সাকিব আল হাসানকে ফিরানো: বিসিবির পদক্ষেপ নাকি রাজনৈতিক কৌশল

সাকিব আল হাসানের জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন বিতর্ক

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার ও আলোচিত তারকা সাকিব আল হাসানকে জাতীয় দলে ফেরানোর সম্ভাবনা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, নির্বাচকরা ভবিষ্যতে সাকিবকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ভাবছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে নির্বাচক প্যানেলের মূল্যায়ন, খেলোয়াড়ের ফিটনেস ও উপস্থিতির সক্ষমতা, এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির সমন্বয়ে।

২০২৪ সালের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টের পর থেকে সাকিব জাতীয় দলে খেলতে পারেননি। সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, তার অনুপস্থিতির পেছনে রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সাকিবের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক বৃদ্ধি পায়।

নিচের টেবিলে ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে সাকিবের জাতীয় দলে অনুপস্থিতি ও উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি তুলে ধরা হলো:

বছর ও তারিখঘটনাপ্রভাব/প্রতিক্রিয়া
২০২৪, জানুয়ারিসংসদ নির্বাচনে জয়রাজনৈতিক পরিচয় বৃদ্ধি, জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তির অনিশ্চয়তা
২০২৪, আগস্টকানাডার টি-টোয়েন্টি লীগে অংশগ্রহণদেশব্যাপী সমালোচনা, অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে
২০২৪, অক্টোবরদক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুর টেস্টমাঠে না আসায় বিতর্ক, সমর্থক ও সমালোচকের বিভক্তি
২০২৫, নভেম্বরসামাজিক মাধ্যমে বাদানুবাদপুনর্বাসন ও দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে উত্তেজনা
২০২৬, জানুয়ারিবিসিবি সভা ও ঘোষণাপত্রজাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা প্রকাশ

বিসিবি মিডিয়া কমিটির প্রধান আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, সাকিব যদি ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, খেলার জন্য প্রাপ্য থাকেন এবং সিরিজের সময় উপস্থিত থাকতে পারেন, তবে তাকে জাতীয় দলে নেওয়া হতে পারে। সাকিব ইতিমধ্যেই হোম ও অ্যাওয়ে সিরিজে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

তবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনও বিদ্যমান। বিসিবির পরিচালক আসিফ আকবর জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের অনুমোদন ছাড়া সাকিবের দলে ফেরার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয়। সরকারের অবস্থান পরিবর্তিত হলে বোর্ডকে বাধ্য হয়ে অপেক্ষা করতে হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিসিবি বর্তমান সময়ে ব্যর্থতা ঢাকতে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কূটনীতিতে সমন্বয় রাখতে সাকিবকে সামনে এনেছে। অনেক ক্রীড়া সাংবাদিক এটিকে ‘পাবলিসিটি স্টান্ট’ হিসেবে দেখছেন, কারণ দেশের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট ব্র্যান্ড ও সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়কে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—অবসরপ্রাপ্ত বা দীর্ঘদিন মাঠে অনুপস্থিত খেলোয়াড়কে কেন্দ্রীয় চুক্তি দেওয়াটা কতটুকু যৌক্তিক, এবং দলের জন্য তার প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা কতটুকু। বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন কৌতূহল ও উত্তেজনার সঙ্গে অপেক্ষা করছেন, শেষ পর্যন্ত সাকিব আল হাসানকে জাতীয় দলে দেখা যাবে কি না।

Leave a Comment