হিমালয়ের ইতিহাসে চমক দেওয়ার সুযোগ নেপাল হারালো

নেপাল ক্রিকেট দল আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করল, যদিও জয় তাদের কাছে এড়িয়ে গেল। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মাত্র এক রান দূরে থাকা “Nearly Men” আজ (৮ ফেব্রুয়ারি) মুম্বাইয়ের ওয়াংখেডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ বল পর্যন্ত উত্তেজনার শেষ সীমায় পৌঁছেছিল। মাত্র একটি ছয় তাদের জন্য বিশ্ব ক্রিকেটে “হিমালয়ান স্তরের চমক” ঘটাতে পারত।

টানা টিকে থাকা ইংল্যান্ডকে ১৮৫ রানের লক্ষ্য দেওয়ার পর, নেপালের ব্যাটসম্যানরা শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছায়া ফেলেছে। দলের ক্যাপ্টেন দীপেন্দ্র সিংয়ের ৪৪, রোহিত পাওদেলের ৩৯, লোকেশ বামের ৩৯ এবং কুশল ভুর্টেলের ২৯ রানের ইনিংস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

বিশেষ করে শেষ ওভারটি ছিল সমগ্র ম্যাচের মোড় ঘুরানোর মুহূর্ত। নেপাল জোফ্রা আর্চারের বিরুদ্ধে তিনটি ছয় হাঁকিয়ে ২২ রান তুলেছিল, যা তার কেরিয়ারের সর্বনিম্ন টেস্টওভার হিসেবে ধরা যেতে পারে। পরের ওভার লুক উডের বিরুদ্ধে ১৪ রান হওয়ায় নেপালের জয় সম্ভাবনা বাড়ছিল। তবে শেষ বল পর্যন্ত মাত্র একটি ছয় এলেই তারা ইতিহাস রচন করতে পারত; কিন্তু লোকেশ বামের সেই চূড়ান্ত চেষ্টা ব্যর্থ হলো। ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত চার রানে জয়লাভ করল।

নেপালের বোলার নন্দন যাদব ম্যাচ শেষে বললেন, “গর্ব আর আফসোস একসাথে অনুভূত হচ্ছে। আমরা এমন শক্তিশালী দলের বিপক্ষে প্রতিযোগিতা করেছি এবং খুব কাছাকাছি ছিলাম। তাই অনুভূতি ৫০-৫০।”

নেপালের পারফরম্যান্স এবং ইংল্যান্ডের কৌশল নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত তুলনামূলক টেবিল:

বিষয়নেপালইংল্যান্ড
র‍্যাঙ্কিং (T20I)163
লক্ষ্য185184
প্রধান ব্যাটসম্যানদীপেন্দ্র (44), লোকেশ (39)উইল জ্যাকস (PL)
উল্লেখযোগ্য ওভারআর্চার-৩ ছয়, উড-১৪ রানশেষ ওভার ২০ রান
ফলাফলপরাজয়, ৪ রানেজয়, ৪ রানে

নেপালের ক্রিকেট ইতোমধ্যেই বিশ্বমঞ্চে আত্মপ্রকাশ করেছে। ২০২৩ সালে মঙ্গোলিয়ার বিরুদ্ধে দ্রুততম T20I অর্ধশতক ধারন, ও ২০২২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সিরিজে হারানো তাদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছে। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ নেপাল (CAN) ২০৩০ সালের মধ্যে পূর্ণ ICC সদস্য হওয়া এবং টেস্ট ক্রিকেট খেলার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে।

আগামী ম্যাচগুলোও মুম্বাইয়ে ওয়াংখেডে অনুষ্ঠিত হবে: ইতালি (১২ ফেব্রুয়ারি), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (১৫ ফেব্রুয়ারি) এবং স্কটল্যান্ড (১৭ ফেব্রুয়ারি)। ১৭,০০০ সমর্থক নেপালকে উজ্জীবিত করেছে এবং তাদের মনে হচ্ছে, মুম্বাইকে নতুন “হোম গ্রাউন্ড” হিসেবে তারা কাজে লাগাতে পারবে।

নেপালের এই পারফরম্যান্স বিশ্ব ক্রিকেটকে শিখিয়ে দিয়েছে—যে ছোট দলও বড় চমক সৃষ্টি করতে পারে।

Leave a Comment