কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে যেন দুই বছর আগের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে দিচ্ছিল না পাকিস্তান। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ডালাসের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হারের সেই দুঃসহ স্মৃতি এখনো ক্রিকেট ভক্তদের মনে তরতাজা। তবে এবার কলম্বোর মাঠে সেই তিক্ত স্মৃতি পেছনে ফেলে ৩২ রানের দাপুটে জয়ে প্রতিশোধ সম্পন্ন করেছে বাবর আজমের উত্তরসূরিরা। এই জয়ের ফলে এবারের বিশ্বকাপে টানা দুই জয় তুলে নিয়ে সুপার এইটের লড়াইয়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে গেল পাকিস্তান।
ম্যাচের গতিপ্রকৃতি ও ইনিংস বিশ্লেষণ
ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার মোহাম্মদ মহসিন হুঙ্কার দিয়েছিলেন যে, পাকিস্তানই চাপে থাকবে। কিন্তু মাঠে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের ওপেনাররা উড়ন্ত সূচনা করেন। সাহিবজাদা ফারহান ও সাইম আইয়ুব মাত্র ৫ ওভারেই স্কোরবোর্ডে ৫৪ রান যোগ করেন। যদিও সাইম আইয়ুব ব্যক্তিগত ১৯ রানে আউট হন, তবে সাহিবজাদা ফারহান ছিলেন বিধ্বংসী মেজাজে। মাত্র ২৭ বলে অর্ধশতক হাঁকিয়ে তিনি পাকিস্তানের বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দেন।
পাকিস্তানের ব্যাটিং ইনিংসের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
| ব্যাটসম্যান | রান | বল | স্ট্রাইক রেট |
| সাহিবজাদা ফারহান | ৭৩ | ৪১ | ১৭৮.০৫ |
| বাবর আজম | ৪৬ | ৩২ | ১৪৩.৭৫ |
| শাদাব খান | ৩০ | ১২ | ২৫০.০০ |
| বোলার (যুক্তরাষ্ট্র) | উইকেট | রান | ইকোনমি |
| শ্যাডলি ফন শালভিক | ৪ | ২৫ | ৬.২৫ |
মাঝপথে বাবর আজম ও ফারহানের ৫২ বলে ৮২ রানের জুটি পাকিস্তানকে ২০০ রানের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। শেষ দিকে শাদাব খানের ১২ বলে ৩০ রানের ঝোড়ো ইনিংস সেই লক্ষ্যকে আরও সহজ করে দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ মিডিয়াম পেসার শ্যাডলি ফন শালভিক একাই বাধা হয়ে দাঁড়ান। শেষ ওভারে অসাধারণ বোলিং করে তিনি ৪ উইকেট তুলে নিলে পাকিস্তান ৯ উইকেটে ১৯০ রানে থামতে বাধ্য হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই ও পাকিস্তানের জয় নিশ্চিতকরণ
১৯১ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে যুক্তরাষ্ট্র শুরুটা মন্দ করেনি। উদ্বোধনী জুটিতে ৪.৪ ওভারে ৪২ রান তুলে তারা পাকিস্তানের বোলারদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছিল। তবে মোহাম্মদ নেওয়াজ এই জুটি ভাঙার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি পাকিস্তানের হাতে চলে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে প্রায় একাই লড়াই চালিয়ে যান শুভম রঞ্জানে। ৩০ বলে ৫১ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেললেও দলের অন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। শায়ান জাহাঙ্গীর ৪৯ রান করলেও বাকিরা ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে।
পাকিস্তানের স্পিনার উসমান তারিক ও অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার শাদাব খান মাঝের ওভারগুলোতে রান আটকে দিয়ে উইকেট তুলে নেন। উসমান তারিক ৩টি এবং শাদাব খান ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান করতে সক্ষম হয়।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও পরবর্তী সমীকরণ
৪১ বলে ৭৩ রানের মারমুখী ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন সাহিবজাদা ফারহান। এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তান প্রমাণ করল যে, তারা ঘুরে দাঁড়াতে জানে। প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারানোর পর এবার যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে গ্রুপ টেবিলের শীর্ষস্থানে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করল তারা। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র লড়াকু মানসিকতা দেখালেও বড় স্কোরের চাপে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়।
![মার্কিনদের হারিয়ে পাকিস্তানের প্রতিশোধ ও সুপার এইটের পথে যাত্রা 1 মার্কিনদের হারিয়ে পাকিস্তানের প্রতিশোধ ও সুপার এইটের পথে যাত্রা Cricket Gurukul [ ক্রিকেট গুরুকুল ] GOLN](https://cricketgoln.com/wp-content/uploads/2026/02/মার্কিনদের-হারিয়ে-পাকিস্তানের-প্রতিশোধ-ও-সুপার-এইটের-পথে-যাত্রা.jpg)