ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগকে ঘিরে ক্রিকেটারদের দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাডহক কমিটির পরিবর্তনের মাধ্যমে আসন্ন আসরটি আগামী চার মে মাঠে গড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে আয়োজনের আনুষ্ঠানিক অগ্রগতি থাকলেও অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলোর আর্থিক সংকট এবার লিগকে ভিন্ন চিত্রে দাঁড় করিয়েছে।
বেশির ভাগ ক্লাবই এবার বড় বাজেট নিয়ে দল গঠনে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এর ফলে অনেক ক্লাবই জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে করা আগের চুক্তি বাতিল করেছে এবং তুলনামূলক কম বাজেটে তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে দল সাজানোর পথে গেছে। অন্যদিকে কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় ক্লাব তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী বাজেট ধরে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দল গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ক্লাব জাতীয় দলের কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে। তাদের পক্ষ থেকে লিগে অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একইভাবে গুলশান ক্রিকেট ক্লাব, অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, রূপগঞ্জ টাইগার্স, ব্রাদার্স ইউনিয়ন এবং গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স কম বাজেটে মূলত উদীয়মান ক্রিকেটারদের নিয়ে দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের সভাপতি খালেদ মাহমুদ সুজন জানিয়েছেন, তারা প্রায় দুই কোটি টাকার মধ্যে মৌসুম শেষ করার পরিকল্পনা করছেন। তাঁর মতে, ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা থাকবে, যেখানে কারও তিন লাখ এবং কারও সর্বোচ্চ দশ লাখ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হতে পারে।
অন্যদিকে মোহামেডান স্পোর্টিং লিমিটেড, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব এবং বসুন্ধরা রাইডার্স তুলনামূলকভাবে ভালো বাজেট নিয়ে মাঠে নামছে। এই তিনটি ক্লাব অভিজ্ঞ ও তারকা ক্রিকেটারদের নিয়ে শক্তিশালী দল গঠনের দিকে এগোচ্ছে বলে জানা গেছে।
লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বাদল জানিয়েছেন, তারা এবার শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে দল গঠন করছেন না এবং পূর্বের চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দেরও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, দল বদলের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তারা এখনও দল গঠনের কাজ সম্পূর্ণ করতে পারেনি এবং লিগে টিকে থাকার মতো একটি দল তৈরির চেষ্টা করছে।
প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের কোচ তালহা জুবায়ের জানিয়েছেন, তাদের দলে অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের সমন্বয় রয়েছে এবং তারা শিরোপার লড়াইয়ে থাকতে আশাবাদী।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেডের কোচ হান্নান সরকার জানিয়েছেন, সীমিত বাজেটের মধ্যেই তারা ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠনের চেষ্টা করছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খেলোয়াড় নির্বাচন করা হচ্ছে।
নিচে ক্লাবগুলোর বাজেট ও প্রস্তুতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র দেওয়া হলো—
| ক্লাবের নাম | বাজেট পরিস্থিতি | দল গঠনের অবস্থা |
|---|---|---|
| গুলশান ক্রিকেট ক্লাব | সীমিত বাজেট | তরুণ ক্রিকেটার নির্ভর দল |
| অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব | সীমিত বাজেট | পুনর্গঠন চলমান |
| রূপগঞ্জ টাইগার্স | সীমিত বাজেট | অনিশ্চিত প্রস্তুতি |
| ব্রাদার্স ইউনিয়ন | সীমিত বাজেট | উদীয়মান খেলোয়াড় নির্ভর |
| গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স | আর্থিক সংকট | দল গঠন অসম্পূর্ণ |
| মোহামেডান স্পোর্টিং লিমিটেড | তুলনামূলক উচ্চ বাজেট | শক্তিশালী দল গঠন |
| প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব | উচ্চ বাজেট | প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দল |
| বসুন্ধরা রাইডার্স | উচ্চ বাজেট | দল গঠনের চূড়ান্ত পর্যায় |
ক্রিকেটারদের কল্যাণ সংস্থার সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বলেছেন, ক্লাবগুলোর বাজেট সংকট এবং পারিশ্রমিক কমে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, অনেক ক্রিকেটারকে সীমিত পারিশ্রমিকে খেলতে হতে পারে, যা তাদের পেশাগত জীবনের জন্য পর্যাপ্ত নয়।
সব মিলিয়ে আসন্ন ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে আর্থিক অনিশ্চয়তা ও বাজেট বৈষম্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা প্রতিযোগিতার ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
