টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড

চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল। আজ আহমেদাবাদে ভারতের বিরুদ্ধে দশম ওভারে ডেভিড মিলার যখন ছক্কা হাঁকান, তখন এবারের বিশ্বকাপে ছক্কার সংখ্যা পৌঁছে যায় ৫১৮-এ। এটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের একদম নতুন রেকর্ড।

গতবারের ২০২৪ বিশ্বকাপে ৫১৭টি ছক্কা ছিল সর্বোচ্চ। কিন্তু তখন ৫২ ম্যাচে তা অর্জিত হয়েছিল। এবারের বিশ্বকাপে মাত্র ৪২টি ম্যাচে ৫১৮টি ছক্কা হাঁকিয়ে নতুন গড় তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি ম্যাচে গড়ে ছক্কার সংখ্যা প্রায় ১৩, যা ইতিমধ্যেই এক নতুন রেকর্ড হিসেবে ধরা হচ্ছে।

বিশ্বকাপে ছক্কার চলতি বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

পর্বম্যাচ সংখ্যামোট ছক্কাপ্রতি ম্যাচে গড় ছক্কা
সুপার এইট শুরু৫০৭১২.৬৭
পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড১ (বৃষ্টি বাতিল)
শ্রীলংকা-ইংল্যান্ড
ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা১০১০
মোট (৪২ ম্যাচে)৪২৫২৪১২.৪৮

বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্ব শুরু হওয়ার সময় ছক্কার সংখ্যা ছিল ৫০৭। প্রথম ম্যাচেই নতুন রেকর্ড হওয়ার কথা থাকলেও পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ বৃষ্টির কারণে বাতিল হয়ে যায়। পরের দিন শ্রীলংকা ও ইংল্যান্ড ম্যাচে সাতটি ছক্কা হাঁকলেও রেকর্ড স্পর্শ হয়নি। তবে ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচে ১০টি ছক্কা হাঁকিয়ে রেকর্ড নিশ্চিত হয়।

এবারের গড় ছক্কার হার আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। ২০১০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২৭ ম্যাচে ২৭৮টি ছক্কা হয়েছিল, যা ম্যাচপ্রতি গড়ে ১০.৩ ছক্কার সমান। কিন্তু এবার ৪২ ম্যাচে ৫২৪টি ছক্কা, ম্যাচপ্রতি গড়ে ১২.৪৮, যা এক বিশাল উন্নতি।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, খেলোয়াড়দের আধুনিক ব্যাটিং ক্ষমতা, ব্যাটের উন্নত প্রযুক্তি এবং শক্তিশালী ব্যাটিং কন্ডিশন এবারের বিশ্বকাপে ছক্কার এই বিস্ফোরণের মূল কারণ। বিশেষত ডেভিড মিলারের ছক্কা হাঁকা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার শক্তিশালী ব্যাটিং একে স্মরণীয় করে তুলেছে।

এভাবে, ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুধু শিরোপার লড়াই নয়, ছক্কা সংখ্যার দিক থেকেও নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে।

Leave a Comment