৪৩৫২ দিন পর নেপাল ক্রিকেট দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নতুন জয়ের স্বাদ পেয়েছে। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নেপাল স্কটল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস রচনা করেছে। এটি নেপালের জন্য তাদের তৃতীয় টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়, যেখানে আগের দুটি জয় ছিল ২০১৪ সালে হংকং ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে।
দীর্ঘ ১২ বছরের পর এই জয়ের তাৎপর্য আরও গভীর, কারণ ২০১৪ সালের পর নেপালের জন্য বিশ্বকাপ জয়ের খরা দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। নেপালকে ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাত্র ১ রানে হারার এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪ রানে হারের স্মৃতি থেকে নতুন প্রেরণা মিলেছে।
ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে স্কটল্যান্ড ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৭০ রান সংগ্রহ করে। ওপেনার মাইকেল জোনস তার ৭১ রানের শক্তিশালী ইনিংস খেলেন।
নেপালের ব্যাটিংয়ে দীপেন্দ্র সিং ঐরী ২৩ বলেই ফিফটি করে ম্যাচসেরা হয়। গুলশান ঝা ও ঐরী শেষ ওভারে দলের প্রয়োজনীয় রান তোলেন এবং শেষ পর্যন্ত নেপাল ১৯.২ ওভারেই লক্ষ্য পূরণ করে জয় নিশ্চিত করে। বিশেষত শেষ ৫ ওভারে ৫৯ রানের চ্যালেঞ্জ ছিল যা নেপালের জন্য সহজ মনে হচ্ছিল না।
নেপালের জয় এবং মূল পারফরম্যান্সের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| দলের নাম | স্কোর | ওভার | প্রধান ব্যাটসম্যান | রান | স্ট্রাইক রেট | প্রধান বোলার | উইকেট | ইকোনমি |
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| স্কটল্যান্ড | 170/9 | 20 | মাইকেল জোনস | 71 | 142.0 | মাইকেল লিস্ক | 2 | 3.33 |
| নেপাল | 171/3 | 19.2 | দীপেন্দ্র ঐরী | 50* | 217.4 | মাইকেল লিস্ক | 1 | 3.50 |
| গুলশান ঝা | 24* | 141.2 |
নেপালের সমর্থকরা এই জয়ে উল্লাসিত হয়েছেন। বিশেষ করে শেষ ৫ ওভারের উত্তেজনাপূর্ণ খেলা এবং দীপেন্দ্র ঐরীর ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে দলকে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেওয়ায় এই জয় অনেক বিশেষ মনে করা হচ্ছে। এটি শুধু একটি ম্যাচ জয় নয়, নেপাল ক্রিকেটের জন্য আত্মবিশ্বাসের নতুন অধ্যায়।
নেপালের এই জয়ের সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে দীর্ঘদিনের অপেক্ষা এবং ধৈর্যের গল্পও জড়িত। ক্রিকেট বিশ্বে এটি নেপালের জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
