মিরপুরে ফাঁকা প্রেস বক্সে বয়কট ক্রীড়া সাংবাদিকদের

ঢাকার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত অদম্য টি-টোয়েন্টি কাপ ফাইনাল ম্যাচে ক্রীড়া সাংবাদিকরা মাঠে প্রবেশ করেননি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কর্তৃক সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ছবি এবং তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার প্রতিবাদে এই বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিন, ৬ ফেব্রুয়ারি। ডেইলি সান পত্রিকার ফটোসাংবাদিক তানভীন তামিম বিসিবির প্রেসিডেন্ট বক্সে থাকা তিন পরিচালক—ফারুক আহমেদ, খালেদ মাসুদ পাইলট ও এম নাজমুল—এর ছবি তোলেন। ছবিতে পরিচালকদের অঙ্গভঙ্গি এবং প্রকাশিত ক্যাপশন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৎক্ষণাৎ নানা মন্তব্য ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে নাজমুলের সঙ্গে ফারুক এবং পাইলটের ‘মৃদু দ্বন্দ্ব’ হিসেবে তা ব্যাখ্যা করা হয়।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত সময়রেখা:

তারিখঘটনা
৬ ফেব্রুয়ারিতানভীন তামিম প্রেসিডেন্ট বক্সে ছবি তোলেন।
৭ ফেব্রুয়ারিবিসিবি ডেইলি সানের ফটোসাংবাদিককে অ্যাক্রিডিটেশন বাতিলের হুমকি দেয়।
৯ ফেব্রুয়ারিফাইনাল ম্যাচের আগে ক্রীড়া সাংবাদিকরা প্রতিবাদ সভা করে।

ছবিটি প্রকাশের পর বিসিবি তা গ্রহণ করেনি। পরের দিন অর্থাৎ ৭ ফেব্রুয়ারি, ফটোসাংবাদিক তানভীনের কাছে একটি ই-মেইলের মাধ্যমে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়, যেখানে তাকে আরও ছবি তোলার বিষয়ে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই পদক্ষেপকে সাংবাদিকরা ‘মুক্ত সাংবাদিকতা নিবারণ’ হিসেবে দেখেছেন।

ফাইনাল ম্যাচের আগে, ৯ ফেব্রুয়ারি, সাংবাদিকরা সংক্ষিপ্ত সভা করে প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত নেন। ম্যাচ শুরুর আগে প্রেস বক্সের ছাদে তাঁরা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। ব্যানারে লেখা ছিল, “সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়। আমরা ক্রীড়া সাংবাদিক, আমাদের চুপ করানোর চেষ্টা করবেন না।” এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি জোরালো সঙ্কল্প প্রকাশ করেন।

সাংবাদিকদের এই বয়কটের কারণে ফাইনাল ম্যাচের প্রেস বক্স ফাঁকা ছিল। ক্রীড়া বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ক্রীড়া সাংবাদিকতার স্বাধীনতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে বিসিবি এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

বয়কট নিয়ে সমাজের নানা স্তরেই আলোচনার জন্মেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ক্রীড়া সাংবাদিকতার স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ভবিষ্যতে স্পষ্ট নীতি প্রণয়ন করা প্রয়োজন। সাংবাদিকদের দাবি, “মাঠে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং স্বাধীন কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা উচিত।”

এই বয়কট ক্রীড়া সম্প্রদায় ও মিডিয়া কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি নতুন সংলাপের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী দিনে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটতে ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের আচরণ ও নীতি পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

Leave a Comment