রেকর্ড ভাঙলেও স্টার্কের শ্রদ্ধা অটুট: বাঁহাতি পেসারদের সেরা এখনো ওয়াসিম আকরাম—বলছেন স্টার্ক

ব্রিসবেন টেস্টের প্রথম দিনেই ঘটেছে ইতিহাস। শতাব্দীর সেরা বাঁহাতি পেসারদের আলোচনায় যাঁর নাম প্রথমেই আসে, সেই পাকিস্তানের কিংবদন্তি বোলার ওয়াসিম আকরামকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেটশিকারি বাঁহাতি পেসার এখন মিচেল স্টার্ক। আকরামের ৪১৪ উইকেটকে অতিক্রম করে স্টার্কের উইকেটসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১৮–তে। তবে রেকর্ড ভাঙলেও নিজের অবস্থান কোথায়—তা নিয়ে স্টার্কের আত্মবিশ্লেষণ ব্যাপক বিনয়ী।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্ন—এখন কি স্টার্ক নিজেকে ‘গ্রেটেস্ট লেফট–আর্ম পেসার’ মনে করেন? স্টার্ক স্পষ্টভাবে উত্তর দিয়েছেন,
“না, আমি নিজেকে সর্বকালের সেরা ভাবি না। ওয়াসিম এখনো আমার চেয়ে অনেক এগিয়ে। বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে তিনি আমার কাছে এখনো প্রথম।”

স্টার্কের সেই বক্তব্য শুধু বিনয় নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। ক্রিকেট ইতিহাসে বাঁহাতি পেসারদের এক স্বর্ণসময়ে রাখা হয় আকরামকে—যেখানে তাঁর সুইং, রিভার্স সুইং, গতি, নিয়ন্ত্রণ ও ক্রিকেট-বুদ্ধিমত্তা তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

স্টার্কের উত্থান: আধুনিক ক্রিকেটের ভয়ঙ্কর অস্ত্র

৩৫ বছর বয়সী স্টার্ক এই অ্যাশেজেই যেন নিজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বসন্ত খুঁজে পেয়েছেন। সিরিজে এখন পর্যন্ত তাঁর উইকেট ১৬টি, গড় মাত্র ১১.৫০—যা আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটে অবিশ্বাস্য। চলতি বছর তাঁর বোলিং-গড় নেমে ১৫.২০–তে, যা তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা পরিসংখ্যান।

এই ব্রিসবেন টেস্টের প্রথম ইনিংসেই নিয়েছেন ৬ উইকেট, যা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা স্পেল হিসেবে ধরা হচ্ছে। তাঁর বোলিং–দপ্তরে এখনো আছে মারাত্মক ইনসুইং ইয়র্কার, আউটসুইং, শর্ট বলে ভীতির সঞ্চার এবং লেংথের ব্যতিক্রমী পরিবর্তন।

ওয়াসিম আকরামের প্রতিক্রিয়া: কিংবদন্তির শ্রদ্ধা কিংবদন্তিকে

যার রেকর্ড ভেঙেছে স্টার্ক, সেই আকরাম নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্টার্ককে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁর বার্তাটি ছিল আবেগঘন ও উদারতাপূর্ণ—

“সুপার স্টার্ক! তোমার জন্য গর্ব হচ্ছে। আমার রেকর্ড তুমি ভাঙবে, সেটা সময়ের ব্যাপারই ছিল। আমি আনন্দের সঙ্গে এই রেকর্ড তোমাকে তুলে দিলাম। আরও সাফল্য আসুক।”

এই কথাগুলো শুধু অভিনন্দন নয়—ক্রিকেটের এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে সম্মান হস্তান্তরের উদাহরণ।

বিশ্লেষণ: দু’জনের তুলনা কি সত্যিই সম্ভব?

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন—

  • আকরাম খেলেছেন এমন সময়, যখন ব্যাটারদের রক্ষা করার মতো প্রযুক্তি ছিল না।

  • পিচ ছিল কঠিন।

  • রিভার্স সুইং ছিল একধরনের শিল্প, যা আকরামই অকুণ্ঠভাবে শিখিয়েছেন বিশ্বকে।

অন্যদিকে স্টার্কের শক্তি

  • আধুনিক প্রযুক্তি, ফিটনেস, ডেটা–বিশ্লেষণ

  • উচ্চতা, গতি, এবং বলের আরও স্কিড

তবে দুজনের মধ্যকার ব্যাকগ্রাউন্ড আলাদা হলেও স্টার্ককে আজ বিশ্বের অন্যতম ধ্বংসাত্মক পেসার মানতেই হয়।

Leave a Comment