ভারতীয় যুবাদের ‘উসকানিমূলক’ আচরণের বিচার চায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড

মাঠে লড়াইটা ছিল এশীয় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরার। ব্যাট ও বলের সেই দাপুটে যুদ্ধে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ১৯১ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ১৩ বছর পর শিরোপা জয় করেছে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল। কিন্তু মাঠের সেই জয়োল্লাস এবার রূপ নিয়েছে আইনি লড়াইয়ে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বস্তি ছাপিয়ে এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটারদের ‘উসকানিমূলক’ ও ‘অপ্রীতিকর’ আচরণের বিষয়টি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ভারতীয় যুবাদের এই অপেশাদার আচরণের বিরুদ্ধে তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসির কাছে নালিশ জানাবে।

দুবাইয়ের সেই হাইভোল্টেজ ফাইনালে পাকিস্তানের জয়ের কারিগর ছিলেন সামির মিনহাস। তাঁর বিধ্বংসী ১১২ বলে ১৭২ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসের ওপর ভর করে পাকিস্তান ৩৪৭ রানের বিশাল পাহাড় গড়েছিল। জবাবে ভারতীয় দল মাত্র ১৫৬ রানে অলআউট হয়ে গেলে বড় জয় পায় পাকিস্তান। তবে পাকিস্তানের অভিযোগ, ম্যাচ চলাকালীন ভারতীয় ক্রিকেটাররা মাত্রাতিরিক্ত স্লেজিং এবং কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য মোটেও শিক্ষণীয় নয়।

নিচে ফাইনাল ম্যাচের সংক্ষিপ্ত চিত্র এবং পিসিবির অভিযোগের মূল পয়েন্টগুলো তুলে ধরা হলো:

অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ ফাইনাল ও বিবাদের চিত্র

ক্যাটাগরিবিবরণ ও পরিসংখ্যান
ম্যাচের ফলাফলপাকিস্তান ১৯১ রানে জয়ী (চ্যাম্পিয়ন)।
পাকিস্তানের স্কোর৩৪৭/৫ (৫০ ওভার)।
ভারতের স্কোর১৫৬/১০ (৩৪.৫ ওভার)।
প্রধান অভিযোগউসকানিমূলক স্লেজিং ও ক্রিকেটীয় চেতনা লঙ্ঘন।
অভিযোগের মাধ্যমআইসিসি (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল)।
মূল দাবিভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দোষীদের শাস্তি প্রদান।

পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ এবং সাবেক জাতীয় অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ এই বিষয়ে অত্যন্ত কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তাঁর মতে, মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে কিন্তু তা কখনোই ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বর্ণবাদী স্লেজিংয়ের পর্যায়ে যাওয়া উচিত নয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কর্তৃক আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভিও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ক্রিকেটের সম্মান রক্ষার্থেই তারা আইসিসির দ্বারস্থ হচ্ছেন।

মহসিন নাকভি গণমাধ্যমকে বলেন, “ভারতীয় ক্রিকেটাররা বারবার আমাদের ছেলেদের উসকানি দিয়েছে। খেলাধুলা এবং রাজনীতিকে সব সময় আলাদা রাখা উচিত। আমরা চাই আইসিসি ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এর যথাযথ ব্যবস্থা নিক।” অন্যদিকে কোচ সরফরাজ আহমেদ বলেন, “ভারত যা করেছে তা তাদের সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় দেয়। আমরা জয় পেয়েও কোনো উসকানিমূলক আচরণ করিনি, যা প্রকৃত ক্রিকেটীয় ভদ্রতা।”

ঐতিহাসিকভাবেই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে মাঠের ভেতরে চরম উত্তেজনা থাকে। তবে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে, যেখানে খেলোয়াড়দের আচরণ ও মানসিকতা গড়ার প্রাথমিক সময়, সেখানে এমন আচরণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। পিসিবির এই কঠোর অবস্থান এখন বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর বড় এক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment