ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের তথা ভারতের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট প্রতিযোগিতার সদ্য সমাপ্ত আসরে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সামগ্রিক পারফরম্যান্স সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীদের ন্যূনতম প্রত্যাশাও পূরণ করতে পারেনি। গতকাল অনুষ্ঠিত লিগের সর্বশেষ ম্যাচেও রাজস্থান রয়্যালসের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে মুম্বাই। দলগত এই বিপর্যয়ের ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স তথা ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক সফল অধিনায়ক রোহিত শর্মা এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও লজ্জাজনক বিশ্ব রেকর্ড নিজের নামের পাশে যুক্ত করেছেন। রাজস্থান রয়্যালসের বোলারদের বিপক্ষে মাঠে নেমে ৪টি বল মোকাবেলা করেও তিনি নিজের খাতা খুলতে পারেননি এবং শূন্য রানে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান।
শূন্য রানে আউটের তালিকায় শীর্ষে রোহিত ও ম্যাক্সওয়েল
রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে এই ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়ার মধ্য দিয়ে ঘরোয়া এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে ১৯ বার শূন্য রানে আউট হওয়ার রেকর্ড গড়লেন রোহিত শর্মা। এর মাধ্যমে তিনি অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের পূর্ববর্তী লজ্জাজনক রেকর্ডকে স্পর্শ করেছেন। এই প্রতিযোগিতার দীর্ঘ ইতিহাসে আর কোনো ক্রিকেটার এত বেশি সংখ্যক বার শূন্য রানে আউট বা ‘ডাক’ মারেননি। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বার শূন্য রানে আউট হওয়া ক্রিকেটারদের তালিকায় গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।
এই লজ্জাজনক তালিকায় পরবর্তী স্থানগুলোতেও রয়েছেন দেশী-বিদেশী একাধিক নামী ক্রিকেটার। তালিকায় ১৮ বার শূন্য রানে আউট হয়ে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার দীনেশ কার্তিক এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার সুনীল নারিন। এর ঠিক পরেই যৌথভাবে পঞ্চম স্থানে রয়েছেন ভারতীয় স্পিনার পীযূষ চাওলা এবং আফগানিস্তানের রশিদ খান। তাঁরা দুজনেই এই প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত ১৬ বার করে শূন্য রানে আউট হয়েছেন।
নিচে প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বার শূন্য রানে আউট হওয়া শীর্ষ ক্রিকেটারদের তালিকা ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| খেলোয়াড়ের নাম ও দল | শূন্য রানে আউটের সংখ্যা | তালিকায় বর্তমান অবস্থান | আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভূমিকা |
| রোহিত শর্মা (مومبای) | ১৯ বার | যৌথভাবে প্রথম | সাবেক অধিনায়ক ও উদ্বোধনী ব্যাটার |
| গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (অস্ট্রেলিয়া) | ১৯ বার | যৌথভাবে প্রথম | অলরাউন্ডার ও মধ্যভাগের ব্যাটার |
| দীনেশ কার্তিক (ভারত) | ১৮ বার | যৌথভাবে তৃতীয় | উইকেটরক্ষক ও শেষ মুহূর্তের ব্যাটার |
| সুনীল নারিন (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) | ১৮ বার | যৌথভাবে endgame তৃতীয় | অলরাউন্ডার ও স্পিন বোলার |
| পীযূষ চাওলা (ভারত) | ১৬ বার | যৌথভাবে পঞ্চম | লেগ স্পিন বোলার |
| রশিদ খান (আফগানিস্তান) | ১৬ বার | যৌথভাবে পঞ্চম | লেগ স্পিন অলরাউন্ডার |
চলতি আসরে রোহিত শর্মার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স
এবারের আসরে রোহিত শর্মা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে মোট ৯টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন। এই ৯ ম্যাচে ৩৫.৩৮ গড় রান এবং ১৫৭.২২ রান তোলার গতি বা স্ট্রাইক রেট বজায় রেখে তিনি সর্বমোট ২৮৩ রান সংগ্রহ করেছেন। আসরে তাঁর ব্যাট থেকে দুটি আকর্ষণীয় অর্ধশতরান বা হাফ সেঞ্চুরি এসেছে। টুর্নামেন্টের মাঝপথে চোট বা শারীরিক আঘাতের কারণে তিনি টানা পাঁচটি ম্যাচ খেলতে পারেননি। চোট কাটিয়ে দলে ফেরার পর শারীরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ফিরে না পাওয়ায় তিনি মুম্বাইয়ের মূল একাদশের হয়ে ফিল্ডিং করেননি। টিম ম্যানেজমেন্টের কৌশলগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি কেবল ‘ইমপ্যাক্ট সাব’ বা বিশেষ পরিবর্তিত অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে শুধু ব্যাটিং করার দায়িত্ব পালন করেছেন।
নিচে চলতি আসরে রোহিত শর্মার ব্যক্তিগত ব্যাটিং পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান ছকের মাধ্যমে প্রকাশ করা হলো:
| আসরে খেলা মোট ম্যাচ | সংগৃহীত মোট রান | ব্যাটিংয়ের গড় হার | রান তোলার গতি বা স্ট্রাইক রেট | মোট অর্ধশতরান | চোটের কারণে অনুপস্থিতি |
| ৯টি ম্যাচ | ২৮৩ রান | ৩৫.৩৮ | ১৫৭.২২ | ২টি | ৫টি ম্যাচ |
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ব্যর্থতা ও লিগ পর্ব থেকে বিদায়
রোহিত শর্মার এই ব্যক্তিগত লজ্জার রেকর্ডের দিনে তাঁর দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সও রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে পরাজয়ের স্বাদ আস্বাদন করেছে। আসর জুড়ে মুম্বাইয়ের বোলিং ও ব্যাটিং বিভাগের ধারাবাহিকতাহীনতা দলটিকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিয়েছে। বিশেষ করে অধিনায়কত্ব পরিবর্তন এবং খেলোয়াড়দের চোটের সমস্যা দলের ভেতরের ভারসাম্যকে নষ্ট করেছে। শেষ ম্যাচে রাজস্থানের বিরুদ্ধে বড় পরাজয়ের ফলে লিগের পয়েন্ট তালিকার তলানির দিকে থেকে এবারের আসর শেষ করতে হয়েছে মুম্বাইকে, যা ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ইতিহাসে অন্যতম এক হতাশাজনক মৌসুম হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
