ইতিহাস গড়ে ভারত তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়

আন্তর্জাতিক সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেটে ভারত নতুন ইতিহাস গড়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয় করেছে। রবিবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে শিরোপা ঘরে তুলেছে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল। এর ফলে ভারত প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি এবং সর্বমোট তিনটি শিরোপা জয়ের অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করল।

লক্ষাধিক দর্শক উপস্থিতিতে স্টেডিয়াম প্রাচীর পর্যন্ত মুখরিত হয়ে ওঠে। স্বাগতিক দলের ব্যাটাররা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলায় নিউজিল্যান্ডের বোলারদের কার্যত অসহায় করে দেন। বিশেষভাবে সাঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা ও ইশান কিষানের ব্যাটিং দর্শকদের মাতিয়ে তোলে।

ভারত প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত বিশ ওভারে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ রান সংগ্রহ করে, যা ফাইনালে সর্বোচ্চ দলীয় রানের নতুন রেকর্ড। স্যামসন ৪৬ বলে ৫ চার ও ৮ ছক্কায় ৮৯ রান করেন। অভিষেক শর্মা ২১ বলে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ৫২ রান যোগ করেন এবং পাওয়ার প্লের প্রথম ছয় ওভারে ভারতের রান ৯২ পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

ওয়ানডাউনে নেমে ইশান কিষান ২৫ বলে ৪ চার ও ৪ ছক্কায় ৫৪ রান করেন। শেষদিকে শিবম দুবে মাত্র ৮ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ২৬ রান করে ইনিংস আরও শক্তিশালী করেন। উদ্বোধনী জুটিতে অভিষেক ও স্যামসন মাত্র ৭.১ ওভারে ৯৮ রান যোগ করেন।

নিউজিল্যান্ড ব্যাটিং শুরু থেকেই চাপে পড়ে। ওপেনার টিম সেইফার্ট ২৬ বলে ৫২ রান করেন, তবে দলের বাকিরা দ্রুত আউট হন। ফিন অ্যালেন ৯, রাচীন রবীন্দ্র ১, গ্লেন ফিলিপস ৫ এবং মার্ক চাপম্যান ৩ রান করে দ্রুত ফিরে যান। দল ৭২ রানে পাঁচ উইকেট হারায়। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ৩৫ বলে ৪৩ রান করেন, কিন্তু নিউজিল্যান্ড ১৯ ওভারে ১৫৯ রানে অলআউট হয়ে হারে।

ভারতের বোলারদের মধ্যে জাসপ্রিত বুমরাহ ছিলেন সবচেয়ে সফল। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। অক্ষর প্যাটেল তিনটি উইকেট পান। হার্দিক পান্ডিয়া ও বরুণ চক্রবর্তী একটি করে উইকেট নেন।

নিচে ফাইনাল ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

বিষয়তথ্য
ম্যাচবিশ্বকাপ ফাইনাল
স্থাননরেন্দ্র মোদি ক্রীড়াঙ্গন, আহমেদাবাদ
ভারতের রান২০ ওভারে ২৫৫/৫
নিউজিল্যান্ডের রান১৯ ওভারে ১৫৯
ফলাফলভারত জয়ী ৯৬ রানে
সর্বোচ্চ রানসাঞ্জু স্যামসন ৮৯
দ্রুততম অর্ধশতকঅভিষেক শর্মা (১৯ বল)
সেরা বোলিংজাসপ্রিত বুমরাহ ৪ উইকেট

ভারত প্রথমবার এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতেছিল ২০০৭ সালে। মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে পাকিস্তানকে হারিয়ে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৪ সালে ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হলেও এবার দলে কোনো ভুল ছিল না। ব্রিজটাউনের দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নাটকীয় জয় এবং এই তৃতীয় শিরোপা ভারতকে ক্রিকেট ইতিহাসে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

নিউজিল্যান্ড এর আগে একবার ফাইনালে উঠে হেরে রয়ে গিয়েছিল। এবারও তারা ফাইনালে উঠে চূড়ান্ত পরাজয়ের স্বাদ পায় এবং রানার্সআপ হিসেবে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। ভারতের এই জয়ে ক্রিকেটবিশ্বে নতুন ইতিহাস তৈরি হলো।

Leave a Comment