অঘোষিত ফাইনালে বদল আসতে পারে একাদশে

পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে এখন সমতায় অবস্থান করছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে জয় পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে বড় ব্যবধানে হেরে বসে স্বাগতিকরা। ফলে সিরিজের শেষ ম্যাচটি কার্যত অঘোষিত ফাইনালে রূপ নিয়েছে। যে দল এই ম্যাচে জিতবে, তারাই সিরিজ নিজেদের করে নেবে। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বাংলাদেশের একাদশে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় ম্যাচে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের দুর্বলতা আবারও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দলের টিম ম্যানেজমেন্ট বড় রান তাড়া করার সামর্থ্য যাচাই করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই পরীক্ষায় দল প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ফলে শেষ ম্যাচে কৌশলগতভাবে কিছু পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে ওপেনিং জুটিতে পরিবর্তনের আলোচনা সবচেয়ে বেশি। প্রথম দুই ম্যাচে ওপেনিংয়ে ছিলেন তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান। প্রথম ম্যাচে তানজিদ কিছুটা ভালো করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে তিনি ব্যর্থ হন। অন্যদিকে সাইফ হাসান দুই ম্যাচেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারেননি।

নিচে প্রথম দুই ম্যাচে দুই ওপেনারের পারফরম্যান্স তুলে ধরা হলো—

খেলোয়াড়ম্যাচবলরান
সাইফ হাসান১ম ম্যাচ১০
সাইফ হাসান২য় ম্যাচ১২১২
তানজিদ হাসান তামিম১ম ম্যাচউল্লেখযোগ্য অবদান
তানজিদ হাসান তামিম২য় ম্যাচব্যর্থ

সাইফ হাসানের ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে তাকে একাদশের বাইরে রাখা হতে পারে। তার জায়গায় অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সৌম্য সরকারকে দলে ফেরানোর সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে তাকে দলে রাখা হয়নি, তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তাকে আবারও আলোচনায় এনেছে। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের শেষ ম্যাচে তার ৯১ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস নির্বাচকদের নজর কেড়েছিল।

এক্ষেত্রে দুই ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত, সাইফ হাসানকে বাদ দিয়ে সৌম্য সরকারকে ওপেনিংয়ে নামানো হতে পারে। দ্বিতীয়ত, ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশনের কথা বিবেচনায় রেখে তানজিদ হাসান তামিমের জায়গায়ও সৌম্যকে দেখা যেতে পারে।

এদিকে বোলিং বিভাগেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। টানা ম্যাচ খেলার কারণে ফাস্ট বোলারদের কাউকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে শরিফুল ইসলাম আবার একাদশে ফিরতে পারেন। তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা বা মোস্তাফিজুর রহমান—এই তিনজনের মধ্যে যেকোনো একজনকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শেষ ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য শুধু সিরিজ জয়ের সুযোগই নয়, বরং দলের কৌশলগত সক্ষমতা ও ব্যাটিং গভীরতার পরীক্ষাও বটে। তাই টিম ম্যানেজমেন্ট পরিস্থিতি বিবেচনায় ঝুঁকি কমিয়ে অভিজ্ঞতা ও ভারসাম্যের দিকে ঝুঁকতে পারে।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ

ক্রমখেলোয়াড়
সৌম্য সরকার
তানজিদ হাসান তামিম
তাওহীদ হৃদয়
নাজমুল হোসেন শান্ত
লিটন দাস (উইকেটরক্ষক)
আফিফ হোসেন
মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক)
রিশাদ হোসেন
তাসকিন আহমেদ
১০নাহিদ রানা
১১মোস্তাফিজুর রহমান / শরিফুল ইসলাম

অঘোষিত এই ফাইনালে বাংলাদেশের লক্ষ্য হবে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই স্থিতিশীল পারফরম্যান্স নিশ্চিত করা। তাই একাদশে সামান্য পরিবর্তন হলেও তা যে ম্যাচের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।

Leave a Comment