চার ম্যাচেই ব্যাটিং ঝড়ে ইতিহাস গড়লেন কনর

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই ব্যাট হাতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন কনর ক্যারলক্রোয়েশিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল–এর এই ওপেনার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির প্রথম চার ইনিংসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাইপর্বে টানা চার ইনিংসে ৭১, অপরাজিত ১৫০, ৭৪ এবং ৯৫ রান করেন কনর ক্যারল। এই চার ইনিংস মিলিয়ে তার মোট রান ৩৯০। পুরো সময়জুড়ে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ২০১.০৩। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে যেকোনো এক পর্যায়ে টানা চার ম্যাচে এটিই সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের রেকর্ড।

এর আগে এই রেকর্ড ছিল গুস্তাভ ম্যাককিওন–এর দখলে। ফ্রান্স জাতীয় ক্রিকেট দল–এর এই ব্যাটার টানা চার ইনিংসে করেছিলেন ৩৭৩ রান। কনর ক্যারল সেই রেকর্ড অতিক্রম করে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেন।

জার্মানির এপিস্কোপি–তে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাইপর্বে ফ্রান্সের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় কনরের। অভিষেক ম্যাচেই ওপেনিংয়ে নেমে ৩৪ বলে ৭১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। ইনিংসজুড়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে শুরু থেকেই নিজের উপস্থিতি জানান দেন এই ডানহাতি ব্যাটার।

ফ্রান্সের বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচে আরও বিধ্বংসী রূপে দেখা যায় ২৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারকে। মাত্র ৭২ বলে অপরাজিত ১৫০ রান করেন তিনি। এটি ছিল তার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচ। ইনিংসটিতে ছিল একের পর এক ছক্কা ও চার। প্রতিপক্ষ বোলারদের বিপক্ষে পুরো ইনিংসজুড়ে আধিপত্য বজায় রাখেন কনর।

পরবর্তী ম্যাচেও তার ব্যাটিংয়ের ধার অব্যাহত থাকে। জার্সি জাতীয় ক্রিকেট দল–এর বিপক্ষে মাত্র ৩১ বলে ৭৪ রান করেন তিনি। এরপর নিজের চতুর্থ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সাইপ্রাস জাতীয় ক্রিকেট দল–এর বিপক্ষে ৫৭ বলে ৯৫ রানের ইনিংস খেলেন।

এই চার ইনিংসে কনর ক্যারল মোট ৩০টি ছক্কা এবং ২৯টি চার হাঁকান। ধারাবাহিকভাবে বড় শট খেলার সক্ষমতা এবং দ্রুত রান তোলার দক্ষতা তাকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির অন্যতম আলোচিত ব্যাটারে পরিণত করেছে।

বিশ্বরেকর্ড গড়ার পর অবশ্য তার দুর্দান্ত ছন্দে সাময়িক বিরতি আসে। নিজের পঞ্চম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল–এর বিপক্ষে পাঁচ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। তবে প্রথম চার ম্যাচের পারফরম্যান্সই তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিশেষ স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।

ক্রোয়েশিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসেও এই অর্জন গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। ইউরোপীয় সহযোগী দেশগুলোর ক্রিকেটে নতুন প্রতিভা হিসেবে কনর ক্যারলের উত্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। তার ধারাবাহিক ব্যাটিং পারফরম্যান্স এখন সহযোগী দেশগুলোর ক্রিকেট বিকাশের ক্ষেত্রেও নতুন উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment