রশিদ খানের টি-টোয়েন্টি ইতিহাস

আফগানিস্তানের অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা লেগ স্পিনার রশিদ খান ক্রিকেটের ইতিহাসে অনন্য কীর্তি রচনা করেছেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচে রশিদ প্রথম বোলার হিসেবে ৭০০ টি-টোয়েন্টি উইকেট স্পর্শ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছেন। এই কৃতিত্ব কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং আফগানিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

দিল্লির স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে রশিদ খান ১৬তম ওভারে মোহাম্মদ আরফানকে আউট করে ৭০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ম্যাচ শুরুর আগে তার ঝুলিতে ছিল ৬৯৯ উইকেট। প্রথম ৩.২ ওভারের পর অবশেষে আসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। মাত্র ২০ বল খেলে ১৭ রান খরচ করে আরফান রিভার্স সুইপ খেলার চেষ্টা করতে গিয়ে বল মিস করে নিজের স্টাম্প ভেঙে ফেলেন, আর রশিদ হয়ে উঠেন নতুন ইতিহাসের সাক্ষী।

উল্লেখযোগ্য, রশিদের এই ৭০০ উইকেটের মধ্যে ১৯১টি উইকেট আফগানিস্তানের হয়ে এসেছে। এই কৃতিত্ব দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে তাকে শীর্ষ স্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছে। রশিদ নিজে বলেন, “৭০০ উইকেট শুধু একটি সংখ্যা। আমি থেমে থাকতে চাই না। দলের প্রয়োজনে সবসময় শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করি।” ব্যক্তিগত কৃতিত্বের মুহূর্তেও তিনি সংযত ছিলেন, কারণ দলের সুপার এইটে প্রবেশ নিশ্চিত করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রশিদ খানের ধারাবাহিক সাফল্য কেবল মাইলফলক নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটে বোলিংয়ের নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। তার কৌশল, দক্ষতা এবং ধারাবাহিকতা ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে প্রশংসা ও অনুপ্রেরণা জাগিয়েছে।

নিম্নে টি-টোয়েন্টিতে শীর্ষ উইকেটশিকারীদের তালিকা দেওয়া হলো:

অবস্থানখেলোয়াড়মোট টি-টোয়েন্টি উইকেটদেশআফগানিস্তানের হয়ে উইকেট
রশিদ খান৭০০আফগানিস্তান১৯১
ডোয়াইন ব্রাভো৬৩১ওয়েস্ট ইন্ডিজ
সুনীল নারিন৬১৩ট্রিনিডাড/বাংলাদেশ
টিম সাউদি৫১৬নিউজিল্যান্ড১৬৪
ইশ সধি৫০০নিউজিল্যান্ড১৬২

রশিদের ধারাবাহিক সাফল্য শুধু সংখ্যাত্মক কৃতিত্ব নয়, বরং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বোলিংয়ের নতুন মান তৈরি করেছে। আফগানিস্তানের হয়ে তার অবদান দেশকে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। বিশ্বকাপের আগে রশিদ জানিয়েছিলেন, দলের প্রয়োজনে সর্বদা শতভাগ পারফরম্যান্স দেওয়া তার মূল লক্ষ্য।

এই মুহূর্তটি ক্রিকেটের ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। রশিদ খানকে বিশ্বের অন্যতম সেরা লেগ স্পিনার হিসেবে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং আফগানিস্তানের ক্রিকেটকে নতুন গৌরব এনে দিয়েছে। তাঁর অসাধারণ বোলিং দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক মানের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে আরও অনন্য কীর্তির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

Leave a Comment