এল. বি. ডব্লিউ বা লেগ বিফোর উইকেট । ক্রিকেট খেলার আইন কানুন

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় এল. বি. ডব্লিউ বা লেগ বিফোর উইকেট।

এল. বি. ডব্লিউ বা লেগ বিফোর উইকেট

৩৯ নং নিম্নম

ব্যাটসম্যান এল. বি. ডব্লিউ. আউট হবে একমাত্র হাত ছাড়া তার দেহের যে কোন অংশ যদি উইকেটের সমান্তরাল থাকে অর্থাৎ উইকেটের বেল পর্যন্ত আড়াল করে থাকে এবং বলটি সেখানে লাগে কিন্তু বলটি প্রথমে ব্যাটে অথবা হাতে লাগার পর যদি পায়ে কিংবা উইকেট আড়াল-করা- দেহের কোন অংশে লাগে, তাহলে ব্যাটসম্যান আউট হবে না।

আম্পায়ারকে লক্ষ্য রাখতে হবে যে বলটি বোলারের দিককার উইকেট এবং ব্যাটস- ম্যানের দিককার উইকেটের সোজাসুজি পড়েছে কিনা, কিংবা স্ট্রাইকার ব্যাটসম্যানের অফের দিকে পড়েছে কিনা । যে বলে স্ট্রাইকার এল. বি. ডব্লিউ. আউট হবেন, আম্পায়ারকে নিশ্চিত হতে হৰে যে বলটি পায়ে কিংবা স্ট্রাইকারের শরীরের অন্য কোন অংশে না আঘাত করলে উইকেটে নিশ্চয়ই লাগতো ।

 

এল. বি. ডব্লিউ বা লেগ বিফোর উইকেট

 

দ্রষ্টব্য

(ক) “হাত” বলতে “ব্যাট ধরা অবস্থায় হাত” কেই বোঝায় ।

(খ) এল. বি. ডব্লিউ. আউট দেবার আগে আম্পায়ারকে নিম্নলিখিত চারটি বিষয়েই নিশ্চিত হতে হবে—

(১) পায়ে কিংবা শরীরের অন্য কোন অংশে না লাগলে বলটি উইকেটে নিশ্চিত আঘাত করতো; অর্থাৎ বলটি উইকেট ভেঙে দিতে সমর্থ ছিল কিনা ;

 

এল. বি. ডব্লিউ বা লেগ বিফোর উইকেট

 

(২) বলটি দুই উইকেটের সোজাসুজি কিনা অথবা বলটি স্ট্রাইকার ব্যাটসম্যানের অফের দিকে পড়েছে কিনা ;

(৩) হাত ছাড়া শরীরের অন্য কোন অংশে প্রথম আঘাত করেছে কিনা;

(৪) শরীরের যে অংশে বলটি আঘাত করেছে, সেই অংশটি বল লাগার মুহূর্তে দু’দিকের উইকেটের সোজাসুজি অর্থাৎ সমান্তরাল ভাবে ছিলো কিনা, উচ্চতা যাই হোক না কেন ।

অতিরিক্ত মতামত

(ক) যে বল লেগ স্টাম্পের বাইরে পড়ে, সে বলে এল. বি. ডব্লিউ. আউট হবে না । অফ এবং লেগ দু’দিকেরই স্টাম্পের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বল আর স্টাম্পের উপর দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বলে এল. বি. ডব্লিউ. – .-এর কোন প্রশ্ন উঠে না ।

(খ) কোন রকম সন্দেহের কারণ ঘটলে আম্পায়ার সাধারণত : ব্যাটসম্যানের পক্ষে রায় দিয়ে থাকেন, অর্থাৎ আউট দেবেন না ।

(গ) রাউণ্ড দি উইকেট বোলিং-এ বোলার এল. বি. ডব্লিউ. – এর আবেদন করে সাফল্য লাভ করতে পারে না এ ধারণা ভুল।

(ঘ) প্রথমে ব্যাটে লেগে থাকলে স্ট্রাইকার ব্যাটসম্যান কোন মতেই এল. বি. ডব্লিউ. আউট হতে পারেন না ।

(ঙ) এগিয়ে খেলতে গিয়ে যখন পায়ে বল লাগায় এল. বি. ডব্লিউ-এর আবেদন হয়, তখন রায় দিতে আম্পায়ারকে খুব সতর্ক হতে হবে। বলটি উইকেটে লাগতো কিনা, সেটাই সবার আগে বিবেচনা করবেন আম্পায়ার।
আজকাল হাণ্ডেল দি বলের মতো অবস্ট্রাকটিং দি ফিল্ড অর্থাৎ অসুবিধা সৃষ্টির জন্মের আউট খুব কমই দেখা যায়। ধরতে গেলে হয়ই না। বর্তমানের স্পোর্টিং ক্রিকেট খেলার যুগে এই ধরনের আউট দেখতে পাওয়াই অস্বাভাবিক ।

প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অঙ্গবিধা সৃষ্টির জন্মে আউটের একটি ঘটনার কথাই জানা যায় । ১৯৫১ সালে ওভাল মঠে ইংলণ্ডের সঙ্গে সাউথ আফ্রিকার এম টেস্ট খেলার ঘটনাটি ঘটে। ইংলণ্ডের লেন হাটনের ব্যাটে লেগে বলটা ওপরে উঠে গেলো, ঠিক উইকেটের ওপরেই। পড়তে দিলে বলটা পড়বে উইকেটের ওপর।

 

তাই হাটন তাঁর উইকেট বাঁচাতে গেলেন। এদিকে সাউথ আফ্রিকার উইকেট-কিপার এনডেন বলটা লুফতে চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু লেন হাটন তার উইকেট বাঁচাতে গিয়ে এনডেনের ক্যাচ ধরার অসুবিধা সৃষ্টি করলেন। এনডেন ক্যাচ ধরতে পারলেন না। ফলে সাউথ আফ্রিকার খেলোয়াড়রা অসুবিধা সৃষ্টির জন্য আউটের আবেদন জানালেন। আম্পায়ারও ঐ নিয়ম অনুসারে হাটনকে আউট দিয়ে দিলেন ।

ক্রিকেট খেলার বয়স বাড়ার সঙ্গে, আর ছোটোখাটো নিয়মগুলির সঙ্গেই, ‘অসুবিধা সৃষ্টির জন্ম আউট’ নিয়মটির জন্ম। তবে বড় বড় ক্রিকেট খেলায় এই ধরনের আউট হতে দেখা খুব কম লোকেরই ভাগ্যে ঘটে বা ঘটেছে। সত্যি কথা বলতে কি এ ধরনের আউট আজকাল দেখাই যায় না ।

Leave a Comment