ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) চলতি আসরের একটি জমজমাট দিনে বোলারদের দাপটই ছিল সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। দিনের ছয়টি ম্যাচে চারজন বোলার পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। একই সঙ্গে আলিস আল ইসলামের হ্যাটট্রিক, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর ছয় উইকেট এবং অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের ওপেনার মাহফিজুল ইসলামের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি দিনের পারফরম্যান্সকে বিশেষভাবে আলাদা করে তুলেছে।
দিনের সবচেয়ে বড় জয়টি তুলে নেয় প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে তারা ১৯৮ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখে। ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে প্রাইম ব্যাংক ৬ উইকেটে ৩০৩ রান সংগ্রহ করে। ইনিংসের শুরুতে দুই ওপেনার শাহাদাত হোসেন দিপু ও আজিজুল হাকিম তামিম দলকে শক্ত ভিত এনে দেন। দিপু ৭১ এবং তামিম ৭৮ রান করেন। পরে শামীম হোসেন পাটোয়ারি অপরাজিত ৫১ রান করে দলীয় সংগ্রহকে তিনশ ছাড়াতে সহায়তা করেন।
জবাবে ৩০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়। আলিস আল ইসলামের ঘূর্ণিতে ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে এবং দলটি মাত্র ১০৫ রানেই অলআউট হয়। আলিস ৬ উইকেট শিকার করেন। এই ইনিংসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল তার হ্যাটট্রিক। ২২তম ওভারের শেষ দুই বলে মাহফুজুল ইসলাম ও আরিদুল ইসলামকে আউট করার পর নিজের পরের ওভারের প্রথম বলেই মোহাম্মদ রুবেলকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই এই পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার পান তিনি।
অন্যদিকে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব তাদের দুর্দান্ত জয়যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সকে ১০ উইকেটে হারিয়ে টানা চতুর্থ জয় পেয়েছে দলটি। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স মাত্র ৮০ রানে অলআউট হয়। বাঁহাতি পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ২২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং ধস নামান।
৮১ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মোহামেডান কোনো উইকেট না হারিয়েই জয় নিশ্চিত করে। এনামুল হক বিজয় ৫০ রান করেন এবং নাঈম শেখ ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন। হাতে ২৫১ বল রেখে জয় পাওয়ায় ম্যাচের একতরফা চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আবাহনী লিমিটেডও জয়ের ধারা ধরে রেখেছে। টানা দুই পরাজয়ের পর ঘুরে দাঁড়িয়ে তারা টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে। বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে আবাহনী।
১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সৌম্য সরকারের ৬৫ রানের ইনিংসে সহজেই জয় তুলে নেয় দলটি। তবে ম্যাচের ভিত্তি তৈরি করেন মাহফুজুর রহমান রাব্বি। বাঁহাতি এই স্পিনার রূপগঞ্জ টাইগার্সের পাঁচ ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান। ব্যাট হাতে অপরাজিত ১৩ রানও করেন তিনি। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরা হন রাব্বি।
দিনের ব্যাটিং পারফরম্যান্সে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের মাহফিজুল ইসলাম। তার অপরাজিত ১২৭ রানের ইনিংসে দলটি ৭ উইকেটে ২৯৩ রান সংগ্রহ করে। ইনিংসটি সাজানো ছিল ১০টি চার ও ৩টি ছক্কায়।
লিজেন্ড অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২২৩ রান। তবে নির্ধারিত ৩৪.১ ওভারে তারা ১৪৫ রানের বেশি করতে পারেনি। ফলে বৃষ্টি আইনে ৭৭ রানের জয় পায় অগ্রণী ব্যাংক। মাহফিজুল তার সেঞ্চুরির সুবাদে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন।
ঢাকা লেওপার্ডস গুলশান ক্রিকেট ক্লাবকে ৬ উইকেটে হারিয়ে জয়ে ফেরে। ১৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সৈকত আলীর অপরাজিত ৮৮ রানের ইনিংসে তারা সহজ জয় পায়।
অন্যদিকে ব্রাদার্স ইউনিয়ন অবশেষে প্রথম জয়ের মুখ দেখে। টানা তিন হারের পর সিটি ক্লাবকে বৃষ্টি আইনে ২৬ রানে হারায় দলটি। জাহিদুজ্জামান ৫৮ ও আদিল বিন সিদ্দিক ৫৭ রান করেন। গোলাম কবির ৩১ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন।
দিনশেষে ডিপিএলের এই রাউন্ডে বোলারদের আধিপত্যের পাশাপাশি মাহফিজুল ইসলামের সেঞ্চুরি বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে।
![ডিপিএলে বোলিং ঝড়ে উজ্জ্বল তিন তারকার পারফরম্যান্স 1 ডিপিএলে বোলিং ঝড়ে উজ্জ্বল তিন তারকার পারফরম্যান্স 1 Cricket Gurukul [ ক্রিকেট গুরুকুল ] GOLN](https://cricketgoln.com/wp-content/uploads/2026/05/ডিপিএলে-বোলিং-ঝড়ে-উজ্জ্বল-তিন-তারকার-পারফরম্যান্স-1.png)