বাংলাদেশের ক্রিকেটের অবকাঠামো ও মাঠের মান উন্নয়নে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলামের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, দেশের ক্রিকেটকে বিকেন্দ্রীকরণ এবং জেলা পর্যায়ে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মোট ১১টি ‘ক্রিকেট হাব’ তৈরি করা হচ্ছে। আজ মিরপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন বিসিবির গ্রাউন্ডস বিভাগের প্রধান ও সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট।
প্রথম ধাপে ৮টি হাবে মহাযজ্ঞ
খালেদ মাসুদ পাইলট জানান, ১১টি হাবের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৮টি ক্রিকেট হাবে কাজ শুরু হবে। এই ৮টি ভেন্যুর মূল মাঠ, আউটার এবং অনুশীলন সুবিধা মিলিয়ে মোট ১৩৭টি নতুন উইকেট বা পিচ তৈরি করা হবে। এই তালিকায় রয়েছে ফতুল্লা, বগুড়া, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল এবং কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট কেন্দ্রগুলো। আগামী মে থেকে জুন মাসের মধ্যে এই উইকেট নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বোর্ড।
নিচে প্রথম ধাপের ৮টি হাবে প্রস্তাবিত উইকেটের সংখ্যা বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো:
| ক্রিকেট হাবের নাম | প্রস্তাবিত উইকেটের সংখ্যা | গুরুত্ব ও লক্ষ্য |
| বিকেএসপি (৩ ও ৪ নং মাঠ) | ১৯টি | উদীয়মান খেলোয়াড়দের নিবিড় অনুশীলন |
| বরিশাল | ২৩টি | আঞ্চলিক ক্রিকেটের মানোন্নয়ন |
| খুলনা | ১৫টি | জাতীয় মানের পেস ও স্পিন উইকেট তৈরি |
| ফতুল্লা | ১৩টি | ঢাকা লিগ ও ঘরোয়া ম্যাচের চাপ সামলানো |
| পূর্বাচল (শেখ হাসিনা স্টেডিয়াম এলাকা) | ১৩টি | আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন নতুন ক্রিকেট কেন্দ্র |
| রাজশাহী | ১২টি | উত্তরাঞ্চলের প্রতিভা অন্বেষণ |
| বগুড়া | ১০টি | হাই-পারফরম্যান্স ইউনিটের অনুশীলন |
| কক্সবাজার | ০৮টি | পর্যটন ও ক্রিকেটের সমন্বয় |
স্থানীয় কিউরেটর ও বিসিবির সমন্বয়
এই বিশাল প্রকল্পের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো স্থানীয় দক্ষ জনশক্তির ব্যবহার। বিসিবি কেবল মাটি, রোলার বা ঘাস কাটার যন্ত্রের মতো কারিগরি সহায়তা দেবে, তবে উইকেট তৈরির মূল দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় কিউরেটররাই। খালেদ মাসুদ বলেন, “আমরা কিউরেটরদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং আমাদের পরিকল্পনা শেয়ার করেছি। মাঠের দায়িত্ব তাঁদের কাছেই থাকবে, বিসিবি থেকে আমরা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সাপোর্ট দেব।”
বিসিবির এই উদ্যোগের ফলে কেবল স্টেডিয়ামগুলোই উপকৃত হবে না, বরং সরঞ্জামগুলো পর্যায়ক্রমে স্থানীয় একাডেমি, স্কুল-কলেজ এবং উপজেলা পর্যায়ের মাঠগুলোতেও সরবরাহ করা হবে। এর ফলে তৃণমূল পর্যায়ের ক্রিকেটাররা মানসম্মত উইকেটে খেলার সুযোগ পাবে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিসিবি পরিচালক ও সাবেক ক্রিকেটার আবদুর রাজ্জাক এই উদ্যোগকে ‘বিশাল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি মনে করেন, যদি জুনের মধ্যে এই উইকেটগুলো ব্যবহারের উপযোগী করা যায়, তবে আগামী মৌসুম থেকে জেলাভিত্তিক লিগগুলো আয়োজন করা অনেক সহজ হবে। রাজ্জাকের মতে, “আমরা যদি এটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারি, তবে ঢাকার বাইরের লিগগুলোতে আমূল পরিবর্তন আসবে এবং খেলোয়াড়দের প্রস্তুতির মানও বৃদ্ধি পাবে।”
উইকেটগুলো তৈরি হলে পিচের বৈচিত্র্য আসবে, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমাদের ব্যাটার ও বোলারদের পারফরম্যান্সের উন্নতিতে সহায়ক হবে। আধুনিক রোলার, ঘাস কাটার মেশিন এবং পিচ কাভারের সহজলভ্যতা জেলা পর্যায়ের মাঠগুলোকে নতুন রূপ দেবে বলে আশা করছে দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
![তৃণমূল ক্রিকেটের উন্নয়নে বিসিবির মেগা প্রজেক্ট: ১৩৭ নতুন উইকেট 1 তৃণমূল ক্রিকেটের উন্নয়নে বিসিবির মেগা প্রজেক্ট ১৩৭ নতুন উইকেট Cricket Gurukul [ ক্রিকেট গুরুকুল ] GOLN](https://cricketgoln.com/wp-content/uploads/2026/02/তৃণমূল-ক্রিকেটের-উন্নয়নে-বিসিবির-মেগা-প্রজেক্ট-১৩৭-নতুন-উইকেট.jpg)