তানজিদের ঝকঝকে সেঞ্চুরি ও রিশাদের স্পিন ঘূর্ণিতে জয়

মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ এক বিচিত্র জার্সি আর ধ্রুপদী লড়াইয়ের সাক্ষী হলো ক্রিকেটপ্রেমীরা। আসন্ন ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচিকে সামনে রেখে আয়োজিত প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিএল ‘অল স্টারস একাদশ’-কে ৪০ রানে পরাজিত করেছে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে গঠিত ‘বিসিবি একাদশ’। মাঠের লড়াইয়ে একদিকে ছিল বেগুনি জার্সির আধিপত্য, অন্যদিকে ছিল বিসিএলের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির রঙ-বেরঙের জার্সির সংমিশ্রণ। বিসিবি নতুন জার্সি সরবরাহ না করায় অল স্টারস দলের খেলোয়াড়েরা তাদের ঘরোয়া লিগের নিজ নিজ দলের জার্সি পরেই মাঠে নেমেছিলেন, যা ম্যাচটিতে এক ভিন্নধর্মী আবহ তৈরি করে।

ব্যাটিংয়ে তানজিদের রাজত্ব ও লিটনের নতুন ভূমিকা

আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০২৭ বিশ্বকাপের সরাসরি অংশগ্রহণের চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে বাংলাদেশ দল তাদের ব্যাটিং অর্ডারে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। আজ ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান তামিম ছিলেন অনন্য। সাবলীল ব্যাটিংয়ে ১০১ বলে পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। তার সঙ্গী সাইফ হাসান ৪৭ বলে ২২ রান করে আউট হলেও তানজিদ ইনিংসের মেরুদণ্ড গড়ে দেন। তিন ও চারে নামা সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও মিডল অর্ডারে লিটন দাসের নতুন ভূমিকা ছিল ইতিবাচক। ওপেনিংয়ের ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে তিনে নয় বরং মিডল অর্ডারে নেমে ৪৪ রানের এক কার্যকর ইনিংস খেলেন তিনি।

নিচে বিসিবি একাদশের ব্যাটিং পারফরম্যান্সের সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:

ব্যাটসম্যানরানবলচার/ছক্কাস্ট্রাইক রেট
তানজিদ হাসান১০০+১০১
সাইফ হাসান২২৪৭৪৬.৮১
লিটন দাস৪৪৩৮৪/১১১৫.৭৯
আফিফ হোসেন২৯২৮১০৩.৫৭
মেহেদী হাসান মিরাজ২৪১৫১৬০.০০
সর্বমোট২৯৫৫০ ওভার

রিশাদের ৫ উইকেট ও অল স্টারসের প্রতিরোধ

২৯৬ রানের লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে রিশাদ হোসেনের লেগ স্পিনের সামনে দিশেহারা হয়ে পড়ে অল স্টারস একাদশ। মাত্র ১৫৭ রানেই তাদের ৮ উইকেট পড়ে গেলে মনে হয়েছিল বড় ব্যবধানে হারতে যাচ্ছে দলটি। রিশাদ ১০ ওভারে মাত্র ৪০ রান খরচায় একাই তুলে নেন ৫টি উইকেট। তবে নবম উইকেটে রিপন মণ্ডল ও আবদুল গাফফার সাকলাইনের ৮০ রানের লড়াকু জুটি বিসিবি একাদশের বোলারদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দেয়। সাকলাইন ৪৯ এবং রিপন ৩৯ রান করে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত নিয়ে গেলেও হার এড়াতে পারেননি। অল স্টারস একাদশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৫৫ রান সংগ্রহ করে।

বোলারদের পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণ

জাতীয় দলের বোলারদের মধ্যে রিশাদ বাদে বাকিরা খুব একটা দাপট দেখাতে পারেননি। বিশেষ করে শেষ দিকের উইকেটগুলো নিতে তাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। রিপন ও সাকলাইনের প্রতিরোধ প্রমাণ করেছে যে ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রতিভারা জাতীয় দলের বোলারদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে সক্ষম। রিশাদের এই স্পেল নির্বাচকদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে, তবে পেস বোলারদের কার্যকারিতা নিয়ে কিছুটা প্রশ্ন রয়েই গেল।

বিসিবি একাদশের এই জয় কেবল একটি প্রস্তুতিমূলক সাফল্য নয়, বরং এটি আসন্ন ২২টি ওয়ানডে ম্যাচের দীর্ঘ সূচির আগে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের একটি প্রয়াস। বিশেষ করে তানজিদের ফর্ম এবং লিটনের মিডল অর্ডারে মানিয়ে নেওয়া দলের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক দিক।

Leave a Comment