অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ক্রিকেটার রিকি পন্টিং সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন তাঁর মতামত যে, আসন্ন আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের তরুণ ওপেনার অভিষেক শর্মা হতে পারেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। পন্টিংয়ের মতে, অভিষেক কেবল ম্যাচ-উইনারই নন, পুরো টুর্নামেন্টের দিকনির্ধারণকারী প্রভাব ফেলতে সক্ষম।
একটি আইসিসি রিভিউ অনুষ্ঠানে পন্টিং বলেন, “আন্তর্জাতিক বড় মঞ্চে অভিষেকের তুলনামূলক কম অভিজ্ঞতা তার জন্য সুবিধা হতে পারে। এটি তাকে আরও নির্ভীকভাবে, ভয় ছাড়াই খেলতে সাহায্য করবে। আর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এমন নির্ভীকতা অনেক বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “অভিষেক একজন স্টার। সে চাইলে এই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হতে পারে, এমনকি ‘প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট’ হওয়ার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। যদি সে সেরাটা খেলতে পারে, তাহলে ভারতের পরাজয় প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে। আর যদি না করতে পারে, তাহলে ভারতও অন্য যেকোনো দলের মতোই ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।”
২০১৮ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য অভিষেক শর্মা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজের প্রমাণ দিয়েছেন। ৩৭টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১,২৬৭ রান করেছেন তিনি, যেখানে তার স্ট্রাইক রেট প্রায় ১৯৫, যা তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিং সক্ষমতার পরিচায়ক।
আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের কোচ হিসেবে অভিষেকের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে পন্টিং বলেন, “অল্প বয়সেই তার মধ্যে এমন কিছু দেখা গিয়েছিল যা সাধারণ ক্রিকেটারের মধ্যে দেখা যায় না। সেই সম্ভাবনা এখন বিশ্বমঞ্চে বাস্তব রূপ নিচ্ছে।”
বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১৮২ রান করে দারুণ ফর্মে রয়েছেন অভিষেক।
নিচের টেবিলে তাঁর সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্স তুলে ধরা হলো:
| বছর | ম্যাচ সংখ্যা | রান | সর্বোচ্চ স্কোর | স্ট্রাইক রেট | হাফ-সেঞ্চুরি | সেঞ্চুরি |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ২০১৮–২০২৬ | ৩৭ | ১,২৬৭ | ৯৭* | ১৯৫ | ৯ | ০ |
| নিউজিল্যান্ড সিরিজ, ২০২৬ | ৫ | ১৮২ | ৭৫ | ১৯০+ | ২ | ০ |
পন্টিংর ভাষায়, “অভিষেকের এই ফর্ম, ধৈর্য এবং সাহসী ব্যাটিং মিশ্রণ তাকে বিশ্বের সেরা টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে তুলনীয় করে তুলেছে। বিশ্বকাপে তাকে নজরদারি করতে হবে সব দলের।”
এইবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারতের জন্য এক নতুন আশা ও উদ্দীপনা নিয়ে এসেছে। অভিষেক শর্মা যদি এই ফর্ম ধরে রাখতে পারেন, তাহলে তিনি কেবল ভারতের জয়ের সিঁড়ি নয়, পুরো টুর্নামেন্টের উত্তেজনা ও দিকনির্দেশকও হয়ে উঠবেন।
