বা খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে আগে কিছু জানানো হয়নি। পারিশ্রমিক নির্ধারণ ও পরিশোধের বিষয়টি সম্পূর্ণ ক্লাব ও খেলোয়াড়দের নিজস্ব চুক্তির বিষয়। |
| চলতি লিগে ব্রাদার্সের অবস্থান | ৯টি ম্যাচের সামগ্রিক ফলাফল | ৯টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১টি ম্যাচে জয়লাভ করেছে। মাঠের খেলায় খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে দলটির অবনমনের তীব্র শঙ্কা রয়েছে। |
উক্ত ম্যাচের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাচ রেফারি এনায়েত হোসেন চৌধুরী তামিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, ব্রাদার্স ইউনিয়নের খেলোয়াড়রা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো খেলোয়াড় তালিকা বা দলগত তালিকা জমা দেননি এবং তাঁরা টস প্রক্রিয়াতেও অংশ নেননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি এবং অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের অধিনায়ক মাঠে আধঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করেছিলেন। পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী ব্রাদার্স ইউনিয়নকে অতিরিক্ত সময় প্রদান করা হলেও তাদের কোনো খেলোয়াড় মাঠে না আসায় অগ্রণী ব্যাংককে জয়ী ঘোষণা করা হয়।
অন্য দিকে, সিসিডিএম বা ঢাকা ক্রিকেট কমিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এই পারিশ্রমিক সংক্রান্ত বিরোধ বা ম্যাচ বর্জনের বিষয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষ কিংবা খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে আগে থেকে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনো তথ্য কমিটিকে অবহিত করা হয়নি। সিসিডিএম-এর কর্মকর্তারা জানান, যদি আগে থেকে বিষয়টি তাঁদের জানানো হতো, তবে তাঁরা হয়তো মধ্যস্থতা বা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারতেন। তবে তাঁরা এটিও পরিষ্কার করেছেন যে, পারিশ্রমিক পরিশোধের ক্ষেত্রে ক্রিকেট কমিটির কোনো সরাসরি আইনি বাধ্যবাধকতা বা হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই, কারণ এটি সম্পূর্ণভাবে ক্লাব প্রশাসন এবং ক্রিকেটারদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বিষয়। এই উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে বক্তব্য জানতে ব্রাদার্স ইউনিয়নের দলগত ব্যবস্থাপক আমেন খানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের মাঠের পারফরম্যান্সেও ব্রাদার্স ইউনিয়ন অত্যন্ত নাজুক অবস্থানে রয়েছে; এ পর্যন্ত খেলা ৯টি ম্যাচের মধ্যে তারা মাত্র ১টি ম্যাচে জয়লাভ করতে পেরেছে, যার ফলে লিগের শীর্ষ স্তর থেকে তাদের নিচের স্তরে অবনমন বা রেলিগেশনের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে।
