সাঈদ আজমলের বিস্ফোরক প্রশ্ন: কার ইশারায় চলছে আইসিসি?

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) কি কেবলই একটি নামমাত্র সংস্থা, যা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) ছায়াতলে পরিচালিত হচ্ছে? পাকিস্তানের সাবেক বিশ্বজয়ী স্পিনার সাঈদ আজমল ঠিক এই প্রশ্নটিই তুলে ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন। করাচিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি সরাসরি দাবি করেন, যদি আইসিসি বিসিসিআই-এর প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে না পারে, তবে এই সংস্থার টিকে থাকার কোনো সার্থকতা নেই। আজমলের মতে, ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা হিসেবে আইসিসি তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে, যা বিশ্ব ক্রিকেটের সামগ্রিক কাঠামোর জন্য এক অশনিসংকেত।

বিসিসিআই-এর আধিপত্য ও আইসিসির ‘নিধিরাম সরদার’ ভূমিকা

সাঈদ আজমলের মতে, বর্তমানে আইসিসি ভারতের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। তিনি ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, আইসিসি যদি নীতিগতভাবে শক্তিশালী না হয়, তবে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া উচিত। তাঁর ভাষায়, “আইসিসি এখন ভারতীয়দের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং তারা ভারতের অন্যায্য দাবিগুলোর সামনে অত্যন্ত অসহায়।” তিনি আরও দাবি করেন যে, বিশ্বের অধিকাংশ ক্রিকেট বোর্ড আইসিসির এই একপাক্ষিক আচরণের বিষয়ে একমত হলেও অর্থনৈতিক কারণে তারা মুখ খুলতে ভয় পায়।

ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং আইসিসির ভূমিকা নিচে সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:

ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটীয় সংঘাত ও আইসিসির অবস্থান

বিষয়ের ক্ষেত্রবিস্তারিত বিবরণ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
সাঈদ আজমলের ক্যারিয়ার২১২ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৪৫১টি উইকেটের মালিক।
দ্বিপক্ষীয় সিরিজ বন্ধ২০১৩ সালের পর রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে কোনো সিরিজ হয়নি।
আইসিসির বর্তমান নেতৃত্বজয় শাহ (আইসিসি চেয়ারম্যান এবং ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পুত্র)।
হাইব্রিড মডেলের বিতর্কভারতের আপত্তিতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ভারতীয় ম্যাচগুলো দুবাইয়ে স্থানান্তর।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬পাকিস্তান দল কেবল শ্রীলঙ্কার ভেন্যুগুলোতে তাদের ম্যাচ খেলবে।
ভারতের শেষ পাকিস্তান সফরসর্বশেষ ২০০৮ সালে এশিয়া কাপ খেলতে ভারত পাকিস্তান গিয়েছিল।

জয় শাহ ও আইসিসির ক্ষমতার ভারসাম্য

২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর আইসিসি চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন জয় শাহ। এর আগে তিনি বিসিসিআই-এর প্রভাবশালী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আজমলের দাবি, আইসিসির শীর্ষ পদে জয় শাহর আসীন হওয়া সংস্থাটির নিরপেক্ষতাকে আরও প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে গত বছর পাকিস্তানে আয়োজিত চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সময় ভারতের অনড় অবস্থানের কারণে টুর্নামেন্টের মূল সূচি পরিবর্তন করতে বাধ্য হওয়া আইসিসির ‘অসহায়ত্বের’ চরম বহিঃপ্রকাশ। এর ফলে অন্য দলগুলোকেও বাড়তি ভ্রমণের ধকল পোহাতে হয়েছে, যা কেবল ভারতের জেদের কারণেই ঘটেছে বলে আজমল মনে করেন।

পাল্টা অবস্থানে পাকিস্তান: শ্রীলঙ্কাই এখন গন্তব্য

দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের মাটিতে ভারত খেলতে না যাওয়ায় এবার পাকিস্তানও কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে হলেও পাকিস্তান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা ভারতের কোনো মাঠে পা রাখবে না। এর ফলে টুর্নামেন্টের সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে পাকিস্তানের সকল ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সাঈদ আজমল মনে করেন, ক্রিকেটের বিশ্বায়ন তখনই সফল হবে যখন প্রতিটি দেশ সমান মর্যাদা পাবে। তিনি বিসিসিআই-এর এই ‘মনোপলি’ বা একচেটিয়া প্রভাবকে ক্রিকেটের সৌন্দর্যের অন্তরায় হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, আইসিসি যদি সত্যিই একটি গ্লোবাল অর্গানাইজেশন হয়, তবে তাদের উচিত প্রতিটি সদস্য দেশের স্বার্থ সমানভাবে দেখা, কোনো বিশেষ দেশের আর্থিক শক্তির কাছে মাথা নত করা নয়।

Leave a Comment