ফুটবল বিশ্বকাপের বৈশ্বিক আয়োজনের মধ্যেই আগামী জুনে বাংলাদেশ সফরে আসছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় রেখেই বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার সীমিত ওভারের পূর্ণাঙ্গ সিরিজ। বিশ্ব যখন ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতে উঠবে, তখন দেশের ক্রিকেটাঙ্গন ব্যস্ত থাকবে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক সিরিজ নিয়ে।
সূচি অনুযায়ী, ১১ জুন মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। একই সময় বাংলাদেশে মাঠে গড়াবে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজ। ফলে জুন মাসজুড়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ফুটবল ও ক্রিকেট—দুই ভিন্ন মঞ্চের বড় আয়োজন।
সিরিজের সব ম্যাচ দিনের আলোয় আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সম্প্রতি বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজেও একই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। গত ১৭ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সেই সিরিজের ছয়টি ম্যাচ দিনের বেলাতেই অনুষ্ঠিত হয়। তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে। সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও একই সূচি অনুসরণ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে সিরিজের তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। প্রথম ওয়ানডে ৯ জুন, দ্বিতীয়টি ১১ জুন এবং তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ১৪ জুন অনুষ্ঠিত হবে। তিনটি ম্যাচই শুরু হবে সকাল ১১টায়।
ওয়ানডে সিরিজ শেষে দুই দল চট্টগ্রামে যাবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে। তিন ম্যাচের এই সিরিজের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৭ জুন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচ যথাক্রমে ১৯ ও ২১ জুন। সবগুলো ম্যাচই শুরু হবে বেলা ২টায়। টি-টোয়েন্টি সিরিজের ভেন্যু হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়াম।
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষ হলেও ফুটবল বিশ্বকাপ তখনও চলমান থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপের ফাইনাল হবে ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। ফলে জুন ও জুলাই—দুই মাসজুড়েই আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে থাকবে ব্যস্ততা।
সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের দিক থেকে বাংলাদেশ ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। গত মাসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে পিছিয়ে থেকেও ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। এই জয়ের ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ৮৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে নবম অবস্থান ধরে রেখেছে দলটি।
বর্তমানে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে রয়েছে ভারত, যাদের রেটিং পয়েন্ট ১১৮। দ্বিতীয় স্থানে থাকা নিউজিল্যান্ডের রেটিং পয়েন্ট ১১৩ এবং তৃতীয় স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ১০৯ পয়েন্ট। এই পরিসংখ্যান বিবেচনায় আসন্ন সিরিজ দুই দলের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ।
বিশেষ করে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ নয়টি দল সরাসরি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। সে কারণে প্রতিটি ম্যাচ বাংলাদেশের জন্য মূল্যবান রেটিং পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূচি অনুযায়ী, ৯, ১১ ও ১৪ জুন মিরপুরে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ। এরপর ১৭, ১৯ ও ২১ জুন চট্টগ্রামে বেলা ২টায় মাঠে গড়াবে তিনটি টি-টোয়েন্টি। দিনের আলোয় আয়োজিত এই সিরিজ দেশের ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে নতুন মাত্রা যোগ করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় উদ্যোগের ধারাবাহিকতাও বজায় রাখ
![বিশ্বকাপের আবহে দিনের আলোয় অস্ট্রেলিয়া সিরিজ 1 বিশ্বকাপের আবহে দিনের আলোয় অস্ট্রেলিয়া সিরিজ 1 Cricket Gurukul [ ক্রিকেট গুরুকুল ] GOLN](https://cricketgoln.com/wp-content/uploads/2026/05/বিশ্বকাপের-আবহে-দিনের-আলোয়-অস্ট্রেলিয়া-সিরিজ-1.png)