বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম প্রতিভাবান বোলার মোস্তাফিজুর রহমানকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি এখন কেবল মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা রূপ নিয়েছে এক বিশাল কূটনৈতিক ও আর্থিক সংকটে। ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে বিসিসিআই কর্তৃক মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মেরুকরণ তীব্রতর হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আইসিসির সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা সামি উল হাসান বার্নি বিসিসিআইয়ের এই পদক্ষেপকে ‘চরম অদূরদর্শিতা’ বলে অভিহিত করেছেন।
বিসিসিআইয়ের অদূরদর্শিতা ও বার্নির পর্যবেক্ষণ
আইসিসির সাবেক হেড অব কমিউনিকেশন সামি উল হাসান বার্নি পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমালোচনা করে বলেন, পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে বিসিসিআই পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে পারেনি। তার মতে, মোস্তাফিজকে যদি নিরাপত্তাজনিত কারণে সরাতেই হতো, তবে তা অত্যন্ত সংগোপনে বা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন করা যেত।
বার্নি উল্লেখ করেন যে, ৩ জানুয়ারির প্রকাশ্য ঘোষণাটি ছিল আগুনের শিখায় ঘি ঢালার মতো। তিনি বলেন, “দায়িত্বশীলরা যদি আরেকটু সতর্ক হতেন এবং প্রকাশ্য বিবৃতি এড়িয়ে চলতেন, তবে আজকের এই বৈশ্বিক বয়কটের পরিস্থিতি তৈরি হতো না। কখনো কখনো ভুল বিচার এবং অপ্রয়োজনীয় বিবৃতি এমন প্রভাব ফেলে যা পুরো ক্রিকেট ক্যালেন্ডারকে লণ্ডভণ্ড করে দেয়।”
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও বিশ্বকাপের সংকট
মোস্তাফিজ ইস্যুতে বাংলাদেশের অনড় অবস্থান এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারত সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বাংলাদেশের এই প্রতিবাদী অবস্থানকে সংহতি জানিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। এমনকি ভারতের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ শশি থারুরও বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন।
এই ত্রিমুখী সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এখন বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে দাঁড়িয়েছে। ভারত-পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের দর্শক উপস্থিতি ও বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা ছাড়া বিশ্বকাপের আয়োজন আইসিসির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে আনবে।
মোস্তাফিজ ইস্যু ও বর্তমান সংকটের সারসংক্ষেপ
| বিষয়ের ধরণ | বর্তমান অবস্থা ও প্রভাব |
| মূল কারণ | উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া। |
| বাংলাদেশের অবস্থান | প্রতিবাদস্বরূপ ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত। |
| পাকিস্তানের সংহতি | বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা। |
| আইসিসির সম্ভাব্য ক্ষতি | আনুমানিক ৬ হাজার কোটি টাকা (৬০০০ কোটি টাকা)। |
| বিশেষজ্ঞ মতামত | বিসিসিআইয়ের প্রকাশ্যে বিবৃতি দেওয়া ছিল একটি প্রশাসনিক ভুল। |
আর্থিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা
ক্রিকেট বিশ্বের বড় একটি বাজার বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। এই দুই দেশ যদি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায় বা নির্দিষ্ট ম্যাচ বয়কট করে, তবে সম্প্রচার স্বত্ব, টিকিট বিক্রি এবং স্পন্সরশিপ থেকে বড় ধরণের রাজস্ব হারাবে আইসিসি। বিশ্লেষকদের মতে, ক্রিকেটের মতো একটি খেলায় যেখানে সম্প্রীতি হওয়ার কথা ছিল মূল ভিত্তি, সেখানে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক চাপের কাছে নতি স্বীকার করা ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি অশনি সংকেত। বিসিসিআইয়ের একটি হঠকারী সিদ্ধান্ত এখন পুরো বিশ্বকাপ আয়োজনকেই প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
![মোস্তাফিজ ইস্যুতে বিসিসিআইয়ের অদূরদর্শিতা ও ক্রিকেট বিশ্বে অস্থিরতা 1 মোস্তাফিজ ইস্যুতে বিসিসিআইয়ের অদূরদর্শিতা ও ক্রিকেট বিশ্বে অস্থিরতা Cricket Gurukul [ ক্রিকেট গুরুকুল ] GOLN](https://cricketgoln.com/wp-content/uploads/2026/02/মোস্তাফিজ-ইস্যুতে-বিসিসিআইয়ের-অদূরদর্শিতা-ও-ক্রিকেট-বিশ্বে-অস্থিরতা.jpg)