শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং বিশ্বমঞ্চে হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ক্রিকেটার ও বিশ্বজয়ী কোচ গ্যারি কারস্টেনকে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)। আজ এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড এই ঘোষণা দেয়। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর কারস্টেনের মতো হাই-প্রোফাইল কোচের অন্তর্ভুক্তি লঙ্কান সমর্থকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে পরবর্তী দুই বছরের জন্য তাঁর এই নিয়োগ কার্যকর হতে যাচ্ছে।
নিয়োগের প্রেক্ষাপট ও লক্ষ্য
সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। সুপার এইট পর্ব থেকেই লঙ্কানদের বিদায় নিতে হয়, যার দায়ভার কাঁধে নিয়ে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান দেশটির ব্যাটিং কিংবদন্তি সনাৎ জয়াসুরিয়া। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে কারস্টেনকে বেছে নেওয়ার পেছনে লঙ্কান বোর্ডের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা কাজ করছে। এসএলসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের হাই পারফরম্যান্স সেন্টারের কাঠামো আমূল পরিবর্তন এবং ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে একটি শক্তিশালী দল গঠন করাই হবে কারস্টেনের প্রধান চ্যালেঞ্জ। উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের বিশ্বকাপটি দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়ের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গ্যারি কারস্টেনের বর্ণাঢ্য কোচিং ক্যারিয়ার
কোচ হিসেবে গ্যারি কারস্টেনের সাফল্য আকাশচুম্বী। ক্রিকেট বিশ্বে তিনি ‘ম্যান ম্যানেজমেন্ট’ এবং ‘কৌশলগত উৎকর্ষের’ জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর অধীনেই ভারত দীর্ঘ ২৮ বছরের খরা কাটিয়ে ২০১১ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করেছিল। কোচ হিসেবে তাঁর অর্জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| সময়কাল | দল/ভূমিকা | অর্জিত উল্লেখযোগ্য সাফল্য |
| ২০০৮ – ২০১১ | ভারত (প্রধান কোচ) | ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয় ও টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ১ নম্বর। |
| ২০১১ – ২০১৩ | দক্ষিণ আফ্রিকা (প্রধান কোচ) | তিন সংস্করণেই আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখল। |
| ২০২৩ – ২০২৪ | নামিবিয়া (পরামর্শক) | টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে উদীয়মান দলের উন্নয়ন। |
| ২০২৬ (এপ্রিল) | শ্রীলঙ্কা (প্রধান কোচ) | ২০২৭ বিশ্বকাপ প্রস্তুতির মূল রূপকার। |
খেলোয়াড় হিসেবে পরিসংখ্যান
কোচিংয়ের পাশাপাশি খেলোয়াড় হিসেবেও কারস্টেন ছিলেন সময়ের অন্যতম সেরা উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। ১৯৯৩ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপের মূল স্তম্ভ ছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর সংগ্রহ ১৪,০৮৭ রান। তিনি টেস্ট ক্রিকেটে ২১টি এবং ওয়ানডে ক্রিকেটে ১৩টি শতক হাঁকিয়েছেন। তাঁর এই বিশাল অভিজ্ঞতা লঙ্কান তরুণ ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাস জোগাতে টনিক হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামীর চ্যালেঞ্জ
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে বর্তমান সময়ে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে খেই হারিয়ে ফেলা এবং দলগত সমন্বয়ের অভাব ঘোচানোই হবে কারস্টেনের প্রথম কাজ। লঙ্কান বোর্ড আশা করছে, দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে হতে যাওয়া ২০২৭ বিশ্বকাপে কারস্টেনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং কোচিং দর্শন শ্রীলঙ্কাকে শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে রাখবে। লঙ্কান ক্রিকেটের এই নতুন অধ্যায় শেষ পর্যন্ত কতটা ফলপ্রসূ হয়, তা দেখার জন্য মুখিয়ে আছে ক্রিকেট বিশ্ব।
![লঙ্কান ক্রিকেটের নতুন সেনাপতি গ্যারি কারস্টেন: দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা 1 লঙ্কান ক্রিকেটের নতুন সেনাপতি গ্যারি কারস্টেন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা Cricket Gurukul [ ক্রিকেট গুরুকুল ] GOLN](https://cricketgoln.com/wp-content/uploads/2026/03/লঙ্কান-ক্রিকেটের-নতুন-সেনাপতি-গ্যারি-কারস্টেন-দীর্ঘমেয়াদী-পরিকল্পনা.jpg)