সেঞ্চুরি আর পাঁচ উইকেটে জমল ডিপিএলের লড়াই

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের চলতি আসরে ব্যাট ও বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্সে জমে উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একদিনেই সেঞ্চুরি করেছেন একাধিক ব্যাটার, অন্যদিকে পাঁচ উইকেট নিয়ে আলো ছড়িয়েছেন তাইজুল ইসলাম। ব্যাট হাতে উজ্জ্বল ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত, ইরফান শুক্কুর, ফজলে মাহমুদ রাব্বি এবং এনামুল হক এনাম। তাদের পারফরম্যান্সে বড় জয় পেয়েছে নিজ নিজ দল।

ইউল্যাব ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব–এর বিপক্ষে মাঠে নামে আবাহনী লিমিটেড। টস জিতে আগে ব্যাটিং করা অগ্রণী ব্যাংক ৪২.১ ওভারে ১৭৮ রানে অলআউট হয়ে যায়। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন নাসির হোসেন। ৫৮ বলের এই ইনিংস ছাড়া অন্য কোনো ব্যাটার বড় সংগ্রহ গড়তে পারেননি।

আবাহনীর বোলিং আক্রমণে সমান অবদান রাখেন একাধিক বোলার। অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত–এর পাশাপাশি দুটি করে উইকেট নেন রোহনত দৌলা বর্ষণ, রাকিবুল হাসান, মাহফুজুর রহমান রাব্বি এবং সৈয়দ খালেদ আহমেদ

১৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১১০ বল হাতে রেখেই ৯ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয় আবাহনী। ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত ৯০ বলে ১০৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও সাতটি ছক্কা। উইকেটরক্ষক ব্যাটার মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ৫৬ রান করেন। তবে অপর ওপেনার জিসান আলম মাত্র ৬ রান করে আউট হন। তার উইকেট নেন সন্দ্বীপ রায় চৌধুরী। ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন শান্ত।

বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে আগে ব্যাটিং করে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩৪৫ রান তোলে। অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় করেন ৮৬ রান। এছাড়া মুশফিকুর রহিম ৭২ এবং আফিফ হোসেন ধ্রুব ৫৫ রান যোগ করেন।

৩৪৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গুলশান ক্রিকেট ক্লাব মাত্র ১০৮ রানে গুটিয়ে যায়। তাইজুল ইসলাম ৯.২ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন এবং একটি মেডেন ওভার করেন। তার ঘূর্ণিতে ২৩৭ রানের বড় জয় পায় মোহামেডান। ম্যাচসেরাও হন এই বাঁহাতি স্পিনার।

বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে উচ্চ স্কোরের ম্যাচে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স ৭ রানে হারায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন–কে। আগে ব্যাটিং করে বসুন্ধরা ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩২৪ রান তোলে। দলের হয়ে ১১৩ বলে ১৩২ রানের ইনিংস খেলেন ফজলে মাহমুদ রাব্বি। ইনিংস চলাকালে তিনি আহত হয়ে অবসর নেন। জবাবে পুরো ৫০ ওভার খেলেও ৯ উইকেটে ৩১৭ রানে থামে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। ম্যাচসেরা হন রাব্বি।

বসুন্ধরা স্পোর্টস ক্লাবে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ ৪৫ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। সেখানে ঢাকা লেপার্ডস ৫ উইকেটে ২৭৬ রান করে। সর্বোচ্চ ৯১ রান করেন ইফতেখার হোসেন ইফতি। জবাবে রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব–এর হয়ে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ অপরাজিত ১০০ রান করলেও দলকে জেতাতে পারেননি। ৫ উইকেটে ২৪৬ রানে থামে রূপগঞ্জ টাইগার্স। ৩০ রানের জয়ে ম্যাচসেরা হন ইফতি।

মিরপুরে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ৭ উইকেটে হারিয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স–কে। আগে ব্যাটিং করে গাজী গ্রুপ ৪৭.৪ ওভারে ২১০ রানে অলআউট হয়। জবাবে ৩২.২ ওভারে ৩ উইকেটে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে রূপগঞ্জ। উইকেটরক্ষক ব্যাটার ইরফান শুক্কুর ৭৫ বলে ১২৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল ১৮টি চার ও ৫টি ছক্কা। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন তিনিই।

পিকেএসপিতে আগে ব্যাটিং করে সিটি ক্লাব ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৬৬ রান সংগ্রহ করে। জবাবে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ৯ উইকেটে ২৪৭ রানে থামে। সিটির মিডল অর্ডার ব্যাটার এনামুল হক এনাম ৯৭ বলে অপরাজিত ১০৫ রানের ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও পাঁচটি ছক্কা। ম্যাচসেরা হন এনাম।

Leave a Comment