আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দল ঘোষণা করে ক্রিকেটপ্রেমীদের বড় ধরনের চমক দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই। সাম্প্রতিক সময়ের ধারাবাহিক পারফরমার এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা শুবমান গিলকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ভারতীয় ক্রিকেট অঙ্গনে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা, বিশ্লেষণ ও বিতর্ক। অনেক সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষক যেখানে গিলকে ভারতের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের অন্যতম মুখ হিসেবে বিবেচনা করছিলেন, সেখানে এমন সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।
নির্বাচক সূত্রের ইঙ্গিত অনুযায়ী, এবারের দল গঠনে নাম বা অতীত সাফল্যের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট ভূমিকা এবং ম্যাচের পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রভাব রাখার ক্ষমতার ওপর। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের চাহিদা অনুযায়ী আক্রমণাত্মক ব্যাটিং, শেষ দিকে দ্রুত রান তোলার দক্ষতা এবং বহুমাত্রিক খেলোয়াড়দের দিকেই বেশি ঝুঁকেছেন নির্বাচকেরা। সেই কৌশলের অংশ হিসেবেই গিলের জায়গায় দলে ফিরেছেন বাঁহাতি উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ইশান কিষান। প্রায় দুই বছর পর জাতীয় টি-টোয়েন্টি দলে প্রত্যাবর্তন ঘটেছে এই আগ্রাসী ওপেনারের।
ইশান কিষান সর্বশেষ ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর গুয়াহাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় ফর্মহীনতার কারণে জাতীয় দলের বাইরে চলে যান তিনি। একসময় এমন অবস্থাও তৈরি হয়েছিল, যখন অনেকেই মনে করেছিলেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ইশানের অধ্যায় বুঝি শেষের পথে। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে সেই ধারণাকে পুরোপুরি ভুল প্রমাণ করেছেন ঝাড়খণ্ডের এই অধিনায়ক।
সদ্যসমাপ্ত সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে ব্যাট হাতে রীতিমতো ঝড় তোলেন ইশান। পুরো টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৫১৭ রান সংগ্রহ করেন তিনি, যেখানে ছিল দুটি সেঞ্চুরি ও দুটি ফিফটি। সবচেয়ে আলোচিত ইনিংসটি আসে ফাইনালে। হরিয়ানার বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচে ১০১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলকে ৬৯ রানের জয়ে নেতৃত্ব দেন তিনি। মাত্র ২০৬.১২ স্ট্রাইকরেটে খেলা ওই ইনিংসে ছিল ১০টি ছক্কা ও ৬টি চার। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটের পেছনে দুটি ক্যাচ নিয়ে ফাইনালের সেরার পুরস্কারও জেতেন তিনি। এই অনবদ্য পারফরম্যান্সই বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ফেরার পথ সুগম করে দেয় ইশানের জন্য।
ইশানের পাশাপাশি বিশ্বকাপ দলে ফিরেছেন আরেক বাঁহাতি ব্যাটার রিংকু সিং। সাম্প্রতিক দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে না থাকলেও আগের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং চাপের মুহূর্তে ম্যাচ শেষ করার দক্ষতার কারণে নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করেছেন তিনি। রিংকুকে জায়গা দিতে বাদ পড়েছেন জিতেশ শর্মা।
ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিতব্য এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন সূর্যকুমার যাদব। তার সহ-অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন অলরাউন্ডার অক্ষর প্যাটেল। দল গঠনে ভারসাম্য রক্ষাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে বিসিসিআই। পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দেবেন জাসপ্রীত বুমরাহ, তাকে সহায়তা করবেন হারষিত রানা ও আর্শদীপ সিং। স্পিন বিভাগে রয়েছেন কুলদীপ যাদব ও বরুণ চক্রবর্তী।
অলরাউন্ডার বিভাগেও শক্তিশালী সমন্বয় গড়েছে ভারত। হার্দিক পান্ডিয়া, শিবম দুবে, অক্ষর প্যাটেল ও ওয়াশিংটন সুন্দর—এই চারজনই ব্যাট ও বল দুই বিভাগেই দলের ভারসাম্য রক্ষা করবেন।
সব মিলিয়ে সহ-অধিনায়ক শুবমান গিলের বাদ পড়া, ইশান কিষান ও রিংকু সিংয়ের প্রত্যাবর্তন এবং কিছু সাহসী নির্বাচনী সিদ্ধান্ত ভারতের বিশ্বকাপ স্কোয়াডকে দিয়েছে নতুন মাত্রা। এখন দেখার বিষয়, এই চমকপ্রদ দল সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ঘরের মাঠে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে কতটা সফলভাবে নিজেদের প্রমাণ করতে পারে।