ভারত বিশ্বকাপে এতো লজ্জিত হয়নি কখনো।

পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের এক উজ্জ্বল জয়ের ধারাকে স্থলভাগে নামিয়ে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। রোববার নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ভারত ৭৬ রানে পরাজিত হয়েছে, যা এই বিশ্বকাপে ভারতের জন্য এক অভূতপূর্ব লজ্জার রেকর্ড। টানা সাফল্যের পর ভারতের এই হারের মাত্রা এতটাই বড় যে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য তা সহজে ভুলবার নয়।

ভারতীয় দলের জন্য এটি প্রথমবার, যখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনো প্রতিপক্ষের কাছে ৫০ রানের বেশি ব্যবধানের হার হয়েছে। এর আগে ২০১০ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের হার ছিল ৪৯ রান।

টি-টোয়েন্টিতে ভারতের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম হার। এর আগে ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৮০ রানে পরাজিত হয়েছিল ভারত ওয়েলিংটনে।

ভারতের বড় হারের তুলনা

পরাজয়বছরবিপক্ষব্যবধান (রান)টুর্নামেন্ট
৮০ রান২০১৯নিউজিল্যান্ড৮০টি-টোয়েন্টি
৭৬ রান২০২৬দক্ষিণ আফ্রিকা৭৬টি-টোয়েন্টি
৪৯ রান২০১০অস্ট্রেলিয়া৪৯টি-টোয়েন্টি

এই হারের ফলে ভারতের ১২ ম্যাচের জয়ের ধারাও শেষ হয়ে গেছে। ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর থেকে শুরু হওয়া এই জয়ের ধারা এখন বন্ধ। এটি ছিল বিশ্বের কোনো দলের টানা সর্বাধিক জয়ের রেকর্ড।

একই সঙ্গে ভারতীয় দলের ১৭ ম্যাচের জয়যাত্রা, যা আইসিসি পুরুষদের সীমিত ওভারের টুর্নামেন্টে চলছিল, তাতেও ছেদ পড়েছে। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের পর থেকে অজেয় হয়ে থাকা এই ধারাও এখন থমকে গেছে।

ব্যক্তিগত রেকর্ডে জসপ্রিত বুমরাহও এই ম্যাচে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। তাঁর উইকেট সংখ্যা বেড়ে ৩৩—টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ। তিনি রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও আর্শদীপ সিংকে (৩২ উইকেট) পিছনে ফেলেছেন।

অন্যদিকে, ব্যাটিংয়ে ভারতের জন্য এই আসরে শূন্য রানে আউট হওয়ার সংখ্যা ১১—যা এই আসরের মধ্যে সর্বাধিক এবং ভারতের নিজস্ব রেকর্ডও।

ম্যাচের বিশেষ পরিসংখ্যান:

  • মাঝের ওভারেই ভারতের ব্যাটিং লড়াই শেষ। ২০ রানে ৩ উইকেট হারায় দল।

  • ৭–১৬ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা সংগ্রহ করে ১১১ রান, ২ উইকেট হারিয়ে।

  • এটি ২০০৭ সালের সেমিফাইনালের পর কোনও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মধ্য ওভারগুলোর ভারতীয় সর্বোচ্চ যৌথ রান।

সরাসরি বলতে গেলে, এই ম্যাচটি ভারতের জন্য এক লজ্জাজনক অধ্যায় হিসেবে ইতিহাসে থাকবে, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের জন্য অভূতপূর্ব।

Leave a Comment