আইসিসির সংক্ষিপ্ত তালিকায় নাহিদ রানা

বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের এপ্রিল মাসের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। পুরুষ বিভাগে মনোনীত তিন ক্রিকেটারের একজন হিসেবে তার নাম ঘোষণাকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নাহিদ নিজেকে দেশের পেস আক্রমণের সম্ভাবনাময় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছেন।

মাত্র ২৩ বছর বয়সেই নাহিদ রানা তার গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থ এবং চাপের মুহূর্তে কার্যকর বোলিংয়ের কারণে নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে সিরিজে তার পারফরম্যান্সই মূলত তাকে এই মনোনয়নের পথে এগিয়ে দেয়। তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয় পায় এবং সিরিজজুড়ে বল হাতে নাহিদ ছিলেন অন্যতম সফল বোলার।

পুরো সিরিজে তিনি ৮ উইকেট শিকার করেন, যেখানে তার ইকোনমি রেট ছিল ৪.৪৬। ধারাবাহিকভাবে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নেওয়ার দক্ষতা তাকে আলাদা করেছে। এই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি সিরিজসেরার পুরস্কারও অর্জন করেন।

বিশেষ করে মিরপুরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নাহিদের বোলিং ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। ওই ম্যাচে তিনি ৩২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপকে ভেঙে দেন। তার এই বিধ্বংসী বোলিংয়ে বাংলাদেশ ৫৫ রানের বড় জয় পায়। সিরিজের শেষ ম্যাচেও চট্টগ্রামে দুই উইকেট নিয়ে নিজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন তিনি।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে গত কয়েক বছরে পেস আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। একসময় স্পিননির্ভর দল হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ এখন পেস বোলিংয়েও শক্ত অবস্থান গড়ে তুলছে। এই পরিবর্তনের ধারায় নাহিদ রানার আবির্ভাবকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা।

পুরুষ বিভাগের বাকি দুই মনোনীত ক্রিকেটার হলেন ওমানের অধিনায়ক জাতিন্দর সিং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পেসার অজয় কুমার। এপ্রিল মাসে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন জাতিন্দর সিং। তিনি মোট ২৬৬ রান করেন, গড় ৫৩.২০ এবং স্ট্রাইক রেট ১১৫.১৫। নেপালের বিপক্ষে ৯১ বলে ১৩৯ রানের ইনিংস ছিল তার মাসের সেরা পারফরম্যান্স।

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাঁহাতি পেসার অজয় কুমার ৯ উইকেট শিকার করে আলোচনায় আসেন। বিশেষ করে ওমানের বিপক্ষে ৩৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন।

পুরুষ বিভাগের মনোনীত ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স

ক্রিকেটারদেশপারফরম্যান্স
নাহিদ রানাবাংলাদেশ৮ উইকেট, ইকোনমি ৪.৪৬, সিরিজসেরা
জাতিন্দর সিংওমান২৬৬ রান, গড় ৫৩.২০, স্ট্রাইক রেট ১১৫.১৫
অজয় কুমারসংযুক্ত আরব আমিরাত৯ উইকেট, সেরা বোলিং ৬/৩৫

নারী বিভাগেও রয়েছে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক লরা উলভার্ট, শ্রীলঙ্কার ওপেনার ইমেশা দুলানি এবং ব্রাজিলের অলরাউন্ডার লরা কার্ডোসো সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন।

লরা উলভার্ট নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে টানা দুটি ৬৯ রানের ইনিংস খেলেন। পরে ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে একটি সেঞ্চুরি ও তিনটি অর্ধশতক করে দলকে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে ভূমিকা রাখেন। ইমেশা দুলানি বাংলাদেশের বিপক্ষে আইসিসি নারী চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজে ১১৬ রান করে সিরিজসেরা হন এবং পরবর্তী টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ৮২ রান যোগ করেন।

অন্যদিকে ব্রাজিলের অলরাউন্ডার লরা কার্ডোসো ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই অসাধারণ নৈপুণ্য দেখান। তিনি টি-টোয়েন্টিতে ২০৩ রান করার পাশাপাশি ১৭ উইকেট নেন। লেসোথোর বিপক্ষে মাত্র ৪ রানে ৯ উইকেট নেওয়ার বিরল কীর্তিও গড়েন।

নাহিদ রানার এই মনোনয়ন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক উন্নতি ধরে রাখতে পারলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে উঠতে পারেন এই তরুণ পেসার।

Leave a Comment