২০০ রানের রেকর্ড ও আফগানদের দাপুটে বিশ্বকাপ সমাপ্তি

চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের যাত্রা শেষ করল আফগানিস্তান, তবে তা ছিল অত্যন্ত গৌরবময় ও রেকর্ডগড়া। চেন্নাইয়ের এম. এ. চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে কানাডাকে ৮২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে রশিদ খানের দল। যদিও সেমিফাইনালের দৌড় থেকে আগেই ছিটকে গিয়েছিল তারা, তবুও টানা দুই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে দেশে ফিরছে যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশটি। আগের ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৫ উইকেটে হারানোর পর আজ কানাডার বিপক্ষে এই জয় আফগান ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক যোগ করেছে।

আফগানদের রেকর্ডগড়া ব্যাটিং তাণ্ডব

চেন্নাইয়ের স্পিন-সহায়ক উইকেটে টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে আফগানিস্তান। দুই ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। বিশেষ করে ইব্রাহিম জাদরান আজ ছিলেন বিধ্বংসী রূপে। মাত্র ৫৬ বলে ৯৫ রানের এক দুর্দান্ত অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো আফগান ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগৃহীত রান। অপর প্রান্তে রহমানউল্লাহ গুরবাজ ১৮ বলে ৩০ রানের একটি কার্যকরী ইনিংস খেলেন। মিডল অর্ডারে সেদিকউল্লাহ আতাল ৩২ বলে ৪৪ রানের মারকুটে ইনিংস খেললে নির্ধারিত ২০ ওভারে আফগানিস্তান ৩ উইকেট হারিয়ে ২০০ রান সংগ্রহ করে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই আফগানিস্তানের প্রথম ২০০ রানের মাইলফলক।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান ও রেকর্ডসমূহ:

বিষয়আফগানিস্তানের পারফরম্যান্সপ্রভাব/রেকর্ড
দলীয় মোট রান২০০/৩ (২০ ওভার)বিশ্বকাপে আফগানদের সর্বোচ্চ স্কোর।
সেরা ব্যাটসম্যানইব্রাহিম জাদরান (৯৫*)ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড।
পাওয়ারপ্লে স্কোর৫৫/০শুরুতেই শক্ত ভিত তৈরি।
সেরা বোলারমোহাম্মদ নবী (৪/৭)ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার।
জয়ের ব্যবধান৮২ রানবড় ব্যবধানে জয়।

কানাডার বিপর্যয় ও মোহাম্মদ নবীর ভেলকি

২০১ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কানাডা শুরু থেকেই আফগান বোলারদের তোপের মুখে পড়ে। বিশেষ করে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবীর অফ-স্পিন জাদুতে দিশেহারা হয়ে পড়ে কানাডিয়ান টপ-অর্ডার। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা যুবরাজ সামরা আজ মাত্র ১৭ রানে সাজঘরে ফেরেন। মাত্র ৪৮ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় উত্তর আমেরিকার এই দলটি। মোহাম্মদ নবী তার নির্ধারিত ৪ ওভারে মাত্র ৭ রান খরচ করে তুলে নেন ৪টি মূল্যবান উইকেট, যা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। অধিনায়ক রশিদ খান ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন। শেষ পর্যন্ত কানাডা ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১৮ রান তুলতে সক্ষম হয়।

বিশ্বকাপের অর্জন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

টুর্নামেন্টের শুরুতে বড় দলগুলোর কাছে হেরে বিদায় নিশ্চিত হলেও শেষ দুই ম্যাচে আফগানিস্তানের ঘুরে দাঁড়ানো ছিল প্রশংসনীয়। ইব্রাহিম জাদরানের ব্যাটিং এবং নবীর বোলিং দক্ষতা প্রমাণ করে যে, ছোট দলগুলোর মধ্যে আফগানিস্তান বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং যে কোনো কন্ডিশনে তারা লড়াই করতে সক্ষম। এবারের বিশ্বকাপে ২০০ রান করার কৃতিত্ব তাদের ব্যাটিং গভীরতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রমাণ দেয়। যদিও তারা পরবর্তী রাউন্ডে যেতে পারেনি, তবে এই জয়গুলো আগামী দিনের ক্রিকেটে তাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।

Leave a Comment