টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালো করতে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ নারী দল

আগামী ২০২৬ সালের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে আগামী ২৪ ও ২৬ মে দুই পৃথক ভাগে বিভক্ত হয়ে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল। মূল বিশ্বমঞ্চে মাঠে নামার পূর্বে নিজেদের ক্রিকেটীয় দক্ষতা ও কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে মেয়েরা প্রথমে স্কটল্যান্ড সফর করবে। সেখানে একটি বিশেষ ত্রিদেশীয় সিরিজ বা টুর্নামেন্টে অংশ নেবে বাংলাদেশ দল। স্কটল্যান্ডের এই সফর সমাপ্ত করে আগামী ৫ জুন নারী দল বিশ্বকাপের মূল ভেন্যু ইংল্যান্ডে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে দেশের ক্রিকেট মহলে এবং দলের ভেতর প্রত্যাশার পারদ অনেক উঁচুতে রয়েছে। আসন্ন এই বিশ্বকাপের সার্বিক প্রস্তুতি, দলের শক্তিমত্তা এবং বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাংবাদিক সেকান্দার আলী।

আক্রমণাত্মক ব্যাটিং মানসিকতা এবং কন্ডিশনের প্রস্তুতি

বিশ্বকাপের মূল পর্বে ইতিবাচক ও সাহসী ক্রিকেট খেলার ব্যাপারে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, দলের খেলোয়াড়েরা বিশ্বকাপ বাছাই টুর্নামেন্টে অত্যন্ত প্রভাব বিস্তার করে ক্রিকেট খেলেছেন। সেই প্রতিযোগিতার প্রতিটি ম্যাচে বাংলাদেশের মেয়েরা দলীয় সংগ্রহে দেড়শ বা তার বেশি রান তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন, যা দলের জন্য একটি বড় ধরনের আত্মবিশ্বাস হিসেবে কাজ করছে। পূর্বের দলগুলোর তুলনায় বর্তমান দলে বেশ কয়েকজন নতুন পারফরমার এবং ম্যাচ উইনার বা ম্যাচ জেতানোর মতো যোগ্য খেলোয়াড় যুক্ত হয়েছেন, যাঁরা বিশ্বকাপের মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শ্রীলঙ্কা সফরটি দলের জন্য একটি চোখ খুলে দেওয়ার মতো অভিজ্ঞতা ছিল। সেই সিরিজে বেশ কিছু ভুলত্রুটি হলেও দল বিভিন্ন ধরনের কম্বিনেশন বা খেলোয়াড়দের সমন্বয় পরখ করে দেখার দারুণ সুযোগ পেয়েছে।

অধিনায়কের মতে, ভালো বা মন্দ খেলা সম্পূর্ণভাবে খেলোয়াড়দের মানসিকতার ওপর নির্ভর করে। দলের ভেতরে বর্তমানে জয়ের যে মানসিকতা ও প্রবল আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তা বজায় রাখতে পারলে যেকোনো কন্ডিশন বা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভালো ক্রিকেট খেলা সম্ভব। অতীতে বিশ্বকাপের আগে এমন পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ম্যাচ বা দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপ থাকলেও, এবার শ্রীলঙ্কা সিরিজ, স্কটল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজ এবং আরও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়ায় প্রস্তুতি নিয়ে কোনো অজুহাত দেওয়ার অবকাশ নেই।

নিচে বাংলাদেশ নারী দলের আসন্ন বিশ্বকাপ যাত্রার সম্ভাব্য সূচি ও প্রস্তুতির বিবরণ ছকের সাহায্যে প্রকাশ করা হলো:

যাত্রার তারিখ ও পর্যায়গন্তব্য স্থান ও সফরের উদ্দেশ্যসম্ভাব্য পৌঁছানোর তারিখপ্রস্তুতির বিবরণ ও ম্যাচের সংখ্যা
২৪ ও ২৬ মে (দুই ভাগে)স্কটল্যান্ড (ত্রিদেশীয় সিরিজ)(তথ্য উপলব্ধ নেই)কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেওয়া ও প্রস্তুতি ম্যাচ
দ্বিতীয় পর্যায়ইংল্যান্ড (বিশ্বকাপের মূল ভেন্যু)৫ জুন, ২০২৬২টি অফিশিয়াল বা আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচ

ব্যাটিং ও বোলিং ইউনিটের শক্তিমত্তা এবং পেস আক্রমণ

বিগত সময়ে বাংলাদেশ নারী দলের বোলিং বিভাগ বরাবরই ভালো পারফর্ম করলেও, এবারের ব্যাটিং ইউনিটকেও বেশ শক্তিশালী ও গোছানো বলে দাবি করেছেন অধিনায়ক। বিশেষ করে পাওয়ার প্লে বা ম্যাচের প্রথম ছয় ওভারে রান তোলার গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। উইকেট পতন হলেও প্রথম ছয় ওভারে দলের রান ৩০ থেকে ৩৫ প্লাস হচ্ছে। দলের বর্তমান লক্ষ্য হলো পাওয়ার প্লে-তে রান তোলার হারকে ৪০ প্লাস বা তার উঁচুতে নিয়ে যাওয়া। এর জন্য ব্যাটারদের মাঠে নেমে শুরু থেকেই মেরে খেলার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। একই সাথে মিডলঅর্ডারে বা মাঝের ওভারগুলোতে ইনিংস ধরে রাখার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বাউন্ডারি বা চার-ছক্কা মারার মতো যোগ্য ব্যাটার দলে রয়েছেন।

পেস বোলিং বিভাগের সংস্কার নিয়ে নিগার সুলতানা জ্যোতি জানান, গত এক বছর ধরে যে তিন থেকে চারজন পেস বোলারকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে প্রস্তুত করা হয়েছিল, তাদের মধ্য থেকে সবচেয়ে পরিণত দুজনকে মূল দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অতীতে সাধারণত একজন পেসার এবং একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার নিয়ে দল সাজানো হলেও, পেসারদের উন্নতির কারণে এখন প্রয়োজনে দুজন খাঁটি পেসার নিয়ে মাঠে নামার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তামিম ইকবালের পরামর্শ ও বিশ্বকাপে লক্ষ্যবস্তু হওয়া দলসমূহ

জাতীয় দলের অভিজ্ঞ পুরুষ ক্রিকেটার তামিম ইকবালের সঙ্গে হওয়া একটি সাম্প্রতিক বৈঠকের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন জ্যোতি। তামিম ইকবাল নিজের ক্যারিয়ারের বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে মেয়েদের চাপমুক্ত ক্রিকেট খেলার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বিশ্বকাপে অনেক বেশি ভালো করার অতিরিক্ত চাপ নেওয়ার কারণে অনেক সময় প্রত্যাশিত ফল আসে না। তাই তিনি মেয়েদের বিশ্বকাপকে একটি সাধারণ টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচনা করে ক্রিকেট উপভোগ করার এবং নতুন কন্ডিশন এক্সপ্লোর বা অন্বেষণ করার তাগিদ দিয়েছেন।

আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের প্রধান লক্ষ্য বা টার্গেটে থাকা দলগুলোর তালিকা এবং পূর্বের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে একটি পরিসংখ্যান নিচে ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:

প্রতিপক্ষ দলের নামজয়ের সম্ভাবনা ও আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি
নেদারল্যান্ডসএই দলের বিপক্ষে ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা অত্যন্ত প্রবল।
পাকিস্তানএশীয় প্রতিপক্ষ হিসেবে ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
ভারতঅতীতে এই দলকে হারানোর পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় জয়ের বিশেষ আত্মবিশ্বাস থাকবে।
দক্ষিণ আফ্রিকাএই পরাশক্তিকে অতীতে পরাজিত করার নজির থাকায় জয়ের দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে।

অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি মনে করেন, এই দলগুলোর বিপক্ষে যদি বাংলাদেশ নিজেদের সেরা ক্রিকেট উপহার দিতে পারে, তবে অন্তত একটি বা দুটি ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের স্পটলাইটে বা আলোচনার কেন্দ্রে থাকা সম্ভব হবে এবং ভালো খেললে জয়ের এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

Leave a Comment