মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনের খেলা শেষে সফরকারীদের দ্বিতীয় ইনিংসে এখনো ১২১ রান প্রয়োজন, হাতে রয়েছে মাত্র তিনটি উইকেট। অন্যদিকে বাংলাদেশ ঐতিহাসিক হোয়াইটওয়াশ নিশ্চিত করতে দ্রুত শেষ তিনটি উইকেট তুলে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে পঞ্চম দিনে নামবে। শেষ বিকেলে সালমান আলি আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের প্রতিরোধ ভেঙে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ়ভাবে নিজেদের দিকে নিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
দিনের শেষ ভাগে পাকিস্তানের ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সালমান আলি আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। ষষ্ঠ উইকেটে তাদের ১৩৪ রানের জুটি এক পর্যায়ে বাংলাদেশের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে সেই প্রতিরোধ ভাঙেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। এক নিখুঁত ডেলিভারিতে সালমান আলি আগাকে বোল্ড করেন তিনি। ৭১ রান করে বিদায় নেন সালমান, আর এই উইকেট ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করে।
সালমানের বিদায়ের পরপরই পাকিস্তান আরও চাপে পড়ে। উইকেটে এসে হাসান আলি মাত্র ছয় বল খেলেই ফিরে যান। পরের ওভারেই তাইজুল ইসলামের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। মাত্র আট বলের ব্যবধানে দুটি উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান বড় ধাক্কা খায় এবং বাংলাদেশ ম্যাচে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করে।
চতুর্থ দিনের খেলা শেষে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের সংগ্রহ ৮৬ ওভারে ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। জয়ের জন্য সফরকারীদের এখনো প্রয়োজন ১২১ রান, আর বাংলাদেশের লক্ষ্য শেষ তিনটি উইকেট। ফলে পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনেই ম্যাচের ফল নির্ধারণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭৮ রান করে। জবাবে পাকিস্তান ২৩২ রানে অলআউট হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৯০ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তানের সামনে বড় লক্ষ্য দাঁড় করায়, যা তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে সফরকারীরা।
চতুর্থ দিনের শুরুতে পাকিস্তানের ওপেনাররা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে ইনিংসের ১১তম ওভারে প্রথম সাফল্য এনে দেন পেসার নাহিদ রানা। অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে ব্যাট চালাতে গিয়ে ব্যর্থ হন আব্দুল্লাহ ফজল। গালিতে দাঁড়িয়ে থাকা মেহেদি হাসান মিরাজ সহজ ক্যাচ নেন। দুই ইনিংসেই হাফসেঞ্চুরি করা ফজল এবার ফেরেন মাত্র ৬ রানে।
দলীয় ১৪ রানের ব্যবধানে দ্বিতীয় ওপেনার আজান আওয়াইসকেও ফেরান মেহেদি হাসান মিরাজ। এলবিডব্লিউয়ের সিদ্ধান্তে রিভিউ নিলেও ‘আম্পায়ার্স কল’-এ আউট থাকায় তাকে ২১ রানে ফিরতে হয়। ফলে ৪১ রানে দুই ওপেনার হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান।
এরপর অধিনায়ক শান মাসুদ ও বাবর আজম ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। তবে এই জুটিও বেশি দূর এগোয়নি। ফিফটি থেকে মাত্র তিন রান দূরে থাকা বাবর আজমকে ৪৭ রানে ফেরান তাইজুল ইসলাম। এতে পাকিস্তান আবারও চাপে পড়ে।
সউদ শাকিল সিরিজজুড়েই ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। ২১ বল খেলে মাত্র ৬ রান করে নাহিদ রানার শিকার হন তিনি। এরপর থিতু হওয়া অধিনায়ক শান মাসুদ ৭১ রান করে আউট হন তাইজুল ইসলামের বলে মাহমুদুল হাসান জয়ের ক্যাচে। পাকিস্তানের পঞ্চম উইকেট পড়ে ১৬২ রানে।
এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাদের জুটি পাকিস্তানকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে। তবে দিনের শেষভাগে আবারও আঘাত হেনে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন তাইজুল ইসলাম।
ম্যাচে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল বোলার তাইজুল ইসলাম। তিনি ১১৩ রান খরচায় ৪টি উইকেট শিকার করেছেন। নাহিদ রানা দুটি এবং মেহেদি হাসান মিরাজ একটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিতের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
পঞ্চম দিনের শুরুতেই বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে দ্রুত শেষ তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ ও সিরিজ নিজেদের করে নেওয়া। অন্যদিকে পাকিস্তানের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ—ম্যাচ বাঁচাতে দীর্ঘ সময় উইকেটে টিকে থাকা। মিরপুর টেস্ট এখন চূড়ান্ত পরিণতির অপেক্ষায়।
![মিরপুরে জয়ের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ, প্রয়োজন শেষ তিন উইকেট 1 মিরপুরে জয়ের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ প্রয়োজন শেষ তিন উইকেট 1 Cricket Gurukul [ ক্রিকেট গুরুকুল ] GOLN](https://cricketgoln.com/wp-content/uploads/2026/05/মিরপুরে-জয়ের-দ্বারপ্রান্তে-বাংলাদেশ-প্রয়োজন-শেষ-তিন-উইকেট-1.png)