ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের চলমান আসরে প্লে-অফ বা চূড়ান্ত পর্বের স্থান আগেই নিশ্চিত করেছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। গতকাল শুক্রবার লিগ পর্বের শেষ রাউন্ডের ম্যাচে দল দুটি শীর্ষ দুইয়ের মধ্যে থাকার লড়াইয়ে মাঠে নেমেছিল। এই ম্যাচে দলগতভাবে হায়দরাবাদ বেশ কয়েকটি নতুন রেকর্ড গড়েছে এবং ব্যক্তিগত কীর্তিতে নিজের নাম আরও উঁচুতে লিখেছেন বেঙ্গালুরুর ভারতীয় তারকা বিরাট কোহলি। ম্যাচটিতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছে ৫৫ রানে হারলেও পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থেকে প্লে-অফে খেলা নিশ্চিত করেছে বেঙ্গালুরু। অন্যদিকে হায়দরাবাদ তৃতীয় স্থানে এবং গুজরাট টাইটান্স দ্বিতীয় স্থানে থেকে লিগ পর্ব শেষ করেছে।
হায়দরাবাদের বিশাল লক্ষ্য ও বেঙ্গালুরুর রান তাড়া
ম্যাচটিতে হায়দরাবাদের নিজেদের মাঠে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিক দল নির্ধারিত ওভারে বেঙ্গালুরুর সামনে ২৫৬ রানের এক বিশাল লক্ষ্য দাঁড় করায়। হায়দরাবাদের পক্ষে ইশান কিষাণ ৪৬ বলে সর্বোচ্চ ৭৯ রানের ইনিংস খেলেন। এছাড়া অভিষেক শর্মা ২২ বলে ৫৬ রান এবং হেইনরিখ ক্লাসেন ২৪ বলে ৫১ রান করেন। বেঙ্গালুরুর বোলার রাসিখ সালাম দার নেন ২টি উইকেট।
বিপরীতে ২৫৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ৪টি উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ওভারে মাত্র ২০০ রান তুলতে সক্ষম হয়। বেঙ্গালুরুর পক্ষে অধিনায়ক রজত পাতিদার ৩৯ বলে ৫৬ রান, ভেঙ্কটেশ আইয়ার ১৯ বলে ৪৪ রান এবং ক্রুনাল পান্ডিয়া ৩১ বলে ৪১ রান করেন। হায়দরাবাদের বোলার এহসান মালিঙ্গা ২টি উইকেট শিকার করেন।
নিচে এই ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড এবং মূল অবদানকারীদের বিবরণ ছকের সাহায্যে উপস্থাপন করা হলো:
| দলের নাম | মোট রান ও উইকেট | শীর্ষ ব্যাটার ও রান | শীর্ষ বোলার ও উইকেট |
| সানরাইজার্স হায়দরাবাদ | ২৫৫/৪ (২০ ওভার) | ইশান কিষাণ (৭৯), অভিষেক শর্মা (৫৬), হেইনরিখ ক্লাসেন (৫১) | এহসান মালিঙ্গা (২/টি তথ্য উপলব্ধ নেই) |
| রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু | ২০০/৪ (২০ ওভার) | রজত পাতিদার (৫৬), ভেঙ্কটেশ আইয়ার (৪৪), ক্রুনাল পান্ডিয়া (৪১) | রাসিখ সালাম দার (২/টি তথ্য উপলব্ধ নেই) |
বিরাট কোহলির জুটির বিশ্বরেকর্ড
গতকালকের ম্যাচে বিরাট কোহলি নিজের ব্যক্তিগত ইনিংসটি বড় করতে পারেননি। তিনি ১১ বলে মাত্র ১৫ রান করে আউট হন। তবে এই সংক্ষিপ্ত ইনিংস খেলার পথেই তিনি ভেঙ্কটেশ আইয়ারের সঙ্গে ৬০ রানের একটি জুটি গড়েন। এই জুটিতে ভেঙ্কটেশ একাই ৪৪ রান অবদান রাখেন। এই ৬০ রানের জুটির মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে ২১১টি ম্যাচে পঞ্চাশ বা তার বেশি রানের জুটি গড়ার অনন্য এক বিশ্বরেকর্ড নিজের দখলে নিয়েছেন কোহলি। তিনি এই তালিকায় সাবেক ইংলিশ তারকা অ্যালেক্স হেলসকে পেছনে ফেলেছেন।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি পঞ্চাশোর্ধ রানের জুটি গড়ার তালিকায় শীর্ষ খেলোয়াড়দের অবস্থান নিচে ছকের মাধ্যমে দেখানো হলো:
| ক্রমিক নম্বর | খেলোয়াড়ের নাম | দেশের নাম | পঞ্চাশোর্ধ রানের জুটির সংখ্যা |
| ১. | বিরাট কোহলি | ভারত | ২১১টি |
| ২. | অ্যালেক্স হেলস | ইংল্যান্ড | ২১০টি |
| ৩. | ডেভিড ওয়ার্নার | অস্ট্রেলিয়া | ২০০টি |
| ৪. | বাবর আজম | পাকিস্তান | ১৯৬টি |
| ۵. | ক্রিস গেইল | ওয়েস্ট ইন্ডিজ | ১৯১টি |
হায়দরাবাদের দলগত রেকর্ডের তাণ্ডব এবং অন্যান্য কীর্তি
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের গত কয়েকটি আসরে হায়দরাবাদের ব্যাটিং তাণ্ডব ক্রিকেট বিশ্বের একটি চেনা চিত্র। গতকালকের ম্যাচটির মাধ্যমে তারা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে মোট ৬ বার ২৫০ বা তার বেশি রানের দলীয় সংগ্রহ গড়ার অনন্য নজির স্থাপন করেছে, যার ধারেকাছে অন্য কোনো দল নেই। পাঞ্জাব কিংস এবং বেঙ্গালুরু ৩ বার করে ২৫০-এর বেশি রান সংগ্রহ করেছে। এছাড়া আইপিএলের একটি একক আসরে সর্বোচ্চবার ২০০ বা তার বেশি রান তোলার রেকর্ডেও সবার উপরে অবস্থান করছে হায়দরাবাদ। চলতি আসরের মোট ৯টি ম্যাচে তারা এই কীর্তি গড়েছে। এর আগে একটি আসরে সর্বোচ্চ ৮ বার করে ২০০-এর বেশি রান তোলার রেকর্ড ছিল তিনটি দলের।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হায়দরাবাদ এখন পর্যন্ত যেসব ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ২২০ বা তার বেশি রানের লক্ষ্য দিয়েছে, তার প্রতিটিতেই তারা জয়লাভ করেছে। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে এমন ১২টি ম্যাচে ন্যূনতম ২২০ রান সংগ্রহ করে প্রতিটিতেই জিতেছে এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
অন্যদিকে, এই ম্যাচে বেঙ্গালুরুর পেসার ভুবনেশ্বর কুমার বল হাতে ৫০-এর বেশি রান খরচ করেছেন। আইপিএলের ইতিহাসে এ নিয়ে মোট ৯টি ম্যাচে তিনি ৫০ বা তার বেশি রান দেওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়লেন। তাঁর সমান ৯ বার ৫০-এর বেশি রান দেওয়ার নজির রয়েছে মোহাম্মদ শামিরও। তবে হায়দরাবাদের জন্য আরেকটি বড় ইতিবাচক দিক হলো, চার নম্বর বা তার নিচের পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে আইপিএলের একটি একক মৌসুমে সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড গড়েছেন হেইনরিখ ক্লাসেন (৬০৬ রান)। এই রেকর্ডটি এর আগে ঋষভ পান্তের (৫৭৯ রান) দখলে ছিল।
