আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে বোলিংয়ে এক অভূতপূর্ব ও অনন্য বিশ্ব রেকর্ড স্থাপন করেছেন বতসোয়ানার ডানহাতি মাঝারি গতির বোলার নাবিল মাস্টার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আফ্রিকা অঞ্চলের উপআঞ্চলিক বাছাইপর্বের একটি ম্যাচে মালির বিপক্ষে তিনি এই অনন্য কীর্তি অর্জন করেন। ম্যাচে মাত্র ২.৪ ওভার বল করে ১টি মেডেনসহ মাত্র ২ রান খরচায় ৬টি উইকেট শিকার করেন তিনি। পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট সংস্করণে ছয়টি উইকেট নেওয়া বোলারদের মধ্যে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলিংয়ের বিশ্ব রেকর্ড।
নাবিল মাস্টারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন
নাবিল মাস্টারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালের মে মাসে। অভিষেক বছরের সেই আসরে তিনি মাত্র দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। যার মধ্যে প্রথম ম্যাচে তিনি ৩০ রান খরচ করে ১টি উইকেট পান এবং দ্বিতীয় ম্যাচে বল করার কোনো সুযোগই পাননি। এরপর দীর্ঘ সাত বছর জাতীয় দলের রাডার থেকে বাইরে থাকার পর, দুই দিন আগে তিনি আবারও বতসোয়ানার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামার সুযোগ পান। প্রত্যাবর্তনের প্রথম ম্যাচে ১০ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে তিনি নিজের দক্ষতার জানান দিয়েছিলেন এবং দ্বিতীয় ম্যাচেই বিশ্ব ক্রিকেটকে তাক লাগিয়ে দেন।
নিচে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সেরা মিতব্যয়ী বোলিংয়ের একটি তুলনামূলক চিত্র ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| বোলারের নাম ও দেশ | প্রতিপক্ষ দল | বোলিং পরিসংখ্যান (ওভার-মেডেন-রান-উইকেট) | অর্জনের বছর | রেকর্ডের ধরন |
| নাবিল মাস্টার (বতসোয়ানা) | মালি | ২.৪-১-২-৬ | ২০২৬ | নতুন বিশ্ব রেকর্ড |
| হার্ষা ভরদাজ (সিঙ্গাপুর) | মঙ্গোলিয়া | ৪.০-০-৩-৬ | ২০২৪ | পূর্ববর্তী রেকর্ড |
ম্যাচের বিবরণ ও উইকেট শিকারের প্রক্রিয়া
এই ঐতিহাসিক ম্যাচে মালি প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বতসোয়ানার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে চরম বিপর্যয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ৯.৪ ওভার খেলে মাত্র ২৪ রানেই মালি অলআউট বা ১০ উইকেটের সবকটি হারিয়ে ফেলে। মালির পতন হওয়া ১০টি উইকেটের মধ্যে একাই ৬টি উইকেট পকেটে পুরেন নাবিল মাস্টার।
বতসোয়ানার ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে প্রথমবারের মতো বল হাতে আক্রমণ শুরু করেন নাবিল মাস্টার। নিজের প্রথম ওভারে অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত বল করে তিনি কোনো রান দেননি, অর্থাৎ ওভারটি মেডেন ছিল। এরপর অষ্টম ওভারে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো বল করতে আসেন। তখন মালির দলীয় সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ১৮ রান। এই ওভারের প্রথম বলেই তিনি উইকেটের খাতা খোলেন এবং একই ওভারে আরও দুটি উইকেট নিয়ে মালির ব্যাটিং লাইনের কোমর ভেঙে দেন। এরপর ইনিংসের দশম ওভারে নিজের তৃতীয় ওভার করতে এসে তিনি আরও তিন ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফেরত পাঠান। তাঁর বোলিংয়ের চূড়ান্ত সংক্ষিপ্ত রূপ ছিল ২.৪-১-২-৬।
নিচে ম্যাচের সংক্ষিপ্ত ফলাফল ও পরিসংখ্যান ছকের মাধ্যমে প্রকাশ করা হলো:
| দলের নাম ও অবস্থান | মোট সংগৃহীত রান | ওভারের সংখ্যা | উইকেটের পতন | ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল |
| মালি (প্রথম ইনিংস) | ২৪ রান | ৯.৪ ওভার | ১০ উইকেট | বতসোয়ানা ১০ উইকেটে জয়ী |
| বতসোয়ানা (দ্বিতীয় ইনিংস) | ২৫ রান | ২.২ ওভার | ০ উইকেট | ১৪.২ ওভার বাকি থাকতে জয় |
পূর্ববর্তী রেকর্ডের ভাঙাগড়া ও বতসোয়ানার জয়
নাবিল মাস্টার এই দুর্দান্ত বোলিংয়ের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের বোলার হার্ষা ভরদাজের পূর্ববর্তী বিশ্ব রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছেন। হার্ষা ভরদাজ ২০২৪ সালে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ৪ ওভার বল করে মাত্র ৩ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে তৎকালীন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন। নাবিল মাস্টার ২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে সেই কীর্তিকে ছাড়িয়ে যান।
পরবর্তীতে মালির দেওয়া মাত্র ২৫ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বতসোয়ানা কোনো উইকেট না হারিয়ে মাত্র ২.২ ওভারে ২৫ রান তুলে নেয়। ফলে ১০ উইকেটের এক বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে বতসোয়ানা। নাবিল মাস্টারের এই স্মরণীয় বোলিং নৈপুণ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে বতসোয়ানাকে এক ঐতিহাসিক জয় এনে দেয়।
