জিম্বাবুয়ের জোড়া বিস্ময়, শীর্ষে রাজার দল

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে একের পর এক চমক দেখিয়েই এগিয়ে চলেছে জিম্বাবুয়ে। সাবেক দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে গ্রুপ ‘বি’ থেকে শীর্ষ দল হিসেবে সুপার এইটে জায়গা নিশ্চিত করেছে সিকান্দার রাজার নেতৃত্বাধীন দল। ১৩ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করার পর কলম্বোয় স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে জিম্বাবুয়ে প্রমাণ করেছে—এবার তারা কেবল অংশ নিতে আসেনি, লড়াই করতেই এসেছে।

টসে জিতে আগে ব্যাটিং করে শ্রীলঙ্কা ২০ ওভারে ৭ উইকেটে তোলে ১৭৮ রান। জবাবে জিম্বাবুয়ে ১৯.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এটি জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়, যা দলটির আত্মবিশ্বাস ও ব্যাটিং গভীরতারই প্রতিফলন।

শ্রীলঙ্কার ইনিংসের শুরুটা ছিল ঝড়ো। ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা আগের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করার ধারাবাহিকতা ধরে রেখে খেলেন ৬২ রানের ইনিংস। প্রথম ছয় ওভারে শ্রীলঙ্কা তোলে ৬১ রান। তবে মাঝের ওভারগুলোতে গতি কমে যায়; ১০০ রানে পৌঁছাতে লেগে যায় আরও ছয় ওভার। শেষ আট ওভারে তারা সংগ্রহ করতে পারে ৭৮ রান। জিম্বাবুয়ের লেগ স্পিনার গ্রায়েম ক্রেমার ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

১৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ের শুরুটা ছিল আত্মবিশ্বাসী। ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ৪৮ বলে অপরাজিত ৬৩ রান করে ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন। আগের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনি করেছিলেন অপরাজিত ৬৪ রান। তাদিওয়ানাশে মারুমানি ২৬ বলে ৩৪ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। মাঝের দিকে দ্রুত রান তোলেন রায়ান বার্ল, মাত্র ১২ বলে ২৩ রান করে চাপ কমান।

তবে নাটকীয়তা তৈরি হয় শেষ ভাগে। সমীকরণ যখন ৫০ বলে ৮১ রান, তখন ক্রিজে নামেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। মাত্র ২৬ বলে ৪৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন তিনি। রাজা আউট হওয়ার সময় জিম্বাবুয়ের প্রয়োজন ছিল ১০ বলে ১২ রান। পরের চার বলে আসে মাত্র ২ রান, ফলে শেষ ওভারে দরকার পড়ে ৮ রান। মাহিশ তিকশানার করা ওভারের প্রথম বলেই টনি মুনিওঙ্গা ছক্কা হাঁকালে কার্যত ম্যাচ সেখানেই শেষ হয়ে যায়।

নিচে ম্যাচের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:

দলরানউইকেটওভারফলাফল
শ্রীলঙ্কা১৭৮২০পরাজিত
জিম্বাবুয়ে১৭৯১৯.৩৬ উইকেটে জয়

উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স

খেলোয়াড়দলরান/উইকেটবল/ওভার
পাথুম নিশাঙ্কাশ্রীলঙ্কা৬২ রান
ব্রায়ান বেনেটজিম্বাবুয়ে৬৩* রান৪৮ বল
সিকান্দার রাজাজিম্বাবুয়ে৪৫ রান২৬ বল
গ্রায়েম ক্রেমারজিম্বাবুয়ে২ উইকেট৪ ওভারে ২৭ রান

দুই সাবেক চ্যাম্পিয়নকে হারিয়ে জিম্বাবুয়ে যে কেবল অঘটন ঘটিয়েছে তা নয়, বরং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সুপার এইটে তাদের এই আত্মবিশ্বাসী যাত্রা কত দূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

Leave a Comment